somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্ষুদ্রঋণ হোক দারিদ্র্যতা বিমোচনের সহায়ক

২৭ শে মে, ২০১২ সকাল ৯:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের দেশের ক্ষুদ্রঋণ এখন সারাবিশ্বেই মডেল হিসেবে স্বীকৃত। এরপরও এর পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি পাল্টা যুক্তির কমতি নেই। থাকবেই বা না কেনো? ক্ষুদ্রঋণের ধকলে অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়ছে, অনেকে আত্মহত্যার মতো ভুল পথেও পা বাড়াচ্ছে। এরকম খবর মাঝে মাঝেই পত্রপত্রিকায় ঠাঁই পাচ্ছে। গতকালও দৈনিক মাথাভাঙ্গা পত্রিকার একটি শিরোনাম ছিলো ‘চড়া সুদে ঋণের পাহাড়, অসংখ্য পাওনাদারের উৎপাতে বাড়ি ছাড়া দুটি পরিবার।’ একটি ঋণ নিয়ে সেই ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে একের পর এক ঋণের বোঝা বাড়িয়ে যখন দিশেহারা তখন উপায় না পেয়ে ঘর-বাড়ি ছেড়ে শিশু-সন্তান ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে দুটি পরিবার নিরুদ্দেশ। খবরটি বিবেকবানদের নিশ্চয় মাথা নিচু করিয়েছে। ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে ভাবিয়ে তুলেছে।

ক্ষুদ্রঋণ কেনো সারাবিশ্বে গ্রহণযোগ্যতা পেলো? সোজা সাপটা জবাব- কোনো প্রকারের জামানত ছাড়াই একজন দরিদ্রকে ঋণ দেয়া হয়। ঋণের টাকা খাটিয়ে যে আয় করবে তা থেকে সপ্তায় বা মাসে মাসে কিস্তির মাধ্যমে তা পরিশোধ করবে। ধনীদের জামানত দেয়ার মতো জমি থাকে, থাকে সম্পদ। দরিদ্রদের তা থাকে না। পরিশ্রম করে ভাগ্যের চাকা ঘোরানোর স্বপ্ন সামান্য পুঁজির কারণে বাস্তবে রূপ পায় না। এ কারণেই ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। আর এর কুফল? ঋণের বোঝা বাড়িয়ে ফেলে দিশেহারা হয়ে আত্মঘাতী হওয়া বা পালিয়ে বেড়ানো। এ জন্য দায় অবশ্যই ঋণগ্রহীতা একার নয়, ঋণদাতা বা সংস্থার নিযুক্ত প্রতিনিধির ওপরও বর্তায়। কেনোনা, যে ব্যক্তিকে ঋণ দেয়া হলো সে ওই অর্থ দিয়ে কী করছে, কেনো সে কিস্তি দিতে পারছে না, তা যেমন দেখার দায়িত্ব রয়েছে, তেমনই দায়িত্ব রয়েছে অন্য সংস্থার নিকট দায়গ্রস্ত কি-না। এসব দেখভালের জন্যই তো সার্ভিস চার্জের নামে চড়া সুদ আদায় করা হয়। ঋণ দিতে হবে, ভালোয় ভালোয় আদায় করতে হবে, আদায় না হলে অন্য কারো কাছ থেকে চড়া সুদে ধারকর্জ করে ঋণ শোধ করলে আরও অনেক টাকার ঋণ করিয়ে দেবো বলে লোভ দেখানো হলে ঋণগ্রস্তের দায় যে বাড়তেই থাকবে তা বলাই বাহুল্য। নতুন করে বলার অবকাশ রাখে না যে, ক্ষুদ্রঋণের পাহাড় তখনই গড়ে ওঠে যখন ঋণদাতা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের উদাসীনতা চরমে পৌঁছায়। ঋণের বোঝা বেড়ে যায়, পাওনাদার সকাল-বিকেল বাড়িতে হাজির হয়ে মান-অপমানের কথা বলে। দিশেহারা হয়ে পড়েন দায়গ্রস্ত ব্যক্তি ও তার পরিবার।

আর্থিক সচ্ছলতার পথ দেখাতে গিয়ে দায়গ্রস্ত করে তোলা নিশ্চয় ক্ষুদ্রঋণ দাতা সংস্থাগুলোর লক্ষ্য নয়। অবশ্যই ঋণ নিয়ে কেউ বা কোনো পরিবার অপদস্ত হোক তাও সংশ্লিষ্টরা কামনা করেন না। এরপরও কেনো হচ্ছে, কেনো ঘটছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। ঋণ দিয়ে কিস্তি পরিশোধ করতে না পারলে অনেকের ঘরের টিন খুলে নেয়ার মতো ঘটনাও ঘটে। এসব নিশ্চয় কাম্য নয়। ক্ষুদ্রঋণ হোক দারিদ্র্যতা বিমোচনের সহায়ক। ঋণের বোঝা চাপানোর আগে অবশ্যই ঋণদাতা সংস্থাসমূহের প্রতিনিধিদের সজাগ ও দায়িত্বশীল হতে হবে। এছাড়া গ্রাম-গঞ্জে যারা চড়া সুদে টাকার ব্যবসা করে তাদেরও মুখোশ খুলে শাস্তির আওতায় নিতে হবে। সেই দাদন প্রথার মতো চড়া সুদে টাকা কর্জদান প্রথা অব্যাহত থাকলে সমাজ যে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছুতে পারবে না তা সকলকেই উপলব্ধি করতে হবে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাদা নীল জার্সি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪২


গায়ে ভাই রে সাদা নীল জার্সি
গন্ধ বাতাসে উম্মুখ হয়ে আছি;
কখন হবে- কণ্ঠ নালীর মিছিল-
তারপর- তারপর- সজোরে কিক
গোল- গোল শব্দটা আনন্দ মুখর!
আমার জার্সির রঙগুলো আত্মহারা
রাতজাগা পাগলাপাড়া ফুটবল খেলা
নয়ন জলে টলমলে- স্মৃতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×