somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বৃহত্তর যশোরের ঝিনাইদহ জেলায় এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহি বটবৃক্ষ

১১ ই আগস্ট, ২০১০ দুপুর ১:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এশিয়া মহাদেশের সর্ব্বেবৃহৎ বটগাছ বৃহত্তর যশোরের ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ থানার সুইতলা মল্লিকপুর গ্রামে। ঝিনাইদহ শহর থেকে দক্ষিণে সুইতলা মল্লিকপুর গ্রাম ১৮ মাইল পথ। মল্লিকপুর বাজারের
সম্মুখে দাঁড়িয়ে আছে বুড়ো বট। থানা পরিষদের কাঁচা পাকা সাপের মত সড়ক বটগাছের কোলে এসে থেমেছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় সবুজ পাহাড়। গাছের শাখা প্রশাখা কোথাও মাটির সাথে মিশেছে। পুরো গাছটি দৃষ্টির মধ্যে আনা সম্ভব নয়। গ্রামবাসীর মতে গাছটি ৩০ বিঘা জমি দখল করে আছে। ১৩শ ঝুরি বটের সাম্রাজ্য প্রশস্খ করেছে। এর দীর্ঘ ৯৬ ফুট। বয়স আড়াইশো তিনশো বছর। এ গাছ নিয়ে অনেক কিংবদন্তী আছে। এলাকাবাসীর কাছে জানা গেল, এখানে আগে কুমারদের বসতি ছিল। কুমার পরিবারের একটি কুয়ার মধ্যে আজকের বিশাল বটগাছটির জন্ম। এখন গাছের নিচে কোন বসতি নেই। সাত গ্রামের লোক বট গাছটিকে মানে। ফি বছর এ গাছের নিচে কালীপুজা অনুষ্ঠিত হয়। হিন্দু ধর্মের লোকরা এখানে প্রার্থনা করে। মনের আশা পূরণের জন্যে অনেকে গাছের শাখা জড়িয়ে ধরে কাঁদে। সবাই বুড়ো বটকে সম্মান করে। কেউ গাছের কোন ক্ষতি করে না। গ্রামবাসী জানলেন ক’বছর আগে কুদরতউল্লা নামে একজন গাছের ডাল কাটলে অসুস্খ হয়ে পড়ে। রক্ত বমি হয়। কুদরতের স্ত্রী বট গাছ আগলে ধরে কান্নাকাটি করে। স্বামীর প্রাণভিক্ষা চায়। শেষে তার স্বামী সুস্খ হয়ে উঠে। এরকম অনেক গল্প মল্লিকপুর বাসীদের কাছে শোনা যায়। বিখ্যাত বটের মূল গাছটি মারা গেছে। এলাকায় বেলায়েত মিঞা সেখানে একটি বটের চারা রোপন করেছেন। চারাটি এখন তরুণ অন্য ঝুড়িগুলো তাকে জায়গা করে দিয়েছে। মূল গাছটির অনেক ঝুরি বেড়ে
উঠেছে। ঝুরিগুলো শেকড় মেলেছে। তারাও সবুজ হয়েছে বেশ। দেখে মনে হবে শত শত বটবৃক্ষ। তবে কিছু ঝুরি পোকায় নষ্ট করে দিয়েছে। ঝড়ে উপড়ে গেছে অনেক ঝুরির শেকড়। এরই মধ্যে বেশ ক’টি ঝুরির গাছ পৃথক হয়ে গেছে। ফলে গাছটি এখন আর এক নেই। মল্লিকপুর বাজার কমিটি লোকেরা নিজেদের উদ্যোগে গাছটি দেখাশোনা
করে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, পিকনিক পার্টির লোকেরা এসে গাছের ওপর নির্যাতন চালায়। নিষেধ অগ্রাহ্য করে ডাল কাটে। জানা গেছে, তিনমাস আগে এরশাদের সময় পর্যাটকদের জন্যে একটি রেস্টহাউস নির্মাণ করা হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে রেস্ট হাউজটি আজ অব্দি বাসযোগ্য করা হয়নি। সরকারী কোনো কর্মচারী নেই গাছ তদারকের। মল্লিকপুরে বিখ্যাত এ গাছের কোন তথ্য কোথা নেই। কর্তৃপক্ষের উচিত
প্রাচীন বৃক্ষটিকে সেবা যত্ন করে আরো দীর্ঘজীবী করা। পাশাপাশি প্রতিটি ঝুরির সাথে বন্ধন তৈরী করে গাছটা এক করে দিতে হবে। পুরো গাছতলা প্রাচীর দিয়ে ঘিরে রাখাও জরুরী। মল্লিকপুরবাসী গাছের জন্যে দেন দরবার করে এখন বোকা হয়ে বসে আছে। সবচেয়ে বড় বটগাছটি অযন্ত অবহেলায় মৃত্যুর দিকে এগুচ্ছে। ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ থানার সুইতলা মল্লিকপুর গ্রামের প্রাচীন এ বৃক্ষের বেশ কিছু ঝুরি ডালপালা ইতোমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। অনেকগুলো ঝুরির শেকড় উপড়ে যাওয়ার ঝুরিগুলো আর হাতে হাত ধরে নেই। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে গাছটির আয়তন দিন দিন কমে যাচ্ছে। নজর দেবার কেউ নাই। সরকার গাছের প্রহরীর জন্য ভবন নির্মাণ করেছেন। কিন্তু লোক নাই। ঐতিহাসিক বটগাছের কোনো তথ্য সংশ্লিষ্ট অফিসে নেই। সাধারণ জ্ঞানের বইয়েও বটগাছ সম্পর্কে অজ্ঞাত কারণে কিছুই লেখা হয় নি।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:৪৮
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেবী!

লিখেছেন করুণাধারা, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩৩



১)
দেবী খুবই বুদ্ধিমতী এবং সুন্দরী। এক উচ্চাভিলাষী পরিবারে দেবীর জন্ম, এমনই উচ্চাভিলাষী যে তাদের একমাত্র ভাবনা কীভাবে সবাইকে ছাড়িয়ে উপরে ওঠা যায়! দেবীর যখন জন্ম হলো তখন তার ভাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সুখ

লিখেছেন সামিয়া, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩৬



পরীক্ষার রেজাল্ট বেরিয়েছে সুমনের, জিপিএ ৫ পেয়েছে জানার পর পুরো দিনটিই বদলে গিয়েছে ওর আনন্দে।যেন পৃথিবীর সব খুশির দরজা একসঙ্গে খুলে গেছে ওর জীবনে।
ছেলেটা ওর বাবা মায়ের কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল: আমার বৈষয়িক ভাবনা

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৩০

এবার এসএসসিতে ৬ লাখ ৯০ হাজার পরীক্ষার্থী ফেল করেছে। ২২৬ মাদ্রাসায় একজনও পাশ করতে পারেনি। স্কুল মাদ্রাসা মিলিয়ে মোট সাড়ে তিনশোর কাছাকাছি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজনও পাশ করেনি, শতভাগ ফেল!

এ নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

র-প্রধানের ঢাকা সফর: খবর শুনেই হাসপাতালে ভর্তি পাকিস্তানের হাইকমিশনার !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১৭


রসিকতা বাদ দিয়ে বলি, দুটি ঘটনাই সত্যি। বাংলাদেশে RAW এর প্রধান পরাগ জৈন এসেছেন এবং পাকিস্তানের হাইকমিশনার এখন হাসপাতালে আছেন। দুটি ঘটনা আসলে পরস্পরবিচ্ছিন্ন, একটার সঙ্গে আরেকটার কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৩



ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

জীবনে অনেক কিছুই শেষ করেছি- কিন্তু ভেষজ চায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনও শেষ হয়নি!
সবুজ চা, লেবু-আদা-তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ-লবঙ্গ, গোলমরিচ, পুদিনা-রোজেলা, জাফরান, জেসমিন থেকে শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×