somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উপন্যাস : অবুঝ প্রেম-৭

২১ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





উপন্যাস : অবুঝ প্রেম-ভূমিকা
উপন্যাস : অবুঝ প্রেম-১
উপন্যাস : অবুঝ প্রেম-২
উপন্যাস : অবুঝ প্রেম-৩
উপন্যাস : অবুঝ প্রেম-৪
উপন্যাস : অবুঝ প্রেম-৫
উপন্যাস : অবুঝ প্রেম-৬

-৭-

আগামীকাল শুক্রবার তাই যা করার সবকিছু আগামী কালের মধ্যে করতে হবে। সাগর তাদের প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে বিভিন্ন খরচের জন্য কিছু টাকা নিলো। পরের দিন শুক্রবার সকালে চলে গেলো মাসুদপুর টিটু মিয়ার মার্কেটে। সেখানে গিয়ে অনেক খরচ করলো। এবার তাবুর জন্য গেলো মিল্লাত ডেকরেটরে সেখানে শুধু তাবু ঠিক করলো। এখন বাকি আছে শুধু মিষ্টি অর্ডার দেওয়া। সাগর নিজে গিয়ে মাসুদপুরের সেরা মিষ্টির দোকানে। যাকে সবাই এক নামে চিনে। নির্মল ময়রার দোকানে চমচমের ব্যবস্থা করলো।

সবকিছু করা শেষ হয়ে গেলো এবার সাগরের অন্য চিন্তা ঢুকছে মাথায়। সেতো এবার বিদায় হয়ে যাবে তবে শিক্ষকদের কি উপহার দিলে তারা সবাই মনে রাখবে, আমাদের আরো বেশি ভালোবাসবে এবং দোয়া করবে। সাগর ঠিক করল তাদের স্কুলে ৩০ জন শিক্ষক শিক্ষিকা আর নদী মিলে মোট ৩১ জনের জন্য ৩১ প্রকার এবং ৩১ রংয়ের ৩১টি ডায়রি আর ৩১টি মনটেক্স কলম দিবে। তার সাথে থাকবে তাদের বাগানের ৩১টি গোলাপ আর ৩১ টি রজনীগন্ধা ফুল। যে রকম চিন্তা আর সেই রকম কাজ। সাগর তার নিজের টাকা দিয়ে ডায়রী আর কলম কিনে ফেলল। সব কিছু কেনাকাটা শেষ তারপর বাড়ীতে ফিরে আসলো।

বিকালের ভিতর স্কুলের সমস্ত কাজ শেষ হয়ে গেল। স্কুলের সমস্ত কাজ শেষে যে যার বাড়ী চলে গেলো। ঐ দিন রাতে বাড়ী গিয়ে আর কেউ পড়লো না। সবাই রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লো। সকাল হয়ে গেল।

পরের দিন সবাই একটু দেরি করে ঘুম থেকে উঠলো। ৮.৩০ মিনিটে সাগর ঘুম থেকে উঠে দাঁত ব্রাশ করে, গোসল করে। একবারে খাওয়া দাওয়া করে বাগানে গিয়ে ৩১টি গোলাপ আর ৩১টি রজনীগন্ধা ফুল নিয়ে এসে আলাদা আলাদা মোট ৩১টি পেকেট করে। সবকিছু গাড়িতে উঠিয়ে স্কুলের দিকে রওনা হলো। গাড়ি নিয়ে সোজা স্কুলের ভিতরে চলে গেল।

স্কুলের ভিতর গিয়ে গাড়ি থেকে নেমে সাগর তার বন্ধুদের ডাক দিয়ে সবকিছু তাদের হাতে দিয়ে বললো তোরা এগুলো ক্লাসে নিয়ে যা। আমি গাড়ি থেকে সবকিছু নামিয়ে দিয়ে গাড়িটা এক পাশে রেখে আসি। সাগর স্কুলের অনুষ্ঠানে সকলের সাথে অংশ গ্রহণ করবে। অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে, নিয়ম মত অনুষ্ঠান চলছে, প্রথমে সুরা ফাতিহা পাঠ পরে বিভিন্ন কবিতা আবৃতি ও সর্বশেষ নতুন পথের পথিকদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা হবে। সে ভাবেই অনুষ্ঠান চলছে। সাগর অনুষ্ঠানের মাঝে সকল স্যারকে উপহার দিবে বলে ঠিক করছে। অনুষ্ঠান যখন মাঝপথে তখন সাগর তার বন্ধুদের নিয়ে উপহার দিতে গেল। এক পাশ থেকে দেয়া শুরু করে অন্য পাশে শেষ করলো।

হাতে রইলো একটি মাত্র পেকেট। রিপন, মনির, রাজিব, আমিনুল, শাহজাদা, আনোয়ার সহ অনন্য বন্ধুরা বলছে কি ঐ পেকেটটি কার জন্যরে বন্ধু। সাগর বলে তোরাতো জানিস এটা আমি আমার নদী মানে এক মাত্র সাগরের নদীর জন্য রেখেছি বিভিন্ন ইয়ার্কি করতে করতে সাগরের চোখ পড়লো স্কুল গেটের দিকে। কে যেন একটা শাড়ি পড়ে হাটছে। তবে মেয়েটি কে খুব ভাল লাগছে। মেয়েটির হাতে আর একটি পেকেটও আছে। হাঁটতে হাঁটতে প্রায় সাগরের কাছে চলে আসলো।

সাগরের কাছে আসতে সাগর বলে উঠলো আরে এতো আমার নদী। সাগর মনে মনে ভাবে হাতের ঐ পেকেটটি আবার কাকে দিবে। নদী সাগরের কাছাকাছি এলেই দুইজনে এক সাথে বলে উঠে তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে। দুই জনে একটি কাসের ভিতর গেল অনেক কথা বলাবলি হল। নদী বলে সাগর আমি তোমাকে একটি উপহার দিবো নিবে তো। সাগর বলে নদী আমি তোমাকে একটি উপহার দিবো তুমি নিবেতো নদী। নদী বলে তুমি দিবে আমাকে তবে নিবো না কেন। সাগর বলে নদী তুমি দিবে আমাকে তবে নিবো না কেন তোমাকেতো আমি ভালোই বাসি। এই বলে দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরলো। সাগর ও নদী দুজন দুজনকে ছেড়ে দিলো। সাগর উপহারটি হাতে দিলো নদীর। নদী ও তার উপহারটি সাগরের হাতে দিলো। সাগর বলে সামনে তিন মাস আছে এস,এস,সি পরীক্ষার, তাই তুমি প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার শিকদারের ঐ পেয়ারবাগানে এসে আমার সাথে দেখা করবে। নদী বলে ঠিক আছে, প্রতিদিন বিকাল পাঁচটার সময়। কথা বলার পর দুজনে ক্লাসের বাইরে চলে গেল। কিছু সময়ের মধ্যে স্কুলের অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেল। সব ছাত্র ছাত্রীরা তাদের কাসে এসে বসলো। কিছু শিক্ষকরা ছাত্র ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে অনেক কথা বললেন। সব শেষে বললো তোমাদের আমরা দোয়া করি এবং তোমাদের সাফল্যময় জীবন কামনা করি। তোমরা ভালো ভাবে পরীক্ষা দিও ইত্যাদি বলে শিক্ষকরা একসময় চলে গেলো। এদিকে ছাত্র ছাত্রীরা মিষ্টি খাওয়া খায়ি করছে।

সকল ছাত্র ছাত্রীরা লাইব্রেরীতে গিয়ে শিক্ষকদের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করল। আর বলল আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন। আমরা যেন মানুষের মত মানুষ হতে পারি। সকল ছাত্র ছাত্রীরা সালাম করে লাইব্রেরী থেকে বের হয়ে মাঠে গিয়ে বসলো।

নদী, সাগর, রিপন, মনির, রাজিব, আমিনুল, শাহজাদা, আনোয়ার সহ আরো অনেকে এক জায়গায় বসে গল্প করছে। সাগর বলে চলো যাই যার যার বাড়ীতে। আর সামনে এস,এস, সি পরীক্ষা আমরা সেই ভাবে প্রস্তুতি নেই। সবাই যার যার থেকে বিদায় নিয়ে যার যার বাড়ীতে চলে গেল।

সকলের মাথায় একটি চিন্তা সামনে এস,এস,সি পরীক্ষা। সবার মনেও এক জিদ আমার পাশ করতে হবে। কারণ পাশ না করতে পারলে আমি কোন বন্ধুর সাথে মিশতে পারবো না, কলেজে পড়তে পারবো না। তাই সেদিন থেকে সকলের পড়ার গতি পালটে গেল। খাওয়া গোসল আর পড়া ছাড়া কিছুর সঙ্গে সম্পর্ক নেই কারও। শুধু সাগর আর নদী প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার যায় দুজন দুজনকে দেখতে শিকদারদের বাগানে। নদী সাগরের জন্য প্রতিদিন বকুল ফুলের মালা গেথে নিয়ে আসে। দুজন দুজনকে হৃদয়ে দিয়ে ভালোবাসে। মনে হয় চিরদিন এভাবেই কাটিয়ে দেবে। কোন শক্তি নেই যেন ওদেরকে আলাদা করতে পারবে। এভাবে কাটাতে কাটাতে চলে এলো এস,এস,সি পরীক্ষা। আসছে সামনে মাসের চার তারিখে বৃহস্পতিবার পরীক্ষা শুরু হবে। আর মাত্র বার দিন আছে ...................

চলবে............
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৩২
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×