ধরার বুকে নদীর প্রবাহ যেন তার পুর্ণযৌবনার প্রতীক।
প্রকৃতি সাজাতে আর মানব মনে প্রশান্তির আবেশ ছড়ানোয় স্রোতস্বিনী যেন অসীম ক্ষমতাময়ী।
তাইতো ছোট কপোতাক্ষ নদ জন্ম দিয়েছে বড় মাইকেল মধুসূদনকে তেমনি প্রমত্তা পদ্মার রুপ দিয়েছে মানিকের অমর সৃষ্টি পদ্মা নদীর মাঝি।
যে ধরার বুকে নেই নদী ধারা, সে আলো বাতাসে বড় হওয়া মানব কুলই কেবল বোঝে, না থাকার বেদনা।
মম অন্তর বিকাশে তারা যেন এক একজন অলংকার শুণ্য বিধবা।
কিন্তু বিধাতা বাংলার কোন মানব মনে এমন রুক্ষতা সৃষ্টি করেন নাই।
শিরায় উপশিরায় ছড়িয়েন হাজারও নদ- নদী, ফুসফুসে দিয়েছে প্রশান্তির সুবাতাস, প্রেমিক মনগুলোকে দিয়েছে ভালবাসার বিশাল প্রান্তর।
তাইতো কিশোর প্রেমিক মন নদীর ধারে প্রেমিকার জন্য প্রেমের স্তবক খুঁজে ফিরে,
প্রেমিকাও শান্ত শীতল বাতাসে প্রেমিকের স্ফীত হাসিতে চিকন চোখের মাঝে তার ভালবাসার গভীরতা মাপে।
তারা পেয়ে যায়, ক্ষনিকের তরে হলেও নদী প্রকৃতি তাদের নিরাশ করে না।
ওদিকে হতাশগ্রস্থ মনটিও নদীর ধারে চুপ করে, শান্ত স্রোত ধারায় দুঃখ ভাসিয়ে, ভেসে আসা কোন কাঠের টুকরায় সুখ খুঁজে পায়।
সারাদিনের কাজে ক্লান্ত শরীরও চায় বিকেলে শীতল সমীরণের পরশ, নিজেকে ফিরে পেতে নতুন উদ্যমে।
এদিকে নদীর ধারে বসে তরুণ প্রাণ, কারণেঅকারণে দামী সিগারেটে দেয় লম্বা টান।
শহুরে দুষিত বাতাসে নিকোটিন ছাড়তে তার মনো না চায়, তাইতো উর্ধ্ব গগণে ঠোঁট উঁচিয়ে ধোয়া ছাড়ে নানা কসরতে।
নদীর পাড়ে ঘাস খাওয়া গরুকে উপজীব্য বানিয়ে কোন প্রকৃতি প্রেমী সুর্যাস্তের ছবি ফেমবন্দী করে।
ডিঙ্গি নৌকায় জেলের দৃষ্টি থাকে মাছের ঝাকে আর নদীর বাঁকে টং এর দোকানীর অপেক্ষা কোন খরিতদারের আগমণে।
দুজনই যেন 'অধিক সংখ্যা' কে বড্ড বেশি ভালবাসে।
সদ্য প্রেমে পড়া প্রেমিকা চেয়ে থাকে প্রেমিকের উচ্চারণের-
"হ্যা গো, চলো আজ বিকেলটা নদীর ধারে বসে কাটাই, ক্ষণিকের তরে ভুলে যাই এই ধামাধরা ধরার সকল লোভ- লালসা, কুটিলতা- জটিলতাকে"।
দূর মসজিদ থেকে মাগরিবের আযান ভেসে আসে, বাড়ি ফিরতে শুরু করে সবে।
ছবিঃ প্রিয়দা অনিক অধিকারী

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৫:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



