কিভাবে লেখক বা লেখিকা হবেন ......
ফেসবুকে নানান গ্রুপ আছে। এইসব গ্রুপে লোকজন নানান প্রশ্ন করেন। একজন লিখেছে - 'লেখক হতে চাই-হেল্প করবেন'। আর একজন লিখেছেন - 'লেখিকা কিভাবে হবো, প্লিজ জানান'।
একদা স্টেশনের বুকস্টলগুলিতে অদ্ভুত অদ্ভুত বই বিক্রি হতো - 'কিভাবে বুদ্ধিদীপ্ত কথা বলবেন', 'কিভাবে বড়োলোক হবেন', 'আপনিও সফল হবেন?- ইত্যাদি। আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে লেখক বা লেখিকা হবার রাস্তা দেখিয়ে দিতে পারি।
লেখক হওয়া খুব সহজ। পায়খানা করার চেয়েও সহজ হল লেখা। কারণ, পায়খানা না পেলে তা করা যায় না। কিন্তু, লেখা চাইলেই লিখে দেওয়া যায়।
প্রথমেই ফেসবুকে আপনার বন্ধুর সংখ্যা ১০০০ হতে হবে। কারণ লেখায় লাইক না পেলে লেখক হবেন কি করে? ১০০০ বন্ধু থাকলে ১০০ লাইক পেতে পারেন। কাজেই আপনার ফ্রেন্ডলিস্ট নামক খোঁয়াড়ে যত বেশী গরু ছাগল থাকবে, আপনার লাইক তত বাড়বে। আপনার ফ্রেন্ডলিস্টে আপনার আত্মীয় স্বজনরা যেমন থাকবে তেমনি পাশের বাড়ির ভাবী, পাড়ার বেকার ভাইব্রাদার যত বেশী থাকবে আপনার তত মঙ্গল। এবার আপনার ফ্রেন্ডলিস্টকে কয়েকটি দলে ভাগ করা যাক। আপনি লেখা পোস্ট করলে প্রথম দল একটুও না পড়ে, কিমবা দু তিন লাইন পড়ে লাইক দেবে। দ্বিতীয় দল 'মন ছুঁয়ে গেলো', 'দারুণ হয়েছে', 'দারুণ লিখছিস', 'কিছু বুঝলাম না, কিন্তু ভালো লাগলো' , এইসব কমেন্ট করবে। তৃতীয় দল মাঝে মাঝে লাইক বা কমেন্ট করবে। চতুর্থ দল আপনার লেখার সমালোচনা করবে। এরা একটু ডেঞ্জারাস। আর পঞ্চম দল আপনার লেখা দেখলেই এড়িয়ে যাবে- এরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ।
এবার আসল কথা- কি লিখবেন। লেখক-লেখিকা হতে গেলে তো কিছু লিখতে হবে। খুব সম্ভবত জ্যাক কেরুয়াক উপন্যাস লেখা সম্পর্কে বলেছিলেন - "যে কোন একটা তারিখের কথা ভাবো। এবার সেই দিন কি কি করেছিলে মনে করো। সেগুলো লিখতে থাকো, একের পর এক। এভাবেই একটা উপন্যাস শুরু করে ফেলা যায়"। ফেসবুকে আপনি যা খুশি লিখুন, সেটাই লেখা। আপাতত গদ্যর কথা বলছি। ধরুন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন। দেখলেন একটা ষাঁড় রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে। সেটাই লিখুন। ষাঁড়ের বর্ণনা, তার চোখ, তার হাসি, তার নাক, গায়ের রং, পারসোনালিটি, ফিগার, লেজের লোম কতো লম্বা, ষাঁড়ের চারপাশে কারা ছিল ইত্যাদি। এটাই লেখা। তবে বড়ো না লেখাই ভালো। গুগুল বা ইন্টারনেট ঘেঁটে যেকোনো বিষয় সম্পর্কে জেনে, জাস্ট বাংলা ভারসান নামিয়ে দিন। এটাও লেখা। মোট কথা যা লিখবেন সেটাই লেখা। ধরুন, ২১ শে মে একটা দিন। ওইদিন কার জন্মদিন দেখুন। তারপর তার সম্পর্কে ইন্টারনেট থেকে ঝেঁপে একটা টাটকা মাল নামিয়ে দিন। প্রতিবাদমার্কা কিছু একটা নামিয়ে দিন। যেদিকে তাকাবেন প্রতিবাদের স্কোপ। বার বার দাস্ত হচ্চে, এর জন্য রাষ্ট্র কে দায়ী করে একটু ইন্ডিয়া /পাকিস্তান ঘষে পোস্ট নামান। ভাইরাল হয়ে যেতেও পারেন।
এবার কবিতা।
এটা একটু কঠিন বিষয়। আপনার যদি সারাক্ষণ মন খারাপ থাকে, আপনার জীবনে কোনো কাজ না থাকে তাহলে জাস্ট কিছু কঠিন ইনটিমিনটি শব্দ পরপর বসিয়ে দিন। ব্যাস, কবিতা নেমে যাবে। উদাহরণ দিচ্ছি -
‘মনখারাপের জন্য কত কিছু ভুলে যাই,
রান্নায় নুন দিতে, কমোড ফ্লাশ করতে,
গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেতে
কিন্তু তোমাকে ভুলিনা'!
কত সহজ বলুন তো!
আর একটা সহজ উদাহরণঃ
'শাহজাহান মমতাজের জন্য তাজমহল গড়েছিল,
আর তুমি আমার জন্য একটা কাচা পায়খানাও বানালে না'।
দেরী করবেন না।
কেন অন্যের পোস্ট না পড়ে জাস্ট লাইক মেরে আর কমেন্ট করে লাইফ কাটাবেন। আপনিও হয়ে যান লেখক। আপনাকে লিখে যেতে হবে, থামলে চলবে না। লিখতে থাকুন। যা প্রাণ চায় লিখুন। কিছু ফরমুলা বলে দিলাম, ট্রাই করুন, বিফলে মূল্য ফেরত। আর ফ্রেন্ডলিস্টে লোক বাড়াতে থাকুন। এরাই আপনাকে একদিন লেখক বানাবে। আপনি ভাবুন আপনি দারুণ লিখছেন। আপনি ভাবুন, আপনি না লিখলে ব্লগ/ফেসবুকবাসীর বড় ক্ষতি হয়ে যাবে! আর বাজারি কাগজ বা পত্রিকায় লেখেন এমন লেখক-লেখিকাদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান। তাঁদের পোস্ট এ লিখুন - 'কি অপূর্ব লেখা', 'কিকরে লেখেন এমন', 'শুধু কাঁদছি', 'বলার ভাষা নেই'!
আর হ্যা, প্রতিদিন বিভিন্ন উছিলায় কিম্বা অকারণে নিজে চেহারা খিছুন এবং মাঝে মাঝেই বাড়ির কুকুর বিড়াল, হেঁসেলের ছোলার ডাল, ছাগলের দুধ দিয়ে বিরিয়ানি, হারপিকের বোতল ইত্যাদির ছবি পোস্ট করবেন। এগুলো করার মানে এটাই যে, আপনিও লেখালিখির জগতে আছেন। ইনবক্সে খাজুইরা আলাপ করুন।
আমার ফেসবুক লিংকঃ https://www.facebook.com/profile.php?
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৪ বিকাল ৩:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



