somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রোহিঙ্গা ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ!!! একটু ভিন্নভাবে দেখা...

২৪ শে জুন, ২০১২ দুপুর ২:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বেশ কিছুদিন ধরে ফেসবুক, ব্লগসহ অন্যান্য মিডিয়া অঙ্গন গুলোতে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ নিয়ে তুলকালাম অবস্থা চোখে পড়লেও ভেবেছিলাম আমি এটা নিয়ে কিছু লিখব না। কিন্তু মানবাধিকারের চরম অবনতির জলন্ত দৃষ্টান্ত চোখের সামনে আলো ছড়ানোয় হঠাৎ রোহিঙ্গা প্রবেশ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের কঠোর অবস্থানের একটি ব্যাপার না লিখে থাকতে পারলাম না। যদিও এই অভিমতটি নিতান্তই আমার ব্যাক্তিগত অভিমত তাই এর সাথে অন্য কোন বিষয় না জড়ানোর অনুরোধ রইল।

কেন নিজের জন্মভূমি ত্যাগ করে জীবন বাচাঁতে সাগরে অজানার উদ্দেশ্যে ভাসতে হয় তাদের?

যতটুকু জানি তা থেকে বলছি, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে জাতিগত শুদ্ধি অভিযান নিয়েই এই পরিস্থিতির শুরু। এই ''জাতিগত শুদ্ধি''- শব্দটি একবিংশ শতাব্দির এই সময়ে যখন গনতন্ত্রের মানস কন্যা অং সান সুচি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার গ্রহন করলেন ঠিক সেই সময়ে কতটা হাস্যকর তা কল্পনার বাইরে। রাখাইন রাজ্যের মংডু ও আকিয়াব এলাকায় গণহত্যা ও বেপরোয়া লুটতরাজের মহোৎসব চলছে। হাজার হাজার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন পৃথিবীর সবচেয়ে নিপীড়িত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় রোহিঙ্গারা। সরকারি হিসেবে ৮০ জন ও বেসকারী হিসেবে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নিহত ও অসংখ্য আহতের খবর এসেছে। যেখানে মুসলিম রোহিঙ্গাদেরকে পাচ্ছে সেখানেই আক্রমন চালাচ্ছে রাখাইন বৌদ্ধরা। তরুনীদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে, নির্বিচারে মানুষ খুন করছে, লুটতরাজ, হামলা- সব মিলিয়ে এক ভয়ানক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও বিশ্বমোড়লরা এ ব্যাপারে কোন কথা বলছে না অদ্ভূত কোন কারনে!

এইরকম এক অসহায় পরিস্থিতিতে আক্রান্ত রাখাইন রাজ্যের শত শত রোহিঙ্গা মুসলমান জীবন বাচাঁতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালালে বিশ্বনেতৃবৃন্দের অনুরোধ সত্ত্বেও বাংলাদেশ সরকারের কঠোর অবস্থানের জন্য বিজিবি রোহিঙ্গাদেরকে পুশব্যাক করে দেয়। এবং এই পুশব্যাক মানে বাঘের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে আবার বাঘের মুখে ঠেলে দেয়া। যাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে তারা ফিরে গিয়ে আবার আক্রমনে মারা পড়ছে অথবা বঙ্গপোসাগরে নৌকা বা ট্রলার নিয়ে ভাসতে ভাসতে ঝড়ের কবলে পড়ে বা খাবারের অভাবে মারা পড়ছে।

কি দোষ করেছে এরা?

অথবা এই শিশুরা?

নিজেকে মানুষ মনে হলে অন্তত একটিবার চিন্তা করুন আপনি এই পরিস্থিতিতে পড়লে কি করতেন!!!

এই হল বর্তমান রোহিঙ্গা পরিস্থিতি....চলুনএখন একটু ভিন্নভাবে চিন্তা করি....

বাংলাদেশ স্বীকৃতভাবে অসাম্প্রদায়িক দেশ। রোহিঙ্গারা যদি মুসলমান বাদে অন্য সম্প্রদায়ের হতো তখন পরিস্থিতি কেমন হতো একটু ভেবে দেখুন। নৌকায়, ট্রলারে করে শত শত ভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ বাংলাদেশে আশ্রয়ের জন্য ছুটে আসছে...বাংলাদেশ সরকারের কঠোর মনোভাবের কারনে বিজিবি সিমান্তে তাদেরকে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠের দেশ হওয়ায় তারা অন্য ধর্মাবলম্বী রোহিঙ্গাদেরকে অনুপ্রবেশে বাধা দিচ্ছে বলে বিশ্বমোড়লরা মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। বাংলাদেশ সরকার সাংবিধানিকভাবে অসাম্প্রদায়িক দেশ হওয়া সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশে বাধা ও সীমান্তে শরনার্থী শিবির না খোলায় সাম্প্রদায়িক মনোভাব প্রকাশ করছে যা সংবিধানকে অবমাননা করার শামিল। বাংলাদেশে বসবাসরত ভিন্ন ধর্মালম্বীরা রোহিঙ্গাদেরকে সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও শরনার্থী শিবিরে জায়গা দেয়ার দাবীতে মানববন্ধন ও পরে আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা বাংলাদেশে সরকারের সাথে বৈঠক করেছে। অবশেষে সরকার রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশে সাময়িকভাবে প্রবেশের অনুমতি, সীমান্তে নির্দিষ্ট এলাকায় বিচরন, শরনার্থী শিবির স্থাপন করেছে এবং তাদের পিছনের ব্যয় মিটাতে বিশ্ববাসীর কাছে সাহায্যের আবেদন করেছে। রোহিঙ্গারা নতুন জীবন ফিরে পেয়ে স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলতে শুরু করেছে। আর এই সময়ের মধ্যে মিয়ানমার সরকারের সাথে বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘ এবং বিশ্বনেতৃবৃন্দ আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌছার চেষ্টা করছে।

হয়তোবা এমনটিই ঘটত...

আর বর্তমান পরিস্থিতি:

বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, আপামর জনসাধারন, বিশ্বের বেশকিছু দেশের অনুরোধ সত্ত্বেও বাংলাদেশ তার সিদ্ধান্তে এখনও অনড়। হয়তোবা কারন হিসেবে বলতে পারি জনসংখ্যার বিচারে আমরা প্রচণ্ড ধরনের একটা জনবহুল দেশ এবং আমাদের যে ছোট, ক্ষুদ্র অর্থনীতি, সেই অর্থনীতির জন্য এত লোকজনকে ঠাঁই করে দেওয়া সম্ভব নয় অথবা রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে। কিন্তু সবার আগে মনুষ্যত্ব, মানবিকতা। তাদেরকে সীমান্তে নির্দিষ্ট এলাকায় সাময়িকভাবে ঠাই দেয়া যেতে পারে যা কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে রাখা হবে যাতে করে সেখান থেকে কেউ বের হতে না পারে। এই শিবিরের ব্যায় মেটাতে আন্তর্জাতিক মহল অবশ্যই সহযোগিতার হাত বাড়াত যার উদাহরন আমরা বতূমান বিশ্বের অনেক শরনার্থী শিবিরে বা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহে দেখতে পাই। আমি বাংলাদেশ সরকারের একজন সুস্থ মস্তিষ্কের নাগরিক হিসেবে নিজ দেশের মানবতার উদার দৃষ্টান্ত দেখতে চাই যেমনটি ১৯৭১ সালে আমরা ভারতের কাছে শরনার্থী হিসেবে পেয়েছিলাম।
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ; এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

এপস্টেইনের এলিট: ইসরায়েলের মিডিয়া নিয়ন্ত্রন এবং প্রপাগাণ্ডা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৬:৩৮


ইতিহাসবিদ ইলান পাপে বলেছেন, "ইসরায়েল অবৈধ বসতি স্থাপনকারী, ঔপনিবেশিক শক্তির একটি প্রজেক্ট। এটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা স্বাভাবিক রাষ্ট্র নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবস্থা"। এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×