somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ একজন মোটা বউ এবং অতঃপর..

১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তার সাথে যখন আমার প্রেম হয় তখন ও কি দেখে আমার প্রেমে পড়েছিলো জানিনা ৷ আমি তেমন সুন্দর না দেখতে ৷ এরপর সম্পর্ক যত গড়ায় সে আকার ইঙ্গিতে বোঝায় আমার ফিটনেস ঠিক করতে হবে ৷ আমি মোটা হয়ে যাচ্ছি
সে মশকরার ছলে হলেও আমাকে বোঝাতো তার চিকন মেয়ে পছন্দ ৷
কোনো মেয়ের চেহারা খারাপ হলেও বলতো মেয়েটা সুন্দর ৷ যদি বলতাম কি বলো? কি দেখে মনে হলো? ও বলতো দেখো স্লিম অনেক ৷ তখন বুঝতাম কি বোঝাতে চাইছে সে ৷ কিন্তু কখনো সরাসরি বলেনি আমাকে ৷
সম্পর্কে অনেক ঝামেলা থাকলেও আমরা শক্ত ছিলাম ৷ ছেলেটা ভালোবাসতো আমাকে এটা সত্যি ৷ এরপর বিয়ের সময় এসে পরলো যখন ও আমাকে তখন সরাসরি বলে দিলো দেখো একটু ব্যায়াম করো স্বাস্থ্যটা একটু যেনো কমে ৷ আমার বাসা থেকে দেখতে যাবে বুঝতেছোনা একটু সেরকম হতে হবে

এক
সেদিন বুঝলাম ওর পছন্দটা কিছুই না স্লিম হওয়াটা জরুরী ৷ তা না হলে তো ওকে মানুষ বলবে হাতী বউ এনেছিস ৷ যাহোক শুরু করালাম ব্যায়াম, ডায়েট ৷ কমলামও একটু, কিন্তু শরীর খারাপ হয়ে গেলো অনেক ৷ তবুও স্ট্রং থাকার চেষ্টা করতাম ৷ তারপর আবার আমি খুব একটা ফর্সা না এটা নিয়েও সবার একটু সমস্যা হলেও বিয়েটা হলো ৷

এরপর কিছুদিন ডায়েট মানলেও পরে আর মানা হচ্ছিলোনা সংসারের কাজ সবমিলিয়ে ব্যায়াম ডায়েটের সময় বা ইচ্ছেও ছিলোনা ৷ হয়তো চেষ্টা করলে পারতাম আমিও চেষ্টা করিনি কারণ দুর্বল হয়ে যায় শরীর ৷ আবার মোটা হয়ে গেলাম ৷ জামাই আমাকে উঠতে বসতে বলতেই থাকতো হাতীর মত শরীর ৷ একদিন দেখি বাড়ির লোক ও আমাকে নিয়ে হাসছে ৷ আমাকে নাকি ট্যাবলেটের মতোন লাগে ৷ আমাকে দেখেই সবার কথা বন্ধ হয়ে গেলো ৷ জামাই আমার খুব উপভোগ করছিলো এসব ৷

দিন দিন আমি যেনো তার কাছে পা থেকে মাথা পর্যন্ত আস্ত হাতীই হয়ে যাচ্ছিলাম ৷ আমার দিকে ভালো করে তাকিয়েও দেখতো না ৷ আমার কোন অভাব ছিলোনা ৷ সে কখনো কোন ব্যাপার নিয়ে আমার সাথে ঝগড়াও করতোনা কিন্তু সে আমাকে জাস্ট রিসপন্সেবলটি থেকে হয়তো তার সাথে রেখেছিলো ৷ আমার দোষ একটাই আমাকে আকর্ষনীয় লাগেনা মোটা বলে ৷
একদিন তার জন্য সেজেছিলাম তার প্রথম কথা ছিলো শাড়ীটায় মানাচ্ছেনা আরো বস্তার মতো লাগছে ৷ মেনে নিয়েছিলাম সেদিনও ৷

দুই
কিছুদিন হলো জামাই আমার খুব বউ ভক্ত হয়ে গেছে ৷ সেলফি তোলে আমার সাথে ; প্রশংশা করে ৷ কারণ একমাস হলো আমি অনেক শুকিয়ে গেছি ৷ এখন আমি যাই করি তার তাই ভালো লাগে সুন্দর লাগে ৷ মনে মনে অনেক খুশী হতাম যাক পেরেছি তাহলে ৷
দিন গড়ায় ফিটনেস একদম স্লীম ৷ কিন্তু আমি যে অনেক অসুস্থ বোধ করি এটা তাকে বুঝতে দেইনা কারণ এতদিন পর সে আমাকে চোখে হারায় এটা আমি বজায় রাখবোই ৷
একদিন হঠাৎ করেই এত অসুস্থ হলাম সুস্থ থাকার নাটকটা আর করতে পারলাম না ৷

হসপিটালে যাওয়ার পর ডাক্তার কিছু টেস্ট দিলো ৷ এরপর মেডিসিন দিয়ে ছেড়ে দিলো ৷ কিন্তু আমি একেবারেই দুর্বল ৷ ও আমাকে বললো বুঝেছি চিকন হতে ডায়েট করেছো তাই এত খারাপ অবস্থা ৷ আর করা লাগবেনা হইসে অনেক ৷ এরপর আবারো অনেক অসুস্থ হলাম ৷ ডাক্তারকে ও বললো দেখেন ডায়েট করে কি অবস্থা করেছে ৷ ডাক্তার আমাকে বললো কতদিন হলো ডায়েট করছেন আর খাবার ম্যানু কি কি খান?

আমি বললাম আমি তো ডায়েট করিনা স্যার ৷ বরং আমার খেতেই ইচ্ছে করেনা একাই এভাবে ওজন কমেছে ৷
ডাক্তার শুনে বললেন আর কোন প্রবলেম ফেস করেছেন? বললাম হ্যাঁ জ্বর আসতো আবার কিছুক্ষন পরেই ঠিক হতো আর অনেক দুর্বল মাথা ঘোরে ৷ ডাক্তার বললেন এতদিনে ডাক্তার দেখিয়েছেন? বললাম না দেখাইনি ৷ উনি আবার কিছু টেস্ট দিলেন রিপোর্ট দেখার সময় আমার হাজবেন্ডকে ডাকলেন ৷ জামাই আমার বিষন্ন মুখে বের হলো ৷ বাসায় গিয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করছে সে ৷ জিগেস করলাম কি হয়েছে? আমাকে জড়িয়ে ধরে সে কি কান্না ৷

জানলাম আমার কোলন ক্যান্সার ৷
কোথায় যেনো পরেছিলাম ডায়েট ছাড়া বা অকারণে ওজন কমে যাওয়া কোলন ক্যান্সারের লক্ষণ ৷ আজ বুঝলাম কেন এভাবে শুকাচ্ছিলাম ৷
সে আমাকে বড় বড় ডাক্তার দেখালো কিন্তু আমার সময় শেষ ৷
ক্যান্সার জিনিসটা এমনিও শেষ দিকে ধরা পরে, তার ওপর আমি কখনো শরীর খারাপটা প্রাকাশ করিনি যে ডক্টর দেখাতে আসবো ৷
একদিন তাকে ডেকে বললাম এরপর স্লিম ফিগার কাউকে বিয়ে করবে ৷ সে অঝরে কাঁদছে বলছে তুমি পৃথিবীর সবচেয়ে মোটা হও তবুও আমার তোমাকেই লাগবে ৷ প্লীজ আমাকে ছেড়ে যেও না ৷
বুঝলাম ছেলেটা আসলেই ভালোবাসে আমাকে ৷ কিন্তু তাকে ভালোবাসবার জন্য সময়টা যে আমার নেই ........


এপর্যন্তই লেখা ছিলো নীরার ডায়েরীতে ৷ তার ১৫ দিন পরেই নীরা চলে যায় সাজ্জাদকে ছেড়ে ৷ আজ সাড়ে পাঁচ বছর পর সাজ্জাদ লেখাটি পরছে ৷ অঝোড়ে কাঁদছে সে, হয়তো দোষটা তারই হয়তো না পুরোটাই তার দোষ, নীরা অসুস্থ থাকলেও বুঝতে দিতোনা কারণ সে সাজ্জাদের ভালোবাসা চাইতো ৷ যদি সাজ্জাদ মোটা মোটা না করতো হয়তো এসব হাইড থাকতোনা চিকিৎসা করলে নীরা ভালো হয়ে যেতো ৷ কিন্তু সুযোগটাই যে হলোনা ৷ কিছু ভুলে সাজ্জাদের কাছ থেকে সারা জীবনের জন্য আলাদা হয়ে গেলো নীরা ৷

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:০৫
২৪টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:০১

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

ছবি, সংগৃহিত।

সারসংক্ষেপ

রমজানের রোজা ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত। সাধারণ মুসলিম সমাজে রোজা ভঙ্গের ধারণা প্রধানত পানাহার ও যৌন সংসর্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ কুরআন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভ্রমণব্লগ: আলোছায়ার ঝলকে এক অপার্থিব যাত্রা”

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬

মালয়েশিয়া আমার বেশ পছন্দের একটি দেশ। আমার জীবনের একটি অংশের হাজারো স্মৃতি এই দেশে। একটা সময় ছিল যখন এই দেশ ছিল আমার সেকেন্ড হোম।‌ এখন ও আমার আত্নীয়-স্বজন, ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধবের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ

লিখেছেন বিপ্লব০০৭, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৭



মানুষ আসলে কী?

Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×