somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জিএম হারুন -অর -রশিদ
আমার কারো কাছে নেই কোন অভিমানের দেনাপাওনা, নেই কোন কষ্টের হিসাব, তবুও লুকিয়ে থাকা হাহাকার পরম যতনে আগলে রাখি-- প্রথম পাওয়া চিঠির মত, আমি এই রকমই বন্ধু ।

পিতৃঋণ -১৩

০৮ ই নভেম্বর, ২০২০ দুপুর ২:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রতি সপ্তাহে একবার করে মায়ের কাছে যাই,
যেতে সময় লাগে মাত্র আধ ঘন্টা থেকে এক ঘন্টা;
মাঝে মাঝে আমার সাথে আমার স্ত্রী আর সন্তানরাও থাকে।
বাবার রেখে যাওয়া ডেমরার সেই পুরাতন বাড়িতে‌ই মা থাকেন।
মা তার সন্তানদের কারো বাড়ি গিয়ে দু’একদিনের বেশি থাকতেই পারেন না,
অস্থির হয়ে ছটফট করেন
নিজের বাড়িতে ফেরার জন্য।
অথচ ডেমরার এই বাড়িতে আমাদের কোন ভাই বোন থাকেনা,
থাকেন একজন কাজের মহিলা, একজন দাড়োয়ান
আর আছে কিছু ভাড়াটিয়া।
বাবা মারা গেছেন প্রায় ষোল বছর হবে,
বাড়িটি সেই অবস্হায়ই আছে
যেভাবে বাবা রেখে গেছেন।
শুধু কয়েক বছর পর পর পুরো বাড়িতেই রং করা হয়,
শুধু একটি ঘরের কিছুই বদলানো হয়নি কখনো;
মা তার ঘরের কিছুই পরিবর্তন করতে দেয়নি কখনো।
এমনকি এই ঘরের নতুন রং করার কথা বললে মা চুপ করে থাকেন।
রং না করতে করতে ঘরটি কেমন ফ্যাকাশে হয়ে গেছে অনেক আগেই,
বাতির আলোতেও কেমন মন মরা মন মরা মনে হয় ঘরটির দেওয়াল।
সেদিন হঠাৎ ভুল করে ঘরটিতে নতুন রংয়ের কথা বলতে‌ই
মা এ‌ই প্রথমবার বললেন,
-এই ঘরে তোর বাবার শরীরের গন্ধ এখনো ভেসে বেড়ায়,
ঘরে নতুন রং করলে যদি আর না পাই সেই গন্ধ?
আমি অনেকক্ষণ চুপ করে বসে ছিলাম
মায়ের পাশে,
তারপর হঠাৎ করেই আমার নাকেও ভেসে এলো ষোল বছর আগে হারিয়ে যাওয়া সেই শরীরের গন্ধ
-আমার জীবিত বাবার শরীরের গন্ধ।
আমি এখন সপ্তাহে প্রায় প্রতিদিনই অফিস শেষে ডেমরার এই বাড়িতে যাই,
চুপচাপ বসে থাকি মায়ের ঘরে
একসময় নাকে যখন বাবার শরীরের গন্ধ পাই
বুকের ভিতরের ষোল বছর ধরে গোপনে পালা
সেই পরিচিত হাহাকারটা একটু একটু করে কমতে থাকে।
তারপর অনেক রাত করে ফিরে আসি নিজের সংসারে।
ডেমরার বাড়িতে এখন আমাকে দেখলেই মা বলেন,
বাবা তুই এ‌ই ঘরের রংটা করে দে,
কেমন ফ্যাকাশে হয়ে গেছে ঘরের দেওয়াল।
আমি শুধু ফ্যালফ্যাল করে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলি,
-এই ঘর এভাবেই থাকবে আমি যতদিন বেঁচে থাকবো।
আমি এখন আর এই শহর ছেড়ে বাইরে কোথায় দু’একদিনের বেশি থাকতেই পারিনা।
মায়ের মতো ডেমরার বাড়িতে ফিরতে
অস্থির হয়ে প্রচন্ড ছটফট করি আমার বুকের ভিতর।
——————————————-
র শি দ হা রু ন
০৭/১১/২০২০
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০২০ দুপুর ২:২০
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×