ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে কোনো অশুভ পরিস্থিতি নয়, চাই শান্তি ও সম্প্রীতি
বেশ কিছুদিন আগে এক ব্যক্তি জিন্নাহর ছবি ভাঙচুর করেছিল। এর কিছুদিন পর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে কালো কালি লাগানোর ঘটনাও সামনে আসে। এই কালি লাগানোর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এখন সামনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব। এমন পরিস্থিতিতে মনে নানা ধরনের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে না তো? কোনো মহল কি ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে? অবশ্যই এসব প্রশ্নের উত্তর এখনই নিশ্চিতভাবে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে অতীতের বিভিন্ন ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগাম সতর্ক থাকা জরুরি।
বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে প্রত্যেক মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালন, ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপন এবং নিরাপদে বসবাসের অধিকার রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে যেন সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভেদ, বিদ্বেষ কিংবা সংঘাত ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
এ ক্ষেত্রে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যম এবং সচেতন নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো গুজব, উসকানিমূলক বক্তব্য কিংবা যাচাই না করা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
আমাদের মনে রাখতে হবে, কোনো ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা থাকলে তার মোকাবিলা করতে হবে সচেতনতা, আইনগত ব্যবস্থা এবং ঐক্যের মাধ্যমে—গুজব কিংবা পাল্টা উসকানির মাধ্যমে নয়।
আমরা চাই, আসন্ন ধর্মীয় উৎসব আনন্দ, নিরাপত্তা ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হোক। কোনো ধর্মের মানুষ যেন আতঙ্কে না থাকে, কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। আসুন, যেকোনো ষড়যন্ত্র ও উসকানির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হই এবং শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সচেষ্ট থাকি।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



