কোলকাতার একটি দৈনিকে একটি বিজ্ঞাপনঃ
“আমি ৭০ বছরের একলা মানুষ। তবে এখনো সক্ষম, নিজের সব কাজ, বাজার হাট, রান্নাবান্না ও নিজের দেখাশোনাটাও নিজেই করতে পারি। তেমন কোন রোগব্যাধিও নেই। অবসরপ্রাপ্ত, মাসিক রোজগার ২০,০০০ টাকা।……….”।
না এটা কোন 'পাত্রী চাই' এর বিজ্ঞাপন নয়। এটা এক বৃদ্ধের অসহায় নিঃসঙ্গতার বহিঃপ্রকাশ যেখানে উনি চাইছেন কেউ ওনাকে দত্তক নিয়ে ওনার বাকি জীবনের নিঃসঙ্গতা দূর করুক। ভরণ পোষণের দায়িত্ব নয়, সে সামর্থ্য তার আছে। যা নেই তা হল সহচর্য্য। স্ত্রী গত হয়েছেন, ছেলেও দূরদেশে- প্রায় যোগাযোগ হীন। তাই তিনি চান একটা সুন্দর পরিবার, যারা দেবে তার শেষের কটা দিনের জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া পরিপূর্ণ পারিবারিক সঙ্গ সুখ, অসুস্থতায় একটু সহমর্মিতা। বিনিময়ে তিনি তার তিন বেডরুম ফ্ল্যাটের দুটি বেডরুম শেয়ার করতেও রাজী। নার্সিং হোমের পেশাদারি আয়াকে তার বড় ভয়। ভয়, একলা পরিজনহীন মরণকে বরণ করতে। বন্ধ দরজার আড়ালে মরে কাঠ হয়ে থাকা!
হ্যাঁ এটাই এখন বাস্তব। কোথাও অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধা বা কোথাও সাথী হারা এককের দীর্ঘশ্বাস। ছেলে-মেয়েরা তাদের ক্যারিয়ারের চাপে অন্যত্র বা প্রবাসী। এরা এক অদ্ভুত প্রজন্ম, যেনতেন প্রকারে নিজেকে প্রজেক্ট করে সিঁড়ি ভাঙ্গা ওপরে ওঠার তাগিদে তাদের সময় নেই এনাদের সঙ্গ দেবার।
একাকী মানুষের একেকটা দুপুরকে মনে হয় নির্জন দ্বীপ। বিষণ্ণ দুপুরে মনের আয়নায় উঁকি দিয়ে যায় কাল্পনিক উঠোনে খেলে বেড়ানো নাতি নাতনিদের হৈচৈ, প্রয়োজনে বিছানার পাশে প্রিয়জনের উপস্থিতি। দীর্ঘ নিশ্বাসে ভারি হয়ে ওঠে বাতাস। শুকনো প্রতিশ্রুতি আর সমবেদনাতে আরও বেশি জ্বালা ধরায়।
অতীত জীবনের রঙিন ক্যানভাসটাকে মনে হয় অযত্নে পড়ে থাকা ধুলোয় ভরা কালো মলিন একটা ছবি। যেখানে অস্পষ্ট কিছু সোনালি আলোর ফুলকি জোনাকির মত ফুটে উঠে সপ্তাহ শেষে মুঠোফোনে নাতির “হাই দাদু” সম্বোধনে আবার হারিয়ে যায় বর্তমান স্মৃতির অন্ধকারে।
প্রশ্ন জাগে এরজন্য কি আমরাই দায়ি নই?
যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যৌথ পরিবার থেকে ছিন্ন হয়ে অনু পরিবার হয়ে এখন এই পরমাণু জীবনে বাধ্য হয়েছি। ছোটবেলা থেকে সন্তানদের জীবন থেকে শৈশব কেড়ে নিয়ে জীবনে ইঁদুর দৌড় প্রতিযোগীতার পাঠ দিয়ে এক একটা রোবট তৈরী করেছি! বারে বারে স্মৃতিতে ভেসে ওঠে সংসারে ছবি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


