একটা ফোন আসছে,
আমিঃ আসসালামুআলাইকুম
ফ্রেন্ডঃ বন্ধু কই তুমি?
আমিঃ কে নাম বলেন, মোবাইলে ডিসপ্লে নাই
ফ্রেন্ডঃ হায় রে, আমি (.........) কি করো বন্ধু?
আমিঃ কলা খাইতেছি আর কটন বার দিয়া কান চুলকাইতাছি, চুলকাবা?
ফ্রেন্ডঃ ফাইজলামি কইরো না প্লিজ, একটু ''নাওয়ারির মোড়ে'' আসবা?
আমিঃ ওকে তুমি ''কবির মাম্মা'' রে কউ দুধ চিনি খাড়া কইরা হাল্কার উপর লিকার দিয়া কড়া কইরা চা বানাইতে, আমি আইতাছি। এই বলে ফোন কাইটা দিলাম।
আগেই বলে রাখি, আমার এই ফ্রেন্ড এর বাড়ি ''উত্তরবঙ্গে'' এবং ছেলেটি অতিমাত্রায় সহজ সরল। কোন একটা কারণে বেশ কিছুদিন আগ থেকে ওর উপর আমার একটা ''খাঁড়'' ছিল। হিসাব বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুণতেছিলাম।
তো ''নাওয়ারির মোড়ে'' গেলাম। যেয়ে দেখি ও সহ মোট ৪ জন মানুষ। পরিচিত হওয়ার পর বুঝলাম ওর সাথে বাকি ৩ জনের কোন ব্যাপার নিয়ে সমস্যা হয়েছে। বাকি ৩ জন এক পক্ষ আর ও একা। আর বাকি ৩ জনের মাধ্যমে ২ জন আবার আমার মুখচেনা পরিচিত। তো ঐ ব্যাপার নিয়ে কথা হচ্ছিলো আর ছোট খাটো মনোমালিন্য চলছিলো। আর তখন হঠাৎ করে ঐ ফ্রেন্ড আমার হাত ধরে বলল বন্ধু এখন কি করি বল???
ওর ঐ কথা শুনে আমি আগের সব রাগ ভুলে গেছি, আর চিন্তা করতেছিলাম ''যে মানুষের প্রতি আমার এতো রাগ আর সে মানুষ টাই আমার সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে''। অতীতের সব ভুলে গেলাম। অবশেষে ঐ ২ টা মুখচেনা ভাই দের কারণে একটা সিদ্ধান্ত হল এবং তখন জানতে পারলাম ও নাকি আমার জন্য উনাদের কে এখানে নিয়ে এসেছেন। অবশেষে উনারা যাওয়ার পর ও জাস্ট আমাকে ''থ্যাংক ইউ থ্যাংক ইউ'' বলতে বলতে ও ইমোশনাল হয়ে গেলো। ওর ইমোশনাল এর কারণ হচ্ছে অতিমাত্রার সরলতা আর সহজবোধ্যতা নয় কোন পিছুটান।
মোরাল অফ দ্যা কাহিনীঃ যে মানুষ আমাদের অনেক বেশি বিশ্বাস করে তাদের চোখের দিকে তাকিয়ে কেন জানি আমরা কিছু করতে চাইলেও করতে পারি না। তাই মানুষ কে বিশ্বাস করার মাধ্যমে অনেক লাভ আছে। অন্তত সে যদি বুঝতে পারে আপনি তাকে অনেক বিশ্বাস করেন তাহলে সে আপনার সাথে কখনোই প্রতারণা করবে না, যদি সে মানুষ হয়ে থাকে !!!
-----গোলাম রাব্বানী
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জুলাই, ২০১৫ রাত ৩:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



