মহাপ্রলয় :কেয়ামতের বৃহত্তম নিদর্শনসমূহ (৮ম খন্ড )
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
জুলকারনাইনের প্রাচীর
এই প্রাচীরটির সঠিক অবস্থান নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। এ সম্পর্কে নানা মতবাদ প্রচলিত। একটি মতবাদ অনুসারে, কুরআনের বর্ননা অনুযায়ী অরুণাচলে, যেখান থেকে সূর্য উদিত হয় সেখানে ইয়াজুজ, মাজুজের হাত থেকে জনগণকে রক্ষা করার জন্য দেয়াল তুলে দিয়েছিলেন জুলকারনাইন। আর সে স্থানটি পাহাড়ের প্রাচীরের মাঝখানে। এই বর্ণনার সাথে মিলে যায় এমন একটি দেয়াল রয়েছে কাসপিয়ান সাগর উপকূলে( এই পোস্টে যে ছবিটি দেখানো হয়েছে সেটির কথা বলছি)।কিন্তু ইতিহাসবিদদের দ্বারা স্বীকৃত যে এ দেয়াল তৈরি করেছিলেন আলেকজান্ডার। যা তৈরি করতে লোহা ও তামা ব্যবহৃত হয়েছে। সেখানে একটি তোরণ রয়েছে যেটি ‘কাসপিয়ান গেট’ বা আলেকজান্ডারের গেট নামে পরিচিত। দারিয়াল এবং দারবেন্ত নামে দুটি শহরে এর ব্যপ্তি। দারিয়াল রাশিয়া এবং জর্জিয়ার সীমান্তে অবস্থিত। এটিকে বলা হয় কাজবেক পাহাড়ের পূর্ব প্রান্ত। দারবেন্ত রাশিয়ার দক্ষিণে অবস্থিত একটি শহর। কাসপিয়ান সাগরের দক্ষিণপূর্ব উপকূলে নির্মীত এ দেয়ালটি তোলা হয়েছে দুটি পাহাড়ের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানে। এ পাহাড় দুটিকে বলা হয় পৃথিবীর উঠান।
যুলকারনাইনের সেই ঐতিহাসিক প্রাচীর কেউ দেখেছেন? দেখা সম্ভব?
একজন সাহাবী সেই প্রাচীর দেখেছিলেন। ইমাম বুখারী রহ. অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। একব্যক্তি নবীজীর কাছে এসে বলল, আমি সেই প্রাচীর দেখেছি। লাল পথের ধারে সাদা কালো রেখাযুক্ত কাপড়ের মত দেখতে। নবী করীম সা. বললেন- হ্যাঁ..! তুমি ঠিক-ই দেখেছ!!”
পৃথিবীর কোথায় কি আছে না আছে, কোথায় কি হচ্ছে না হচ্ছে সকল কিছুর একচ্ছত্র জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছেই। বর্তমান টেকনোলোজী ইয়াজূজ-মাজূজের প্রাচীর বা দাজ্জালের ভয়ানক দ্বীপ আবিস্কারে সক্ষম হয়নি; তার মানে এগুলোর অস্তিত্ব নেই, এমনটি নয়। হতে পারে, কোন প্রজ্ঞার দরুন আল্লাহ পাক মানুষের দৃষ্টিকে এগুলো থেকে ফিরিয়ে রেখেছেন বা এগুলোর কাছে পৌঁছুতে কোন অন্তরায় তৈরি করে দিয়েছেন। প্রতিটি বস্তুর-ই একটি নির্ধারিত সময় আছে। আল্লাহ পাক বলেন- “আপনার জাতি তা মিথ্যারোপ করেছে। আপনি বলুন, আমি তোমাদের উপর তত্তাবধায়ক নই! প্রতিটি সংবাদের-ই নির্ধারিত সময় আছে! (সময় এসে গেলে) ঠিকই তোমরা সব জানতে পারবে।-” (সূরা আনআম ৬৬-৬৭)
আধুনিক কালের টেকনোলোজী প্রাচীন-কালে কেন আবিস্কৃত হয়নি; কারণ, সেটার জন্য-ও আল্লাহ পাক সময় নির্ধারণ করে রেখেছিলেন।
ক্বাযী ইয়ায রহ. বলেন- “ইয়াজূজ-মাজূজ সংক্রান্ত হাদিস বাস্তবসম্মত; এগুলোর উপর ঈমান আনয়ন প্রতিটি মুসলিমের একান্ত কর্তব্য। কারণ, ইয়াজূজ-মাজূজের উদ্ভব কেয়ামত ঘনিয়ে আসার অন্যতম নিদর্শন। ক্ষমতা এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার বলে কেউ তাদের সাথে পেরে উঠবে না। আল্লাহর নবী ঈসা এবং তাঁর সহচরদেরকে তারা তূর পর্বতে অবরোধ করে ফেলবে। অতঃপর ঈসা নবীর দোয়ার প্রেক্ষিতে আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করবেন। দুর্লভ পাখী পাঠিয়ে তাদের লাশগুলোকে অজানা স্থানে নিক্ষেপ করবেন।-” (মিরক্বাতুল মাছাবীহ)
ইয়াজূজ-মাজূজের ধ্বংস
ইয়াজূজ-মাজূজের উদ্ভবে সারা বিশ্ব বিশৃঙ্খলায় ভরে উঠবে। সর্বত্রই তারা হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকবে। শেষ পর্যন্ত আসমানের অধিবাসীকে ধ্বংস করতে তারা উপর দিকে তীর নিক্ষেপ করবে। সুতরাং ঈসা নবীর সহচর এবং মুষ্টিমেয় পলায়নকারী ব্যতীত কেউ রক্ষা পাবে না। ঈসা নবী ও তাঁর সহচরবৃন্দ তখন তূর পর্বতে মহা দুর্ভিক্ষে দিনাতিপাত করবেন। তখন ঈসা আ.-এর দোয়ার প্রেক্ষিতে আল্লাহ পাক ইয়াজূজ-মাজূজদের স্কন্ধে এক প্রকার পোকা তৈরি করে দেবেন। নিমিষেই সব ধ্বংস হয়ে যাবে। অতঃপর একপ্রকার দুর্লভ পাখী দিয়ে আল্লাহ এদের পঁচা লাশগুলো দূরে কোথাও নিক্ষেপ করবেন। এরপর জমিনকে তার বরকত প্রকাশ করতে বলা হবে।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
কবিতাঃ পাখির জগত

টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।
টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।
বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন
মোহভঙ্গ!

পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন
একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।