মামুন ভাই, আমাদের 2 ব্যাচ সিনিয়ার ছিলো, আমরা সবাই সন্ধ্যায় এক বন্ধুর বাসায় আড্ডা দিতাম, সেই বন্ধুর বড় ভাইয়ের ফ্রেন্ড, একেবারে সরল মনের মানুষ, তবে এই যুগে সরলতার দাম নেই কোনো তাই বিভিন্ন সময়েই তাকে নিয়ে উৎকট সব রসিকতা হতো। সেসব রসিকতার কয়েকটা এখন পেশ করি।
আমরা বিকালে যেখানে খেলতে যেতাম তার সামনেই আদর্শ কলেজ, আদর্শ কলেজের সামনে চারু বাবুর মাঠ। সেখানে মাঝে মাঝেই ক্রিকেট টুর্নামেন্ট খেলতে যাওয়া হতো। মামুন ভাইয়ের বাসা চারুবাবুর মাঠের পিছনের দিকে।
অপু ভাই একদিন সন্ধ্যায় নিরিহ চোখে প্রশ্নটা তুললো,
আচ্ছা মামুন এই যে চারুবাবুর মাঠের পাশে থাকিস, তুই কি চারু বাবুকে দেখছিস?
চারু বাবু তো মরে গেছে, কি বলিস তোরা, ওকে দেখবো কিভাবে?
ঘটনার ফোড়ন দিতে বাকি বন্ধুদের চোখ বড় বড় হয়, কি বলিস মামুন তুই? চারুবাবু মারা গেছে, চারু বাবু মারা গেলো কবে?
সত্যি শালারা চারু বাবু মারা গেছে, তবে মামুন ভাইয়ের গলায় আগের জোড় নেই, একটু সংশয়।
এই সংশয়ের সুত্র ধরে অপু ভাইয়ের তীর, বেটা তুই চারু বাবুকে চিনিস না এটা শুনলে লোকজন তোকে দিনাজপুর থেকে বের করে দিবে। দিনাজপুরের ছেলে হয়ে তুই চারুবাবুকে চিনিস না?
মামুন ভাইয়ের গলা প্রায় মিনমিনে হয়ে যায়, আবে কি বলিস তোরা চারু বাবু বেঁচে আছে নাকি, ও তো অনেক আগেই মরে গেছে।
এর পর সমবেত বন্ধুদের ঘোষনা, তোকে 7 দিন সময় দিলাম এর মধ্যে চারু বাবুকে খুজে বের করে আমাদের জানাবি?
মামুন ভাই প্রতিবাদি, আবে যা যা যে মরে গেছে তাকে কিভাবে খুঁজবো, তোরা দেখছিস নাকি?
সবাই দৃঢ় স্বরে জানায় চারু বাবুকে চিনে না এমন একমাত্র গাড়ল শু ধু মামুন।
মামুন ভাই অবশেষে আড্ডা ছেড়ে যান, চারু বাবুকে খুঁজতে।
এক সপ্তাহ পরের ঘটনা, আবার আড্ডায় সবাই উশখুশ করছে আসলেই মামুন ভাই চারু বাবুকে খুঁজে পেলো কিনা।
মামুন ভাই ম্লান স্বরে জানায়, নাহ অনেক খুঁজলাম চারু বাবুকে দেখলাম না।
বিভন্ন জন বিভিন্ন শাস্তির সুপারিশ করছে, তার বেশীর ভাগই খাওয়ার আবদার।
সেলিমের কাবাব, নিউ হোটেলের চা, সানন্দার সন্দেশ, লিস্ট বাড়তে থাকে, মামুন ভাইয়ের চেহারাও বদলাতে থাকে, একটা পর্যায়ে বিস্ফোরিত হয়, বালগুলা তোরা আগে বল চারু বাবু কে, তার পর এসব কথা।
মিঠু ভাই গম্ভ ীর মুখে বলে, তুই বাজারে গেছিস, বাজারের কোনায় এক লোক বসে বসে কাগজের ফুল বেচে দেখছিস?
মামুন ভাই সম্মতি দেয় হ্যা দেখছি কেনো?
আরে বেটা ওইটাই তো চারু বাবু।
তাই নাকি, মামুন ভাইয়ের বিস্মিত স্বর, শালা , জানিস আমারও না সন্দেহ হয়েছিল ও বাঞ্চোতই চারু বাবু।
এর পরের ঘটনা ঘটে এলিফ্যান্ট রোডে, সেখানে এক বাসার 7ম তলায় তপু অপু ভাই এবং বিপু ভাই থাকে। আমিও মাঝে মাঝে সেখানে যাই আড্ডা মারা শেষ হলে সেখানেই রাত কাটিয়ে পরের দিন ফিরে আসি।
তখন অপু ভাই ইতিহাসের ছাত্র। টিপু আরিফ চারুকলায়, মুয়িদ ভাই ঢাকা কলেজে, এবং এদের আরও কিছু কমন বন্ধু আসতো সে বাসায়।
বিপু ভাই ডেইলি স্টারের সাংবাদিক, রাশভারি মানুষ, সুতরাং আড্ডা জমতো অপু ভাইয়ের ঘরে,
সেখানে আবার মামুন ভাইকে ধরা হয়। মামুন ভাই তখন যাদবপুরের ছাত্র। কোলকাতা থেকে ফিরে সবাই কে কোলকাতার গল্প শোনাচ্ছেন।
টিপু শুরু করে, তো মামুন কোলকাতা চিরিয়া খানায় গেছিস?
হঁ্যা।
আরিফের প্রশ্ন, বোটানিক্যাল গার্ডেন?
হঁ্যা।
অপু ভাইয়ের প্রশ্ন, আচ্ছা ওখানে যে মানুষখেকো গাছটা আছে ওইটা দেখছিস?
মামুন ভাই সরূ চোখে তাকিয়ে বলে বেটা গুল দিবি না, মানুষখেকো গাছ মানে, আমাকে বলদ পাইছিস।
সব বন্ধুই গম্ভ ীর হয়ে যায় মামুন ভাইয়ের উত্তরে,
আবে না, তুই তপুকে জিজ্ঞাসা কর, ওতো গত মাসেই আসলো কোলকাতা থেকে , ও দেখছে কি না?
মামুন ভাই তপুকে জিজ্ঞাসা করে কি তপু দেখছো তুমি মানুষ খেকো গাছটা?
হঁ্যা দেখছি তো, কেনো আপনি দেখেন নি?
মামুন ভাইয়ের আত্মবিশ্বাসি স্বরে একটু সন্দেহ আসে, বন্ধুরা ফাজলামি করতে পারে কিন্তু বন্ধুর ছোটো ভাই এমনটা করবে না।
যাই হোক তার পরও মামুন ভাই দৃঢ় কণ্ঠেই বলে না মানুষ খেকো গাছ বলে কিছু নাই।
আচ্ছা তুই বিপু কে জিজ্ঞাসা কর, অপু ভাইয়ের প্রস্তাব।
মামুন ভাই ভরসা পায় মনে, বিপু ভাই অন্তত ফাজলামি করবে না। তো মামুন ভাই যায় বিপু ভাইয়ের ঘরে, গিয়ে প্রশ্ন করে, আচ্চা বিপু ভাই কোলকাতার বোটানিক্যাল গার্ডেনে না কি মানুষখেকো গাছ আছে?
হঁ্যা দক্ষিন পশ্চিম কোনটায় আছে, ওখানে তো কিছু গাছ কাটাতারের বেড়া দিয়ে আলাদা করে রাখা, তুমি দেখো নি?
মামুন ভাই ফিরে আসে, এবং এর পর সবাই বলে কি হইলো মামুন বিপু ভাই কি বললো?
মামুন ভাই সব বলে অবশেষে উপসংহার দেয়, আসলেই দক্ষিন পশ্চিম কোনে মানুষ যায় কম, ওখানে সে গিয়েছিলো তবে নির্জন দেখে ফিরে এসেছে,
এবার কোলকাতা গিয়েই সে মানুষখেকো গাছ দেখে আসবে।
মামুন ভাই যাওয়ার পর বন্ধুরা একটা প্রস্তাব রাখে, এবার বাংলা একাডেমিতে গিয়ে মামুন বলে নতউন একটা শব্দ প্রস্তাব করতে হবে যেটার বহূমুখী ব্যাবহার থাকবে, এটা সরল নির্বোধ, বেকুব ইত্যকার যাবতীয় অর্থ বহন করবে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




