'বিশ্বাস'! হ্যাঁ, বিশ্বাস দিয়েই শুরু করা যাক। আমি বিশ্বাসী ছিলাম। ছিলাম বলাটা ভুল হলো। এখনো আছি। তবে দুইটা সময়ের বিশ্বাসের ধরণ এবং কারণে বিস্তর ফারাক।
পূর্বের বিশ্বাসটা ছিল প্রথাগত। বয়োজ্যেষ্ঠদের দেখানো পথ অনুসারে বিশ্বাস। আর আজ অনেকটা ভয়ই এ বিশ্বাসের কারণ। অদেখা,অজানা এক জীবনের ভবিষ্যত পরিণামের ভয়ে যে বিশ্বাস। না! অন্ধবিশ্বাসী ছিলাম না কখনোই। আবার পুরোপুরি অবিশ্বাসীও ছিলাম না। একটা সময় পর্যন্ত রুটিন মেনে চলার মতই চলত বিশ্বাসের কার্যক্রম। আজ তা নেই। ভীরুমন অস্বীকার করে না অস্তিত্ব। কিন্তু আনুগত্য প্রকাশের লৌকিক অনুষ্ঠানগুলো পালনে অনীহা অনেকাংশে। এজন্য বয়োজ্যেষ্ঠদের তিরষ্কার কম শুনতে হয় না।
হ্যাঁ! আমি তাকে এবং তাদেরকেও বিশ্বাস করেছিলাম। যদিও এই দুই বিশ্বাসের প্রকারভেদ সম্পূর্ণই ভিন্ন। আমি ওদেরকেও বিশ্বাস করেছিলাম। কিন্তু তার এবং তাদের আবেগ নিয়ে খেলা দেখতে দেখতে আমি ক্লান্ত; চোখ পঁচে গেছে, মন মরে গেছে। বিশ্বাস করা হয়ে ওঠে না আজকাল। বিশ্বাসী মনের যতটুকু বেঁচে ছিল, হঠাৎ হঠাৎ তা জেগে উঠতে চাইতো। আবারো বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করতো তাকে এবং তাদেরকে। হয়ত করেও ফেলতাম।কিন্তু পরমূহুর্তেই কি যেন একটা মনে পড়ে যেত। বার বার কে যেন বলে উঠতো, "বুলশিট! সব শালা মিথ্যেবাদী, মুখোশধারী!" আর কাউকে বিশ্বাস করা হয়ে ওঠে না আর।
আবেগী মানুষের আবেগ দেখলে বলে উঠতে ইচ্ছে করে, " যত্তসব ন্যাকামি! এখানে কেউ কারো জন্য নয়। ঐসব ঢং ছাড়ো। দুইদিন মজা লুটবা, ফুর্তি করবা, তারপর পুরনো হয়ে গেলে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে নতুন কাউকে খুঁজতে বের হবা। এসব খুব ভালো করেই জানা আছে আমার। নতুন করে চেনাতে এসো না আমাকে। যাও ফুটো!"
সব বিশ্বাসে ক্ষয় ধরেছে। হয়ত 'সবকিছু'তে বিশ্বাস হারানো পাপ। সে পাপেই পাপী হচ্ছি আজ। আর শাস্তি? সেকথাও অজানা নয়। ভীতমনেই মেনে নিয়েছি তা।
কিন্তু সবশেষে একটাই প্রশ্ন করতে চাই, সচেতনমনে কখনো কারো ক্ষতি তো চাইনি। তবু আমার সাথেই এসব কেন?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

