somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইসলাম, বাঙালীর ধর্ম ও রেনেসাঁ

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ৩:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ধর্ম নিয়ে আলোচনা করলে দেখা যায় অনেকেই আপত্তি তোলেন, বিধর্ম ী বা কাফের এ-জাতীয় লেবেল এঁটে দিতে পারলে খুশী হন। গাল-মন্দ করেন। সাবধানবানী বা হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন। ধর্ম কি আমাদের সামাজিক জীবনের বাইরের কিছু? ধর্মতো আমাদের শুধু সামাজিক নয়, রাজনৈতিক জীবনকেও প্রভাবিত করছে, বিশেষত যখন ধর্ম-ভিত্তিক রাজনীতির তোড়জোড় চলছে দেশে এবং বিদেশে। শুধু ধর্ম নয়, যে কোনো বিষয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য অবশ্যই নিন্দনীয়। কিন্তু যুক্তি-দর্শন ভিত্তিক আলোচনায় আমরা মুসলমানরা কেন এখনও পিছিয়ে আছি? ধর্মের সমাজ-তাত্তি্বক ও রাজনৈতিক বিশ্ল্লেষন করতে গেলে আমরা কেন এত আঁতকে উঠি? আমাদের ভয়টা কোথায়? ভয়কে অতিক্রম করা আমাদের জন্য আজ খুব জরুরী। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, সব ধর্মের মত ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের মধ্যেও সিদ্ধি অর্জনের পথ ও মতে বৈচিত্র্য রয়েছে। সুনি্ন-শিয়া, ওহাবী-সালাফি ইত্যাদি নানা বিভাজনকে আমাদের মানতে হবে। যদি তা-ই হয় তাহলে ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে বাঁধা কোথায়?

খ্রিস্টান ধর্ম-অনুসারিদের এক মধ্যযুগ কেটেছে ধর্মান্ধতা নিয়ে - ধর্মগুরুদের পারষ্পরিক কলহ ও শ্রেষ্ঠত্বের বড়াই করে কেটেছে কয়েক শো বছর। সে সময়ে গ্র ীক সভ্যতার জ্ঞান-বিজ্ঞানকে চিরতরে হারিয়ে যাবার সম্ভাবনা থেকে উদ্ধার করেছে মুসলমানরা; অনুবাদ করেছে তা নিজেদের ভাষায়, চর্চা করেছে ব্যাপকভাবে, দিগন্ত প্রসারিত করেছে নতুন চিন্তার। কিন্তু তারপর ধীরে ধীরে তলিয়ে যেতে থাকলো অপার অন্ধকারে। আর পশ্চিম জেগে উঠলো নতুন সম্ভাবনা নিয়ে, সেই জ্ঞান-বিজ্ঞানের ধারাবাহিকতা বহন করে মধ্যযুগীয় চার্চ-কেন্দ্রিক ধর্ম ীয় প্রাধান্য ভেঙে নিয়ে এলো রেনেসাঁ। আর মুসলমানদের অন্ধকার গভীর থেকে গভীরতর হলো। আমরা আজও বহন করছি সেই অন্ধকার।

পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠার মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। আমাদের এই ভারত উপমহাদেশে ইসলাম ধর্ম অনুপ্রবেশের যে ইতিহাস তা এই অন্ধকারকে আরো ঘনীভূত করেছে। আসুন প্রয়াত আহমদ ছফার লেখা পাঠ করে একটু বোঝার চেষ্টা করি: "ভারতে ইসলাম প্রচারে মধ্যপ্রাচ্যের সুফী দরবেশদের একটা গৌণ ভূমিকা ছিল বটে, কিন্তু লোদী, খিলজী এবং চেঙ্গিস খানের বংশধরদের সাম্রাজ্য বিস্তারই ইসলাম ধর্মের প্রসারের যে মুখ্য কারণ, তাতে কোনো সংশয় নেই। এই পাঠান-মোগলদের ইসলাম এবং আরবদের ইসলাম ঠিক একবস্তু ছিল না। আব্বাসীয় খলীফাদের আমলে বাগদাদে, ফাতেমীয় খলীফাদের আমলে উত্তর আফ্রিকায় এবং উমাইয়া খলীফাদের স্পেনে যে জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা হয়েছিল, ভারতবর্ষে তা কোনোদিন প্রবেশাধিকার লাভ করেনি। মুসলমান বিজ্ঞানী এবং দার্শনিকদের যে অপ্রতিহত প্রভাব ইউরোপীয় রেনেসাঁকে সম্ভাবিত করে তুলেছিল, ভারতের মাটিতে সে যুক্তিবাদী জ্ঞাচর্চা একেবারে শিকড় বিস্তার করতে পারেনি। খাওয়া-দাওয়া, সংগীতকলা, স্থাপত্যশিল্প, উদ্যান রচনা এবং ইরান, তুর্ক ীস্থান ইত্যাদি দেশের শাসনপদ্ধতি এবং দরবারি আদব-কায়দা ছাড়া অন্য কিছু ভারতবর্ষ গ্রহণ করেনি।" (আহমদ ছফা, বাঙালী মুসলমানের মন)

অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমাদের প্রচেষ্টা হওয়া উচিত তাই সবচেয়ে বলিষ্ঠ; তা-না হলে আমরা অন্ধকারে ডুবে থাকবো আরো কয়েক শো বছর। পিছনে নয়, সামনে তাকাবার সময় এখন। 'মুসলিম ব্রাদারহুড' কিংবা 'হিজবুত তাহরীর' বা 'জামাতে ইসলামী' তাকিয়ে আছে পিছনের দিকে। আসুন, আমরা জ্ঞান-বিজ্ঞানের ধারাবাহিকতায় এগিয়ে যাই কয়েক শো বছর। সে হোক আমাদের রেনেসাঁ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×