"জন্মেছিস যখন পৃথিবীর বুকে একটা আঁচড় রেখে যাইস"
"স্যার আঁচড়টা কি বিড়ালের আঁচড়ের মতো হবে? বিড়াল যে রকম খামচে খামচে মাটিতে আঁচড় কাটে?"
"আ রে গর্দভ না, এই আঁচড় সেই আচড় নয়।"
"তো?"
"এই আঁচড় হইতাছে, ভালো কর্মের আঁচড়। পারলে রেখে যাইস একটা আঁচড় এই পৃথিবীর বুকে।".....
.........শহর থেকে অনেক দূরে.... কোনো এক অজপাড়াগাঁয় আজকের এই দিনে আমার জন্ম হয়েছিল। ঘরের তালের আড়ায় সাদা চক দিয়ে আমার দাদিজান খুব যতনে লিখে রেখেছিলেন- ১৬ ই জানুয়ারি ১৯৮২ ফজরের আযানের খানিক পূর্বে হাবিবুর রহমান এর জন্ম।.....
....অভাবের সংসার ছিল আমাদের। দারুণ অভাবের সংসার। তার উপর চৈত্রের খড়া ও দাবদাহে জমিনের সমস্ত ফসল পুড়ে ছাড়খার হয়ে গিয়েছিল সে বছর। অনেকে আমার জন্মকেই দোষারোপ করেছিলেন। গ্রাম আর সমাজের ভাষায় এক "অপয়া" হয়ে জন্মেছিলাম আমি।
...... মায়ের বুকের পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছিলাম না বলে- অল্প পয়সায় দৈনিক আধা পোয়া ছাগলের দুধ রোজ করা হয়েছিল আমর জন্য। আমি না-কি খুব তৃপ্তিসহকারে ছাগলের দুধ পান করাতাম। এ গল্প আমার দাদি জানের মুখে শোনা।
ছয় মাস পর আব্বা শহর থেকে আমাকে দেখতে গেলেন। ছয় মাসের রোগাটে ছেলেটিকে নিয়ে তার সে কি উল্লাস। আমাকে কোলে নিয়ে সারা বাড়িময় ঘুরে বেড়ালেন। কিছু জিলেপিও বিতরণ করলেন গ্রামের মসজিদে।.......
........ দেখতে দেখতে সময় চলে গেল। কতগুলো বছর....কতগুলো বছর চলে গেল জীবন থেকে....টেরই পেলাম না।
.....আজকে আপনারা যারা আমাকে ইনবক্স ও মোবাইল মেসেজের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, আমি চির কৃতজ্ঞ আপনাদের কাছে। আপনাদের সকলকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।.... সারাদিন কর্মব্যস্ত থাকার দরুণ আপনাদের ধন্যবাদটুকু জানাতে দেরি হয়ে গেল অনেক- ক্ষমা করে দিবেন। আর দোয়া করবেন আমার জন্য যেন-
"পৃথিবীর বুকে একটি আঁচড় রেখে যেতে পারি আমি। অন্তত একটি আঁচড়"........

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

