
কোন বিচার বিবেচনা ছাড়াই অপরাধীর ছবি জনসম্মুখে পেশ করা ব্যাপারটা আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। কি সাংবাদিক কি স্মার্টফোন হাতে থাকা সাধারণ মানুষ যে যার মত এক্সপোজ করে যাচ্ছে।
"মাদকবিরোধী অভিযানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২ শিক্ষার্থীর কারাদণ্ড" এইরকম শিরোনামে নিউজ হচ্ছে ,সাথে সাথে চকচকে ছবিও দেয়া। প্রথম আলো থেকে শুরু করে অনেক গুলো পত্রিকাই এমন নিউজ করছে ছবি সহ। সিরিয়াসলি? নিউজের হেডিং পড়ে মনে হচ্ছে 'মাদকের' চেয়ে 'বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট' এই ব্যাপারটা বেশি হাইলাইট করা হয়েছে। গতানুগতিক ঘটনার মত কি প্রমান করার চেষ্টা করা হয়েছে? বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বখে যাওয়া? শুধু বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবহার করলে কি নিউজ পূর্ণতা পেতো না নাকি শুধু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাই মাদকসেবী? ধরা পড়া ছাত্ররা যদি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েরও হতো সেখানেওতো প্রয়োজন নেই সরকারি শব্দটা হাইলাইট করা। মাদক সংস্কৃতি সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একই রকম। সাংবাদিকতার এথিক্সে এসবের কি ব্যাখ্যা জানা নেই।তবে স্বাভাবিক দৃষ্টিতে ব্যাপারটা খুবই বিশ্রী। একটা ছেলের মা-বাবা পত্রিকায় যখন হুট করে ছেলের ছবি দেখবে তখন কি রকম অনুভূত হবে তাদের? কিংবা একজন সাধারণ মানুষ যখন দেখবে বেসরকারি বা সরকারি কিংবা নাম উল্লেখ করা অমুক ভার্সিটির ছাত্ররা মাদক নিয়ে আটক দখন কি ভাববে? তরুণ সমাজ মাদকাসক্ত হচ্ছে এটা ভাবার আগে খুব স্বাভাবিক ভাবেই ভাববে বেসরকারি বা সরকারি কিংবা নাম উল্লেখ করা অমুক ভার্সিটি ছাত্ররা মাদকাসক্ত।
আরেকটা ব্যাপার ছবি পত্রিকায় দেয়া। এই ছবি দিয়ে তাদের শুধরানোর সু্যগ না দিয়ে ভবিষ্যৎ জীবনে মাদক সেবনের চেয়েও বড় ধাক্কার সৃষ্টি করা হলো না? যে ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে তার ভবিষ্যতের জন্য এরকম বিস্তারিত পরিচয় বা ছবিসহ নিউজ কি রকম বাজে প্রভাব ফেলবে সেটা কি একবারো ভেবে দেখেছে সংশ্লিষ্টরা? সাপ্লাই চেইন বন্ধ করতে পারছেন না অথচ সামাজিক অবস্থানের বিচারে লঘুপাপে গুরুদন্ড দেয়া হচ্ছে। মাদক সেবন খারাপ,কিন্তু এই কম বয়সীদের শুধরানোর সুযোগ না দিয়ে এক্সপোজ করে লাভ কিসে বা কাদের?
কিছুদিন আগে ধানমন্ডির ক্যাফে রিওতে একটা ছেলে লেডিস ওয়াশরুমের ভিডিও ধারণ করতে যেয়ে ধরা পড়ে। ব্যাস হয়ে গেলো ছেলেটাকে স্বীকার করানো ভিডিও ভাইরাল।অথচ ছেলেটার বয়স অনেক কম ছিল। তাকে তাৎক্ষণিক শাস্তি এবং প্রচলিত আইনে শাস্তি দেয়ার ব্যবস্থা আছে।কিন্তু এই অল্প বয়সের ছেলেটাকে এক্সপোজ কেন করতে হবে? ওই ভিডিও পুলিশের কাছে এভিডেন্স হিসেবে দিলেইতো হতো। সাথেসাথে ভাইরাল করার কি খুব বেশি প্রয়োজন ছিলো?
এখানেই শেষ না প্রায়ই দেখা যায় খুব বেশি বড় সমস্যা না হলেও অপরাধীর ছবি বা ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়াতে যে যার মত ব্যবহার করছে।অথচ লঘুপাপে এমন গুরুদন্ড ছাড়াও বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া যেতো। রাইড শেয়ারিং সার্ভিস উবার বা পাঠাওর গ্রুপে দেখা যায় ছোট ছোট সমস্যাতেও ড্রাইভার বা রাইডারের প্রোফাইল শেয়ার করে যা তা বলে অন্যদের সচেতন করা হয়। অথচ রাইড শেয়ারিং সার্ভিস গুলোতে ইনিশিয়ালি অভিযোগ করার ব্যবস্থা আছে এবং তারা বলা যায় দ্রুতই সেগুলো আমলে নেয়। সেইক্ষেত্রে ওই রাইডারের নিজীকে শুধরালেও শুধরাতে পারে।অথচ তা সেই সুযোগ না দিয়েই তার ব্যাক্তিগত জীবন জনসম্মুখে বাজে ভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১৮ রাত ৩:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




