...আজকে একটি বিয়ের দাওয়াত ছিল কি এক কমিউনিটি সেন্টারে- যাই নি ভালো লাগে নি। অথচ একসময় কারও বিয়ের দাওয়াত পেলে ঘুম হতো না তিন দিন আগ থেকে। বিয়ে মানেই, ভালো-মন্দ খাবারের গোপন একটা লোভ জাগতো মনে মনে । বিয়ে মানেই দুই টাকার রঙ কিনে এক বালতি পানিতে ঢেলে- রঙা রঙির খেলা।
তবে দু:খ হতো খুব, যখন দিন শেষে দেখতাম, ভালো খাবারের বদলে, দুই টুকরা মাংসের বদলে... শুধু ডাল আর হাড়ের মিশ্রণটুকুই জুটতো কপালে। খেতে খেতে পাতের মধ্যে চোখের জল ফেলতাম।
পাশের জন জি্জ্ঞেস করত, " কি ব্যাপার কানতাছস ক্যান?"
জোখ মুছে বলতাম- "আরে নাহ। কানমু ক্যান? তরকারিডা ঝাল হইছে খুউব।'
দুয়েকজন ভালো মানুষ পাশে বসলে, পাত থেকে দু একটা টুকরা তুলে দিয়ে বলতেন, "নে ব্যাটা খা। তোর পাতে তো একদম গোস্ত নাই।" আমার চোখে মুখে হাসি ফুটে উঠতো।...
...তবুও তখনকার বিয়েগুলোতে আনন্দ ছিল খুব....। রাতে জামাইকে নিয়ে কতো ধরণের খেলা হতো। বিভিন্ন শ্লোক ধরা হতে। শ্লোক ভাঙাইতে না পারলে টাকা দিতে হতো জামাইকে।
বেহারা পালকি নিয়ে ঘরে ঘরে যেয়ে "আমার আল্লা রসূলের নাম" বলে হাক দিয়ে চাঁদা তুলতেন।
কলা গাছের গেটেও একটা সৌন্দর্য ছিল। প্রাণ ছিল। আনন্দ ছিল সীমাহীন।... নতুন টেবিল ক্লথে ঢেকে একটা টেবিল সাজিয়ে রাখা হতো গেটের সামনে। পানি ভর্তি বোতলের ভেতর পাতাবাহারের ডাল ঢুকিয়ে সাজিয়ে রাখা হতো টেবিলের উপর।
বর পক্ষের লোকেরা একশ এক টাকা থেকে শুরু করে দর কষাকষি করতে করতে পাঁচশ একটাকা অবদি উঠে যেতেন কখনও কখনও।....সেই টাকা পেয়ে কি যে আনন্দ ছড়িয়ে পড়তো সবার মাঝে।...
আহ! আমার বিয়েতে গেটে পঞ্চাশ হাজারের একটা নতুন বান্ডেল দেবার পরও সেই আনন্দ দেখিনি আমি কারও চোখে। খানিকটা অবাক হয়েছিলাম বটে।..... বিয়ে-শাদিও আজকাল কেমন পাথুরে চোখের মতো হয়ে গেছে যেন। যেই চোখের বাহ্যিক সৌন্দর্য আছে বটে, কিন্তু প্রাণের অস্তিত্ব নেই কোনও ......

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

