একটানা বসে কাজ করলে, অনেকটা সময় কম্পিউটার/টেলিভিশনের দিকে তাকিয়ে থাকলে এবং শোয়া-বসার ভঙ্গিমায় সমস্যা হলে যন্ত্রণাদায়ক ঘাড় ব্যথা শুরু হয়ে যায়। অনেক সময় এই ব্যথা এত বেশি বেড়ে যায় যে কাজ করতে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়। ঘাড় ঘোরানো কিংবা নড়ানো যায় না।
তাই একটানা বসে কিছু করা একেবারেই উচিৎ নয়। এবং কিছুটা হলেও ঘাড়ের যত্ন নেয়া উচিৎ। প্রতিদিন অন্তত ৫ মিনিট সময় বের করে ঘাড়ের ব্যায়াম সেরে নেয়া সকলের জন্য ভালো। এতে ঘাড়ে ব্যথার যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাবেন।
ব্যায়াম-১
একটি পেন্সিল বা কলম নিয়ে দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরুন। এবার এই অবস্থাতেই বাতাসে অর্থাৎ আপনার মুখের সামনেই শুধুমাত্র ঘাড় ঘুরিয়ে লেখার চেষ্টা করুন। নিজের নাম, ঠিকানা ইত্যাদিসহ যা মন চায় লিখুন। এতে করে ঘাড়ের পেশীগুলোর বেশ ভালো ব্যায়াম হয়ে যাবে। তবে প্রথম দিনেই অনেক বেশি করবেন না। ১/২ মিনিট করুন। এভাবে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে উঠলে লেখার মাত্রা বাড়ান।
ব্যায়াম-২
ঘাড় সোজা রেখে সামনের দিকে তাকান। এবার ঘাড় ঘুরিয়ে একবার ডানে তাকান, সামনে তাকান এবং শেষে বামে তাকান। আবার বাম থেকে সামনে এবং শেষে ডানে তাকান। এভাবে ঘাড় ঘুরিয়ে প্রতি দিকে ১০ বার করে তাকান। এরপর ঘাড় পেছনের দিকে করুন অর্থাৎ মাথা পিঠের দিকে হেলিয়ে নিন। এবার একইভাবে আবার প্রতি দিকে ১০ বার করে তাকান। দেখবেন ঘাড়ের ব্যথার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন।
ব্যায়াম-৩
ঘাড় সোজা করে সামনের দিকে তাকান। এবার বাম হাত বাম কাঁধের ওপর রাখুন। ডান হাত মাথার উপর দিয়ে ঘুরিয়ে বাম কানের ওপর রাখুন। এবার ধীরে ধীরে ডান হাতের চাপ প্রয়োগ করে মাথা ডান পাশে হেলিয়ে দিন। ১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন, এরপর ঘাড় সোজা করে নিন। একইভাবে বাম পাশ করুন। এবারে ৪-৫ বার করুন।
ব্যায়াম-৪
প্রতিদিন গোসলের সময় পানির ধারায় দাড়িয়ে একটি কাজ করুন। ঠাণ্ডা পানি দিয়ে থুঁতনির অংশ ম্যাসেজ করতে থাকুন। চাইলে মাঝে গরম পানি দিয়েও ম্যাসেজ করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন শুরু এবং শেষে ম্যাসেজ করবেন ঠাণ্ডা পানি দিয়েই।
দিনে মাত্র ১ বার করে এই ব্যায়াম করলে বেশ ভালো ফলাফল পাবেন। তবে এর চাইতে বেশি ব্যায়াম করতে যাবেন না ঘাড়ের জন্য। কারণ অতিরিক্ত ব্যায়ামের ফলে ঘাড়ের চামড়ায় বলিরেখা পড়ে যেতে পারেন।
(সংগৃহীত)

সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



