somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসুন একটি মেয়েকে বাচিয়ে তুলি

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ রাত ৯:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




গতকাল রাতে ঘুম আসছিলনা। এফএম রেডিও অন করতেই এক তরুনীর কণ্ঠস্বর আমাকে আটকে দিলো। সে তার জীবনের গল্প বলতে ছিলো। উপস্থাপক গুরুর কাছে।
তার দুইবোন,এক ভাই। বাবা হঠাৎ করে মারা যাওয়ায় মেয়েটির উপর এসে পড়ে সকল দ্বায়িত্ব। নিয়তি কে মেনে নেয় সে। টিউশনী আর সেলাই কাজ শুরু করে। চলে লেখা পড়াও। ছোট ভাইবোনরাও লেখা পড়ার পাশাপাশি টিউশনী করতে শুরুকরে। মেয়েটির স্বপ্ন এই সমাজে একদিন সে তার ভাইবোনকে সংঙ্গে নিয়ে মাথা উচু করে দাড়াবে। সমাজ দেখবে অকালে পরিবারের প্রধান চলে গেলেও মধ্যেবৃত্ত এই পরিবারটি থেমে যায়নি। মেয়েটি তার পরিবারকে নিয়ে যুদ্ধে নামে। তার ভাই লেখা পড়ার পাশাপাশি থাই মিস্তির কাজ করতে থাকে।
চারজন মানুষের সংসারটা ধুকে ধুকে চলতে থাকে। তিন বেলা ডাল ভাতের জোগাড় করতেই কষ্ট হচ্ছিলো তাদের। তারপরও তারা থেমে যায়নি।
একসময় মেয়েটি আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন পূরন হয়। সে ঢাকায় একটি চেম্বারের সহকারী আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করে।
পরিবারটির মুখে হাসি ফুটে।
কিন্তু সেই হাসি মিলিয়ে যেতে সময় লাগেনি।
মেয়েটি একদিন জানতে পারে তার ব্রেনে জন্ম নিয়েছে টিউমার। যেটি তাকে মৃত্যু ছোবল দিতে প্রস্তুত!

আমি তার কথা শুনতে থাকি। রাত গভীর হচ্ছে। আমি টের পাই আমার বুকের ভেতর জন্ম নিয়েছে মেয়েটির জন্য ভালোবাসা। মনে হয় ও যেন আমার বোন।
সাবিনা নামের মেয়েটি কখনোই তার বুকের কষ্ট গুলি শেয়ার করতো না। অভাবী ভাইবোর আর মায়ের কাছে সে লুকিয়ে রাখছিলো তার চাওয়া পাওয়ার সকল ইচ্ছে।
খুব বেশি মন খারাপ হলে লুকিয়ে কাদতো। নিজের যন্ত্রনা সে কখনোই শেয়ার করতে চায়নি।
অথচ আজ সে এফএম এর লক্ষ শ্রোতার কাছে বলছে তার কষ্টের কথা।
অভাব অনটনের সাথে যুদ্ধকরা মেয়েটির কণ্ঠস্বর একসময় থেমে যায়। অজ্ঞান হয়ে লুটিয়ে পড়ে সে।
সরাসরি প্রচার হওয়া এই অনুষ্ঠানের কর্মর্কতার আর স্রোতারা আতংঙ্কিত হয়ে পড়ে। রেডিও তে আমরা অপেক্ষা করি।
একসময় তাকে রেডিও ষ্টেশনের ছাদে নিয়ে রাতের ঢাকাকে দেখিয়ে উপস্থাপক প্রশ্ন করে, কেমন লাগছে তোমার?
সাবিনা আবেগ ভরা কণ্ঠে বলে আমি এত সুন্দর পৃথিবীকে ছেড়ে যেতে চাইনা, আমার ভীষণ বাঁচতে ইচ্ছে করে!
রেডিও তে আমি সাবিনার মুখ না দেখতে পেলেও তারে অনুভব করি। বুকের ভেতর শূন্যতাকে প্রশ্ন করি, কেন এমন হয়? কেন মানুষকে এতো দ্রুত চলে যেতে হয়। কেন স্বপ্নরা অধরাই থাকে???

আমার চোখ বেয়ে অশ্রু নামে।
আমি আল্লাহর কাছে অনুনয় করি, হে পরম করুণাময়, তুমিতো অসিম দয়ালু। একটু দয়া করে। প্রিয়বোন সাবিনা কে আর কটা দিন বাচিয়ে রাখো।
রেডিওতে সাবিনার মায়ের কণ্ঠ ভেসে আসে।
‍ ‍.........বাবারা তোমরা আমার মেয়েটার জন্য কিছু করো। আমার দুটো কিডনি বিক্রি করে দাও, আমার দুটো চোখ বিক্রি করে দাও। আমিতো বৃদ্ধ অক্ষম আমার আর কিছু নেই। আমার জীবনের বিনিময়ে ও বেচে থাকুক!
আমি বিছানা ছেড়ে বারান্দায় গিয়ে দাড়াই। আকাশে আজ অনেক তারা, সাবিনাও কি একটি তারা হয়ে যাবে?
সাবিনার মাকে উদ্দেশ্য করে বলি,
মা বিদেশ নিয়ে সাবিনার চিকিৎসার জন্য যে পনেরো লক্ষ টাকা দরকার তা হয়ত আমার কাছে নেই।
আমি আমার সাধ্যমত দিবো। কিন্তু তা হয়ত সামান্যই। কিন্তু আমার হাতে কলম আছে। যে কলম দিয়ে কত মানুষকে আমি বিনোদন দিয়েছি।
আমি সাবিনার জন্য সেই কলম নিয়েই ভিক্ষায় নামবো।
আমি গভীর আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলতে পারি আমার দেশ বিদেশের বন্ধুরা আমার চেয়ে বেশি আবেগ প্রবণ। তাদের হৃদয় অনেক বড়। মাত্র ১০০ টাকা করে যদি পনেরো হাজার মানুষ বিকাশ করে, অথবা সাবিনার এ্যাকাউন্টে ডিপোজিট করে তবে পনেরো লক্ষ টাকা হতে বেশি সময় লাগবেনা।
Click This Link
এই পেজে গিয়ে বিস্তারিত জেনে আপনিও এগিয়ে আসুন।
জানিনা সাবিনাকে আল্লাহ কত দিন হায়াৎ দিয়ে পাঠিয়েছেন। তবে আমরা যে সৃষ্টির সেরা জীব ! আমরা আমাদের অসহয় একজন বোনকে এত সহযে ছাড়বো কেন?
অনুষ্ঠান শেষ হবার আগেই গভীর রাতে রেডিও ষ্টেশনে একদল মানুষ পাগলের মত ছুটে যায়। তারা সাবিনাকে অভয় দেয়। সেই সাথে তারা খিছু টাকাও তুলে দেয়। ৫০,০০০ টাকা সরাসরি ওখানেই কালেকশন হয়েছে এবার আপনার পালা...
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ রাত ৯:৪৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা: আমরা সবাই ইনসাফের লোক—যতক্ষণ না নিজের স্বার্থ ছাড়ার প্রশ্ন আসে!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

একজন মানুষ অসুস্থ বোধ করছেন। ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে কাতর কণ্ঠে বলছেন, একটু বসতে দেবেন? শরীরটা ভালো লাগছে না। আশপাশে মানুষ আছে, আসন আছে, চলমান ট্রেন আছে—শুধু তাঁর জন্য একটু জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ৬১টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট, প্রায় ৫১–৫২ আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: প্রায় ৪৯–৫১ আসন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×