somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

অবিদ্যা...

১১ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১০:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অবিদ্যা...

একদা বাদশা আকবর তাঁর সভাসদ বীরবল কে প্রশ্ন করলেন, "বীরবল, অবিদ্যা কি?"
বীরবলঃ "জাহাঁপনা, এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমাকে ৪ দিন ছুটি দিতে হবে, ফিরে এসে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব!"
বাদশা আকবর তাঁকে ৪ দিন ছুটি দিলেন।

বীরবল এক মূচির কাছে গিয়ে বললেন, "ভাই একজোড়া জুতো বানিয়ে দাও।"
মূচি বলল, "ঠিক আছে হুজুর, মাপটা দিন।"
বীরবল বললেন, "ওসব মাপ টাপ ছাড়, দেড় হাত লম্বা আর একহাত চওড়া জুতো বানাও, আর ওতে কিছু হীরে জহরত জুড়ে দাও। সোনা আর রুপোর সুতো দিয়ে সেলাই করো, টাকার চিন্তা করো না, যা দাম হবে তাই পাবে, দরদাম করব না।"
মূচী বলল, "ঠিক আছে, কিছু টাকা আগাম দিন, আর ৩ দিন বাদে এসে নিয়ে যাবেন।"

তৃতীয় দিন পুরো টাকা দেওয়ার আগে বীরবল মূচিকে দিয়ে প্রতিজ্ঞা করিয়ে নিলেন যে ও এই জুতোর গল্প কারও কাছে কখনও করবে না।

তারপর বীরবল একপাটি জুতো নিজের কাছে রেখে অন্য পাটিটা মন্দিরের সামনে রেখে দিলেন। ভোরবেলা মন্দিরের পুরহিত এসে ঐ একপাটি জুতো আবিষ্কার করলেন। পুরহিত চিন্তা করলেন, এত বড় জুতো কখনও কোন মানুষের পায়ের হতে পারে না। আর যা হীরে জহরত লাগানো তাতে নিশ্চয়ই ভগবান রাত্রে মন্দিরে এসেছিলেন এবং ভুল করে এই একপাটি জুতো ফেলে গেছেন।

পুরহিত প্রথমে জুতোর পাটিটা মাথায় ঠেকালেন, তারপর বার বার জুতোটাকে চুমু খেলেন। পরে মন্দিরে আরও অনেক লোক এলে পুরহিত সকলকে ভগবানের জুতোর পাটি পাওয়ার গল্প বললেন। সকলেই বলল, নিশ্চয়ই এই জুতো ভগবানের হবে, মানুষের পায়ে এত বড় জুতো হতেই পারে না, আর মন্দিরের বাইরে যখন পাওয়া গেল তখন ভুত বা পেত্নীরও নয়। সবাই মিলে জুতোর পাটি বারবার মাথায় ঠেকাতে আর চুমু খেতে লাগল।

শেষ পর্যন্ত জুতোর কথা বাদশার কানে গেল, আকবরের আদেশে জুতো শাহী দরবারে পেশ হল।
বাদশাও স্বীকার করলেন, "এ জুতো ভগবানেরই হবে।"
তিনিও বারবার মাথায় ঠেকিয়ে আর চুমু খেয়ে বললেন, "এই জুতো মন্দিরের পবিত্র স্থানে রাখো- যাতে সবাই এসে ভক্তিভরে মাথায় ঠেকিয়ে চুমু খেয়ে পূণ্য অর্জন করতে পারে।"

পরের দিন বীরবলের ছুটি শেষ হল।
বীরবল এসে বাদশা কে সালাম ঠুকে মাথা নিচু করে বসে রইলেন।
বাদশা প্রশ্ন করলেন, "কি হল রাজা বীরবল, তুমি এমন বিরসবদন কেন?"
বীরবলঃ "জাহাঁপনা, আমার বাড়ি থেকে একপাটি জুতো চুরি গেছে।"
"একপাটি জুতো?" বাদশা প্রশ্ন করলেন।
"হ্যাঁ, আমার প্রপিতামহের একপাটি জুতো চুরি গেছে, চোর একপাটি ফেলে গেছে।"

"ঐ একপাটি জুতো কি তোমার কাছে আছে?" বাদশা র প্রশ্ন।
"হ্যাঁ, আমার কাছে আছে," বীরবল অন্য পাটিটা বের করে দেখলেন।

দেখেই তো বাদশার মাথা ঘুরতে আরম্ভ করল, নিজের কপালে করাঘাত করে হুকুম করলেন মন্দির থেকে জুতোর পাটি নিয়ে আসতে।
তারপর বললেন, "আমরাতো এটাকে ভগবানের জুতো মনে করে কত মাথা ঠেকিয়ে, চুমু খেয়ে, চেটে চেটে চকচকে করে ফেলেছি!"
বীরবল বললেন, "জাহাঁপনা, একেই বলে অবিদ্যা, কোন কিছু সম্পর্কে একেবারে কিছুই না জেনে ভেড়ার পালের মত সবাই একই দিকে চলতে থাকা!"

(গল্পের সার অংশ সংগৃহীত, লিখেছি আমি আমার মতো করে)
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৪ বিকাল ৩:০৬
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গুপ্তদের সকল অপকর্মের তদন্ত হোক....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৪৮


সময় যত যাচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে অস্বস্তিকর সত্য!
সময় গড়িয়ে যাচ্ছে- আর অতীতের অনেক ঘটনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ, সাক্ষ্য ও তথ্য সামনে আসছে-
যেখানে দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবির বিরুদ্ধে কবি

লিখেছেন অতন্দ্র সাখাওয়াত, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:১০

হে মৃত্যুহীন কবি,
কোন এক কোমল রাতে
তোমার সাথে পায়ে পায়ে
চলতে চাই হাজার বছর।
তারপর তুমি
মিলিয়ে যাবে তারার মাঝে —
তখন আমি লিখবো
তোমার না-লেখা পঙ্ক্তিমালা
কোন এক পূর্ণিমাতে।

হয়তো প্রথম পঙ্ক্তি হবে —
"সে তোমাকে ভালোবাসতো।"
তারপর সমুদ্রের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষকের মর্যাদা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:২৩


কবিতাটার কথা কি মনে আছে? বাদশাহ আলমগীর একদা প্রভাতে গিয়ে দেখলেন, শাহজাদা এক পাত্র হাতে নিয়ে শিক্ষকের চরণে পানি ঢালছে, আর শিক্ষক নিজ হাতে নিজের পায়ের ধূলি মুছে সাফ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:০৯

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গত এক দশকে ব্যাপক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অদৃশ্য ছায়া: সমুদ্রের সাক্ষী

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬



ঢাকার বনানীর সেই ক্যাফেতে বৃষ্টির শব্দ এখন আরও তীব্র। আরিয়ান তার কফির মগে আঙুল বোলাচ্ছিল, তার চোখ দুটো ক্লান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ। সাঈদের দিকে তাকিয়ে সে নিচু গলায় বলতে শুরু করল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×