somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার মামাবেলা।

১৬ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ৩:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দিনটা ভুলে গেছি। মনে হয় জুলাই এর মাঝা মাঝি হবে। সাল ২০০৫।
নানার বাড়িতে বেড়াতে গেছিলাম আম-কাঁঠালের ছুটিতে। রাত ৮ টা বাজে খাওয়া দাওয়া শেষ করে বিটিভি দেখতেছিলাম (গ্রামের বাড়িতে খাওয়া দাওয়া তাড়াতাড়ি সারা হয়)। আমার ছোট মামা তখন মাত্র ঘরে ঢুকলেন। মামা তখন ২ বারের ম্যাট্রিক ফেইল। এত দেরি করে ঘরে ফিরার জন্য কৈফিয়ত চাওয়া হল। মামা কৈফিয়ত দিতে ব্যর্থ হলেন। তারপর বেশ আয়োজন করে একটা বাঁশের চিকন কঞ্চি বাছাই করা হল। আমরা বেশ উত্তেজনা নিয়ে আয়োজন দেখছিলাম। আমরা বলতে আমি, আমার ছোট ভাই, এবং আমার ২ খালাতো ভাই বোন। ৪ জনের বয়স ছিল যথাক্রমে ১২, ৪, ৭, ৪.৫ বছর। আমাদের কাছে এটা উত্তেজনা লাগার মতই ঘটনা। এর জন্য কেউ আমাদেরকে হৃদয়হীন বল্লে হবে না।
যাই হোক আয়োজন সম্পন্ন হওয়ার পর মামাকে ডাকা হল। আবার কৈফিয়ত চাওয়া হল। তিনি আবার ব্যর্থ হলেন জবাব দিতে। এরপর একটা দুইটা টোকা দিয়ে আপ্যায়ন শুরু। আস্তে আস্তে আপ্যায়নের পরিমাণ বাড়তে লাগল। নতুন নতুন রেসিপি যোগ হতে লাগল। মামার চিৎকার কম্পন বাড়িয়ে বাতাস উত্তপ্ত করে দিল। এবার আমরা ছোটরা বেশ ভয় পেলাম। আগ্রহ শেষ হয়ে ভয় জায়গাটা গ্রাস করতে লাগল। কখন মামা মুক্তি পাবে সেই অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু মামাকে মনে হয় আজকে মেরেই ফেলবে। যতক্ষন পর্যন্ত কৈফিয়ত না দিতে পারবে ততক্ষন পর্যন্ত চলবে এই আপ্যায়ন। কিন্তু আজকে মামা মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছে মনে হয়। কিছুতেই কৈফিয়ত দিচ্ছে না। অবশেষে ক্লান্ত হয়ে নানু যখন থামলেন ততক্ষণে আমরা সবাই ভয়ে মশারির ভিতর ডুকে আল্লাহ আল্লাহ করতে করতে ঘুমিয়ে গেছি। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি মামা দিব্বি গরুর দুদ দোয়াচ্ছে। যেন এই দুনিয়ায় তার থেকে সুখি আর কেউ নাই। কাল রাতের কথা জিজ্ঞেস করে একটু সহানুভুতি দিতে চাইলাম কিন্তু মামা উলটা হাসে। যেন মাইর খাওার থেকে মজা আর কিছু নাই। মাইরে এত সুখ জানলে ডেইলি মাইর খাইতাম। তারপর জিজ্ঞেস করলাম কই গেসিলা মামা? মামা উত্তর দেয় নাই।
কিন্তু আজকে ২০ বছর বয়সে আমি জানি মামা কই ছিল ওইদিন আর কি কারনে এত মাইর খেয়েও হাসছে। কিন্তু টা আপনাদের বলা যাবে না। যে জিনিস গোপন করে মজা পাওয়া যায় টা গোপন রাখাই ভাল সময়ে অসময়ে দুঃখের মাঝে এই কথা মনে করে মজা পাওয়া যাবে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×