নস্টালজিক....
স্বাধীনতার পর সব কিছুতেই একটা দ্রুত পরিবর্তন এসেছিলো। পরিবর্তন এসেছিলো আচরণে, পোশাক আর ফ্যাশানে, পরিবর্তন এসেছিলো অর্থনীতিতে এবং সামাজিক বিভাজনে। তখন কিন্তু আর ছোট ছিলাম না। টুয়েলভ ক্লাসে উঠেছি। সিনিয়র ক্যাডেট। কিন্তু ক্যাম্পাসের কঠোর নিয়ম শৃঙ্খলায় অভ্যস্ত বাইরের জীবনের আমূল পরিবর্তন আমাকে বিন্দুমাত্র বিশৃঙ্খল করতে পারেনি।
সেই সময় উঠতি বয়সের ছেলেদের ফ্যাশন মাপা হত তাদের মাথার চুল আর ফুলপ্যান্টের পায়ের ঘেরের মাপে। যার যতো ঘের বেশী সে ততো ফ্যাশনের দিকে এগিয়ে। প্যান্টের কাপড়ের ঘের দিয়েই রাস্তা ঝাড়ু দেওয়া হয়ে যেত। ঘের খুব বেশী হলে রাস্তায় ঘসা লেগে যাতে প্যান্টের নিচের কাপড় ছিঁড়ে না যায় তার জন্য চেন লাগান হত। প্যান্টের বোতামের জায়গায় চেন লাগান, যাকে এখন জিপার বলা হয়, সেটাও ছিল দারুণ আধুনিকতা।
আর ছিল কান ঢাকা চুল। চুল বড়ো করে দুদিকের কান যতটা পারা যায় ঢাকাই ছিল তখনকার চালু ফ্যাশন। কেউ কেউ আদ্ধেক কান ঢাকত। তার বেশী ঢাকলে বাড়িতে-পাড়ায় বখাটে ছেলে হিসাবে বকা খাওয়ার আশঙ্কা ছিল।
তখন নিজেই টেলরের দোকানে মাপ দিয়ে জামা প্যান্ট বানানো শুরু করেছি। নিউ মার্কেটে বিখ্যাত টেইলারিং শপের নাম - এমবি টেইলার্স। টেলরকে 'মাস্টার চাচা' বলে ডাকি। মাস্টারের মুখে বেশী কথা নেই। কিন্তু যত কাজ কাঁচি আর সেলাইমেশিনে। শুধু বাড়ির বড়োদের নয় মাস্টার চাচারও একটা প্রচ্ছন্ন শাসন ছিল আমার উপর। প্যান্টের ঘের বেশী বাড়ানোর কথা বললে তিনিই ঘাড় নেড়ে না করে দিতেন। খুব শখ ছিল পায়ের দিকে চেন দেওয়া বড়ো ঘেরের প্যান্ট পরার। কিন্তু মাস্টারের গাম্ভীর্য পার করে সেটা আর সাহসে কুলায়নি। ভাগ্যিস। শীর্ণ সরু কোমড়ের ছেলেটার নিম্নাংশে ওইরকম বড়ো ঘেরের প্যান্ট কী বিসদৃশ লাগত ভেবে এখনো আঁতকে উঠি!
প্রায় বিশ বছর যাবত চুল কাটার মজুরি তিনশো টাকা, এখনো তাই। যখন মাথা ভর্তি চুল ছিলো তখন তিনশো টাকা পেমেন্ট জায়েজ হতো, এখন মাথায় চুল নাই তবুও বিল তিনশো টাকা! এখন সেলুনে গেলেই প্রায় টাক মাথা দেখে নাপিত যখন বলে, 'স্যার আর কয়েক বছর পর চুল কাটা লাগবেনা...'- কাউকে বিশ্বাস করান কঠিন যে একসময় এই শর্মার মাথা ভরা ঘন চুল ছিল। চুল খুব তাড়াতাড়ি বাড়তোও। কিন্তু কান ঢেকে রাখার উপায় ছিল না। কারণ, ক্যাডেট কলেজের ছাত্র ছিলাম এবং সেনা অফিসার বাবার অপছন্দ। ফলে সেই ফ্যাশনও করা হয়নি।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০২৪ সকাল ১১:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


