somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঝুড়ি ভরা জল

১৫ ই অক্টোবর, ২০০৬ দুপুর ২:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমেরিকার পূর্ব কেন্টাকির পাহাড়ি এলাকায় ছোট্ট নাতিকে নিয়ে বাস করতেন এক মুসলিম বৃদ্ধ। প্রতিদিন ভোরে বৃদ্ধের প্রথম কাজ ছিল কোরান পড়া। নাতির ইচ্ছা, সেও তার দাদুর মতো হবে। সব কাজেই তাই দাদুকে অনুসরণ করতো সে ।

একদিন ছেলেটা দাদুকে বলছে, "দাদু, আমি তোমার মতো কোরান পড়ার চেষ্টা করি কিন্তু কিছুই বুঝিনা। যেটুকু বুঝি সেটাও একটু পরে ভুলে যাই। কোরান পড়ে তাহলে কি লাভ, দাদু?" চুলায় কয়লা দিচ্ছিলেন বৃদ্ধ। কয়লার খালি ঝুড়িটা নাতিকে দিয়ে বললেন, "এটা নিয়ে যাও। নদী থেকে এক ঝুড়ি পানি নিয়ে আসো।"

পানি আনতে চলে গেলে ছেলেটি। কিন্তু পানি নিয়ে বাড়ি পেঁৗছানোর আগেই পড়ে গেলো সবটুকু পানি। দাদু হেসে বললেন, "আরো জোড়ে দৌঁড়াতে হবে। আবার যাও।" ছেলেটা আগের চেয়ে জোড়ে দেঁৗড়ালো কিন্তু এবারও সুবিধা করতে পারলোনা। হাপাতে হাপাতে বললো, "ঝুড়িতে পানি আনা অসম্ভব।" একটা বালতি আনতে যাচ্ছিল সে। দাদু বললেন "আমিতো বালতির পানি চাইনি, আমার দরকার ঝুড়ি ভরা জল। তুমি ঠিক মতো চেষ্টা করছোনা মনে হয়।" আবার রওনা হলো নাতি।

ছেলেটা কিন্তু জেনে গেছে কোনভাবেই ঝুড়িতে পানি নেয়া সম্ভব না। সে দাদুকে দেখাতে চাচ্ছিল, প্রাণপণ চেষ্টা করলেও লাভ নেই। বাড়ি পর্যন্ত আসার আগেই পানি সব পড়ে যায়। আবারও নদীতে ঝুড়ি ডুবিয়ে পানি ভর্তি করলো ছেলেটি। এরপর জোরসে দৌড়। দাদুর কাছে পেঁৗছতে পেঁৗছতেই যথারীতি ঝুড়ি ফাঁকা।

হাপাতে হাপাতে ছেলেটা বললো, "দেখছো দাদু, কোন লাভ নেই।"
"তোমার তাই মনে হচ্ছে?" দাদু বললেন। "ঝুড়িটা দেখো।"
ঝুড়ির দিকে তাকিয়ে প্রথমবারের মতো ছেলেটা টের পেলো ঝুড়িটা অন্যরকম লাগছে। কয়লার সব ময়লা, কালো ধুয়ে মুছে ঝুড়িটা ভেতরে বাহিরে ঝকঝক করছে।

"তুমি যখন কোরান পড়ো এটাই ঘটে।" বললেন দাদু। "হয়তো সবকিছু বুঝতে পারছোনা বা মনেও থাকছেনা। কিন্তু একবার যখন পড়া শুরু করেছো, ভেতর আর বাহিরটা দারুণ বদলে যাচ্ছে তোমার।"
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা এবং "দি ম্যাট্রিক্স" এর নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যানে এদের ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে পিটিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাইভেট টেলিফোন কম্পানি হলে কেমন হতো?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



গত ব্লগে টেলিফোন নিয়ে বলেছিলাম। মোবাইল থেকে টেলিফোনে কল দেওয়া বা রিসিভ করা যেতো না। শুধু টিএনটি একটিভ করা সিমে টেলিফোনে কল করা যেতো। বা টেলিফোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×