নামের সাথে বংশগত উপাধি ও অর্জিত উপাধিঃ
উপাধি সাধারণত দুই ধরণের হয়- বংশগত উপাধি এবং অর্জিত উপাধি। বংশগত উপাধিগুলো হচ্ছে মিয়া, শেখ, চৌধুরী, তালুকদার, নাথ, দাশ, দত্ত, ভট্টাচার্য্য, চট্ট্যোপাধ্যায়, বন্দ্যোপাধ্যায়, শীল ইত্যাদি।
অর্জিত উপাধিগুলো হচ্ছে প্রেসিডেন্ট, স্পীকার, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি, বিচারপতি, ম্যাজিস্ট্রেট, ব্যারিস্টার, উকিল, ডাক্তার, প্রকৌশলী, মেয়র, কমিশনার, চেয়ারম্যান, সচিব, অধ্যাপক, ভাইস চ্যান্সেলর, গবেষক, পাইলট, অফিসার, পেশকার, তহশিলদার, ব্যবসায়ী, ড্রাইভার, মেকানিক, মেথর, ঝাড়ুদার, পিয়ন, দপ্তরী ইত্যাদি।
বংশগত উপাধিতে বংশধরদের কোন পরিশ্রম নেই। বংশ পরম্পরা নামের সাথে আপনা আপনি জড়িয়ে যায়। কিন্তু সম্মানজনক উপাধি অর্জন করতে পরিশ্রম করতে হয়। অধ্যাবসায়, পরিশ্রম ছাড়া সম্মানজনক উপাধি তেমন একটা অর্জন করা যায় না। তবে এখন পেশাগত ও সামাজিক স্বীকৃত সম্মানিত বড়ো বড়ো জাতীয় পুরস্কার ও পদবীগুলোর বেশীরভাগই পদলেহন করে দখল করে। যেমন, বর্তমানে রাজনৈতিক ভাবে অর্জিত 'জনপ্রতিনিধি' পদগুলো সম্মানের চাইতে বেশীরভাগই অসম্মানের এবং সাধারণ মানুষের কাছে ভয়ের!
বিদ্যা, পরিশ্রম, চেষ্টা এবং ভাগ্য অনুপাতে ছোট বড় অর্জিত উপাধি নামের সাথে লেগে থাকে। কিছু অর্জিত উপাধি আছে অত্যন্ত সম্মানজনক। কিছু অর্জিত উপাধি রয়েছে মাঝারি মানের এবং কিছু আছে যেগুলোকে নিম্নমানের বলে মনে করা হয় যা মোটেই ঠিক নয়। অর্জিত উপাধির সাথে জীবিকা নির্বাহের একটি সরাসরি সম্পর্ক আছে।
স্বাধীন বাংলাদেশে বংশগত এবং পেশাগত উভয় পদবী চুরি এবং ছিনতাই হওয়ার প্রমাণ দেখেছি। এগুলো সাধারণত টাকা ও ক্ষমতা কেন্দ্রীয়। যেমন- মল্লিক, মৃধা, কাহার, শীল, বাড়ৈ, রাঢ়ী বংশপদবীর লোকদের মধ্যে কেউ কেউ চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণ খুনের মতো মস্ত বড়ো অপরাধ করে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে শহরে এসে নয়ছয় করে অনেক টাকাপয়সার মালিক হয়ে গিয়েছে। অথবা পরিশ্রম করে লেখা পড়া শিখে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা কিম্বা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় একটা ভালো অবস্থান করে নিয়েছে, তখন তারা সুকৌশলে বংশ পদবী পরিবর্তন করে। তখন তাদের অনেকেই নামের আগে এসএম/কেএম যোগ করে। অর্থাৎ যার নাম ছিলো শুধু কোব্বাত আলী সেই লোকই এসএমকে আলী। মানে- সৈয়দ /শেখ /মির্জা/ কাজী মোহাম্মদ কোব্বাত আলী হয়ে যায়। এমন উদাহরণ সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব বেশী দেখা যায়। যেমন, আমরা যারা ফেসবুক করি তারা সবাই পীর, জমিদারের বংশধর, বিএসসি ফেল করেও বিদেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিরাট বিরাট ডিগ্রী অর্জন করা স্বঘোষিত স্কলার!
আগে বংশগত পদবীর প্রাধান্য ছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে অর্জিত টাইটেল এবং ছিনতাই করা পদবী বংশগত টাইটেলের স্থান দখল করে নিচ্ছে।
*************

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



