somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অফিস কোয়ান্টারেন থেকে বলছি- ক্ষমা করে দিও

১৫ ই এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৩:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
অফিস কোয়ান্টারেন থেকে বলছি-
ক্ষমা করে দিও


জাহাঙ্গীর বাবু

অফিস কোয়ান্টারেন থেকে বলছি-
ক্ষমা করে দিও
আকাশে বাতাসে দেহের প্রতিটি কোষে
ব্যাবহারের প্রত্যেক জিনিষেই ভাইরাস দেখি।

ঘুমাতে পারিনা,ঘুম আসেনা,
তাহাজ্জুদ,ফজরের ফাঁকে দিনের ক্লান্ত সময়ে
চোখ বুঝলেই খবর পড়ি
কোরনা ভাইরাস আপডেট জানাই উচ্চ কন্ঠে।

কোথায় কতজন সংক্রমিত, কত জন মারা গেল!
সেই সংবাদে গলা ধরে আসে
চোখের পাতায় ভাসে
সুনসান নীরব স্থান কয়েক জন পুলিশ
সাদা প্যাকেটে একটি লাশ!।
একটা এম্বুলেন্স!
ইমাম কোন পুলিশ,সরকারী কোন কর্মকর্তা
নয়তো কোন অচেনা আলেম
মৌলভী,মাওলানা,মুয়াজ্জিন
লাশের কাছে নেই, আর্তনাদ,আহাজারি
লাশের পাশে নেই কোন আপন জন,
আমি যেতে চাই,দৌড়ে দাঁড়াতে চাই
জানাজায়,কে যেন টেনে ধরে,পা উঠেনা!

হঠাৎ চমকে উঠি,তন্দ্রা কাটে
দৌড়ে যাই ফ্যাক্টরির সিকিউরিটি গেটে
দেখি কেউ সাবান দিয়ে হাত ধোয়
কেউ জ্বর মাপায়
তিন ফুট দুরত্বে দাঁড়িয়ে
ধীরে ধীরে প্রবেশ করে
শরীরে চলছে টেনেটুনে, ভয়ে তটস্থ।

অস্থির মস্তিস্ক এখন,
সন্দেহ, গায়ের কোন অংশে লেগে আছে
মহামারীর এই ভাইরাস!
কি বয়ে বেড়াচ্ছি,কত গুলো বয়ে বেড়াচ্ছি
কাকে সংক্রমিত করছি
ঢাকা থেকে কলিগদের গাড়ি আসে প্রতিদিন
ধীর পায়ে কাছে যাই তিন ফুট দুরে
অচেনা সবাই,মাস্ক পরা
মাস্ক খুললেই দেখা যায়
তারাও ক্লান্ত,বিব্রত মুখ
কিচ্ছুক্ষন পর পর
হ্যান্ড স্যানিটাইজ ব্যাবহার করছে।

বড় সাহেব ফোন করে, শংকা, উদবিঘ্নতা।
অবচেতন মনে,নয়তো হু হু করে
অন্তর কেঁদে উঠে,মায়ের খোঁজ নেই।
বউয়ের কাছে ফোন,ক্ষমা করে দিও
করোনার শুরুর দিকে বউ বলতো চলে এসো
এখন বলে এসোনা, এলাকায় ঢুকতে দেবেনা
ঢুকলেও সবাইকে বের করে দেবে বাড়ির মালিক
অন্য ফ্ল্যাটের লোকেরা,তুমি ডেঞ্জার জোনে আছো!
ভাবি আমার কলিজার টুকরা
সন্তানরা নিরাপদে আছেতো!
এক রকম অফিস কোয়ান্টারেন এ
কিংবা ফ্যাক্টরী কোয়ান্টারেনে আছি
কড়া নিরাপত্তায় আছি বলাও যায়
হাইজেনিক ও বলা যায়
আবার সংক্রমনের ডিপোতেও বলা যায়।
যে যার মতো যুক্তি দাঁড় করায়
কোন মৃত্যুতেই হয়তো চুড়ান্ত রায়!

পাশের ঘরে সহকর্মীরা কয়েকদিন পর পর বাড়ি যায়,
কয়েকদিন থেকে ফিরে আসে।
বেশি দুরে না, জাস্ট পাশের জেলা
করোনা হয়তো পাশের জেলায় ছাড় দেয়,
বেশি দুরত্বেই চৌদ্দ দিনের কোয়ান্টারেন।

দশ ফুট দুরত্বেও হঠাৎ যদি কেউ
হাঁচি কাশি দেয়, বুকে চাপ দেয়
এই বুঝি হলো ড্রপলেট!

খাবার প্লেট,পানির গ্লাস,পানির টেপ
টয়লেটের কোমোড,গোসলের শাওয়ার
বেসিন,সিংক,রেন্ডম ইউজ বাই বিশ পঁচিশ জন!

সাবান দিয়ে হাত ধুই,হ্যান্ড স্যানিটাইজ করছি,দুরত্বে বসছি
চেয়ার,টেবিল,কম্পিউটার, মাউস
সবখানেই দেখি কিল বিল করছে ভাইরাস!

ফ্যাক্টরির গেটে ব্লিচিং পাউডারের পানি
ছিটায় গাড়ির চাকায়
পুরো লোহা প্লাস্টিক কাঠের কাঠামোতে
চলে স্প্রে
তবুও,স্বস্তি নেই,অস্বস্তিতেই আছি।

কি হবে আগামী দিনে,কর্মহীনতা,
বেকারত্ব,অভাব,দারিদ্রতা,
নাহ,ভাবলেই চোখে অন্ধাকার নেমে আসে
লক্ষ কোটি জীবানু চোখে ভাসে।

বিশ্বের ইতিহাসে এই প্রথম টিভির পর্দায়
বাস্তবে চোখে ভাসে কাঁটা যুক্ত,লালা
মিশ্রিত ইয়া বড় বড় দাঁত বের করা
পা আছে, হাত, চোখ কি বিদঘুটে
কোভিড উনিশ কোরোনা ভাইরাসের।

চোখে দেখা যায় না এই ভাইরাস
আমি দেখি লক্ষ কোটি ছুটে আসে
তেড়ে আসে,হাসে,হাসে,অট্টহাসি।

নিজেই দেখি নিজের মৃত্যু, অবচেতন মনে।
সিজদায় পড়ে যাই রবের,দুহাত তুলি,
আকাশের পানে চেয়ে ক্ষমা চাই,
চাই এই দৈন্যদশা,মহামারী থেকে মুক্তি।

কবিতা গুলোতে ভালোবাসা, প্রেম,মায়া
মমতা নেই,দেশপ্রেম নেই,
করোনা ভাইরাসের স্পর্শে আক্রান্ত
সংক্রমিত,কোয়ান্টারেন এর মাঝে
আইসোলেশনে থেকে মৃত্য দেখে কবিতারা।
অফিস কোয়ান্টারেন থেকে সংক্রমনের
সংখ্যা গুনে,ক্ষমা চায় আপন জনের কাছে।
ক্ষমা করে দিও।অফিস কোয়ান্টারেন থেকে বলছি।

১৫-৪-২০২০
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৩:০৮
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কারখানা বাঁচাতে পারিনি, তাই মানুষকে অটো চালাতে হচ্ছে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩৪


বাংলাদেশে এখন এমন এক অদ্ভুত অর্থনৈতিক সংকট চলছে, যেখানে একজন শ্রমিক কারখানায় বিদ্যুৎ না পেয়ে চাকরি হারিয়ে অটো রিকশা চালাচ্ছেন। সেই অটো আবার চার্জ দিতে বিদ্যুৎ খাচ্ছে। যে বিদ্যুৎ... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা কে রাখলে এমনি হবে...দাদা, যতদিন পারেন রাখেন

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:৩২



২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে বাংলাদেশ ছাড়ার পর শেখ হাসিনাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানটি ভারতের দিল্লির উপকণ্ঠে উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে (Hindon Air... ...বাকিটুকু পড়ুন

খারাপটা কোথায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৪


বিশ্বখাতায় নাম লিখিলাম পাগল
কবিতারা হেসেই মাঠে হয়ে যায় ছাগল;
ঘাস খাওয়া আনন্দটা অন্যরকম
তবু পাগল বলে কথা, পূর্ণিমায় যুগল;
আজ কাল হাঁটবাজারে হিংসাটা
কম মূ্ল্যেই বিক্রয় হচ্ছে! যোগোপযোগি
সময়টা পাগল ছাড়া চলেই না
লেখার খাতার দামটাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

আম্লিগ যদি আসে তাহলে ....... :(

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৬



বিএনপি। আপনারা ১৭ বছর ঘরে থাকতে পারেন নাই কিন্তু এখন যদি আবার আম্লিগ ফিরে আনেন তাহলে আপনারা তো দূরের কথা আপনার বাড়ির মাটিও থাকবে না। আপনার ঘর-দরজা থাকবেনা। শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরকাল কেন পাই না?

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫২

বিল গেটস এর নামে একটা কথা প্রচলতি আছে; জানি না কথাটা বিল বলেছে কি না, তবে আমার কাছে মাঝে মাঝে কথাটা সত্য মনে হয়। কথাটা এমনঃ আমি কোন কাজ করবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×