সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছিল, মা বলল "বৃষ্টি কমেছে স্কুলে যা"। কথাটা বেশ কাটখোট্টার মত লাগতো তখন। সেই সময় মাথায় ঘুরঘুর করত বন্ধুর যেই বলে কাল আউট হয়েছি, আজ আর সেভাবে ব্যাট চালাবো না। কিছুক্ষণ পর মায়ের গলার আওয়াজ- "এখনও বের হইস নাই"
বড় হয়েছি, বিছানার সাথে গভীর সম্পর্ক ছেড়ে ঠিকই যাচ্ছি ক্লাসে, কই এখানে তো মা নেই। রঙও বদলেছে অনেক, নীলটা অনেকটা হালকা হওয়া শুরু করেছে।
একটা ক্রিকেট ব্যাটের জন্য সকাল থেকে রাত অবধি ততবির চলত, সাধের টেনিস বলটা বন্ধু হারিয়ে ফেললে যে কত গালি দিতাম ঠিক ছিল না। আজ সবই আছে কিন্তু ইচ্ছাটাকে রেখেছি দড়ি বেঁধে। বন্ধুকে গালি দেওয়াও আর হয়ে উঠে না।
ছোট ছোট প্রাপ্তিগুলো অনেক বড় মনে হত, এখন যত বড়ই হোক না কেন, পাই না খুঁজে সেই আনন্দ। আজকের দিনের মত এত উপকরণ হয়তো ছিল না, তবে নিজের তৈরি করা খেলনা গুলো অনেক দামি ছিল। একটা লাটিম বানলে কেমন হয়? আরে ঘোরার সময় ভাল না দেখালেও টাকা দিয়ে তো আর কিনতে হবে না, এটা আমার বানানো জিনিস, খেলতাম অকৃত্রিমভাবে।
স্বপ্ন ছিল না খুব বড়, যত বড় হচ্ছি স্বপ্নের জ্বালা বেড়ে যাচ্ছে মনে হয়। কখনও আকাশ কুসুম স্বপ্ন দেখেও ফেলি-----
যেমনটা একটা মেয়ে দেখলাম সাথে সাথে বিয়ে, বাচ্চা, নাতি- পুতিকে গল্প শোনাচ্ছি, স্বপ্ন গুলকে বাছাই করা উচিত, ওদের বলতে হবে-- দেখ "বেশি বড় হয়ে আসিস না কিন্তু" ।
বিকেলে পাশের বাড়ির ছাদ, খেলার মাঠ, স্কুল রাস্তা, পুকুরের পানি, রাস্তায় হেটে যাওয়া কিশোরীর খোলা চুল সবই রঙিন লাগতো। রঙটা অনেকটা হালকা হওয়া শুরু করেছে......
বন্ধুর সাথে কত মারামারি করতাম, রাগ করত, আবার ঠিক হয়ে যেত, উদ্ভট আচরণ করতাম তাদের সাথে, সবাই হাসি মুখে মেনে নিত, এখন করা যায় না ।
ভুলেই গেছি বড় হয়েছি...
বড় হয়েছি, হতে হয়েছে...... মনটা মাঝে মাঝে ছোট হয়ে যায় যে,
তাই বন্ধু বলে "তোকে প্রাইমারী স্কুলে পাঠানো উচিত, ওই পাঠ মনে হয় ভাল ভাবে পড়া হয়নি,বন্ধু "

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মে, ২০১৫ রাত ১১:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



