আগেই বলেছি, আমি মরেছি হুমায়ূন আজাদের কারণে। সকালবেলায় অফিসে গিয়ে ডায়রিতে বড় করে মানুষের সঙ্গ ছাড়া কোন্ কোন্ প্রাণীর সঙ্গ ভালো লাগে সেগুলোর লিস্ট করে শান্তি পেলাম। দুপুরে ক্যান্টিনে কোনো মানুষের সঙ্গ নিয়ে আহার করিনি। বেশ চমৎকার লেগেছিলো সেটি। বিকেলে অফিসের গাড়িতে শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডে নামার পরই ওষুধের দোকান থেকে ডিজোপ্যান, রিভোটভিল, ডরমিকাম, ড্যানক্সিট কিনলাম ১০টি করে। পরিচিত দোকানির চোখে অপরিচিত বিস্ময়বোধক ও পরিচিত প্রশ্নবোধক চাহনি দেখে হুমায়ূন আজাদেরই কবিতার লাইন খুঁজছিলাম মনে মনে। হঠাৎ করে বলেই ফেললাম, 'ভাই, আপনার সঙ্গ আমার খুব ভালো লাগে।' আমি জানতাম, জনাব আজাদের নাম নিলে কোন সমস্যা হবে না, হলোও না। ৪০টি ওষুধ নিয়ে লইটক্যা মাছের শুটকি কিনে বাসায় গিয়ে রান্না করে ভাত খেয়ে ওষুধগুলো গিলে বিছানায় যখন শুলাম, কারেন্ট চলে গেলো। মনে হলো, বা! অন্ধকারময় জগতে হুমায়ূন আজাদের সঙ্গে আত্মিক যোগাযোগ কত সহজ!
ওষুধের ফল যে কত তীব্র তা তো বুঝতেই পারছেন আপনারা। এই প্লুটো গ্রহে কাউকে খুঁজে না পেয়ে যখন ভাবছিলাম পৃথিবীতে কী হচ্ছে তা দেখা যায় কিনা একটু চেষ্টা করি, সেই মুহূর্তে একটি বড় চোঙা, তার ওপর লেন্স বসানো দূরবীন হাজির। আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি, বিষয়টি মোটেই কাকতালীয় নয়। যাদেরকে নরক কিংবা বেহেশতের কোথায় নেয়া হবে, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না, তাদেরকে কিছুক্ষণের জন্য পৃথিবীর রূপসুধা উপভোগের সুযোগ দেয়া হয় এই দূরবীনের মাধ্যমে। গুগল আর্থে আপনি যেভাবে কম্পিউটারেই আপনার বাসার ছাদ দেখতে পারেন, তার চেয়েও স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি সবকিছু। আওয়ামী লীগ বঙ্গভবনের সামনে অবরোধ করছে, মান্নান ভূঁইয়া নয়াপল্টনে ভাষণ দিচ্ছেন, সিপিবি লাল পতাকা তৈরি করছে, নির্বাচন কমিশন... একটু অতীতকালের দৃশ্য মনে হচ্ছে!
আমি একটু আগেই বলেছি ওষুধের ফল কত যে তীব্র! তা না হলে যে কথাটি বলতে চাই সেটি না বলেই এই পর্যন্ত চলে এলাম। আমি আসলে বলতে চাচ্ছি, এই দূরবীন দিয়ে আমি দেখার চেষ্টা করছি আমার মৃত্যুর পর কে কী ভাবছে আমাকে নিয়ে। 'আমি জানতে চাই আমার মৃত্যুর পর কী হবে?' ভালো কথা, পৃথিবীর কম্পিউটার বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি একটি সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার তৈরি করেছেন যেটি মানুষের চিন্তাকে কম্পিউটারের পর্দায় সরাসরি তুলে দিতে পারে। এখানেও তেমন একটি যন্ত্র দেখতে পাচ্ছি। আমি যাকে ঘিরে দূরবীন ফোকাস করবো, সে বা তিনি আমাকে নিয়ে কী ভাবছেন, তা পরিষ্কার লেখা ভাসবে এই যন্ত্রে। কে যেনো মাথার মধ্যে বলে দিচ্ছে, পৃথিবীবাসী যেদিন প্লুটো গ্রহকে পরিত্যাগ করেছে, সেদিনই প্লুটোবাসী যন্ত্রটি গড অলমাইটিকে উপহার দিয়েছে। গুড গড! ... (চলবে)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



