somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

লাইফ ইজ বিউটিফুল এবং গুইডু.....

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২৩ বিকাল ৩:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

'লাইফ ইজ বিউটিফুল' এর গুইডোকে মনে আছে?

গল্পের সারাংশঃ- গল্পের নায়ক গুইডু ও তার প্রেমিকা ডোরার প্রেম ও বিবাহ বন্ধন এর ঘটনা দিয়ে ঘটনার শুরু, যাতে মিশে আছে হাস্যরসাত্নক ভাবনা। এর পরের অংশে গুইডু ও ডোরার একমাত্র ছেলে জোসুয়ার সাথে তার বাবার মিথ্যে সাজানো গল্পের এক নির্মম ঘটনা। খুব অল্পে বলতে গেলে এতটুকুই ঘটনা কিন্তু দেখার পর বোঝা যাবে জীবন কতটা নির্মম হতে পারে, যুদ্ধ কতটা আঘাত করে মানুষকে। নাজি সেনাবাহিনী যখন গুইডু ও তার ছেলে জোসুয়াকে কনসেনট্রেসন ক্যাম্পে চালান করে, গুইডো তার ছেলেকে সেই বীভৎসতা বুঝতে না দেওয়ার জন্য অদ্ভুত এক গল্প ফাঁদে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে একটি ইহুদী পরিবারের উপর কেমন নির্যাতন করা হয়েছে তার খানিক বর্ননা। সুখ যেমন চিরকাল থাকে না তেমনি দুঃখও চিরকাল থাকে না এই সিনেমা দেখলে তা হাড়ে হাড়ে বোঝা যাবে।

সে তার ছেলেকে বোঝায় এই ক্যাম্প, যুদ্ধক্ষেত্র সমস্তটাই একটা খেলা। এই খেলায় জিততে হলে তাকে কয়েকটা টাস্ক করতে হবে। যেমন- মায়ের জন্য কাঁদা যাবে না, খিদে পেলে চিৎকার করা যাবে না- করলেই পয়েন্ট কাটা যাবে, তাহলেই আর মিলবে না পুরস্কার হিসেবে ট্যাঙ্কটি।

বিভিন্ন পরিস্থিতির মধ্যেও গুইডো তার এই গল্পটি চালিয়ে যায়। এমনকি একটি বাক্সের মধ্যে লুকিয়ে থাকা তার ছেলের সামনে দিয়ে যখন তাকে জার্মানরা নিয়ে যায় গুলি করবার জন্য, তখনও সে তার অভিনয় চালিয়ে যায়- যাতে তার ছেলে বুঝতে না পারে আসলে কি ঘটছে। নিজে বাস্তবের গুলিতে এফোঁড় ওফোঁড় হতে হতেও ছেলের জন্য জিইয়ে রাখে রূপকথা।

আমরা প্রতিদিন যখন খবরের কাগজ খুলছি, খবরের চ্যানেল দেখছি, রাস্তায় হাঁটছি তখন কি মনে হচ্ছে না, আমরা অদৃশ্য এক কনসেনট্রেসন ক্যাম্পের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি- যেখানে আমাদের পাশ দিয়েই একের পর এক লাশ বয়ে নিয়ে যাচ্ছে ওই লোকগুলো। ওদের মুখগুলো চেনা যাচ্ছে না, কেমন ঝাপসা। কিন্তু বয়ে নিয়ে যাওয়া লাশগুলো কেমন যেন চেনা চেনা, কেমন যেন আমার বন্ধু, আমার ভাইয়ের মতো দেখতে। ওই বীভৎস থেঁতলে যাওয়া শরীরগুলো থেকে দূরে পালাতে চাইছি, কিন্তু পালাতে পারছি না কেন? চ্যানেল পাল্টে ঢুকে যেতে চাইছি বিনোদনের রঙিন দুনিয়ায়, কিন্তু পাল্টাতে পারছি না কেন? আমার হাতে রক্তের দাগ কেন, আমি তো কাউকে মারিনি। ওই ঝাপসা মুখগুলো একটু যেন স্পষ্ট দেখাচ্ছে। মুখগুলো আমার মতোই না? হ্যাঁ, তাইই তো। ওই তো আমিই আমার বন্ধুর, আমার ভাইয়ের লাশ বয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আর আমরা কেমন ভান করছি সবকিছু কি সুন্দর, কি স্বাভাবিক হয়ে আছে, ঠিক যেন রূপকথা।

সময় হয়েছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার, ওই মিথ্যে রূপকথাকে আঁকড়ে ধরে থাকবো নাকি ওই সব মুখগুলো থেকে আমার চেহারার মুখোশটা টেনে ছিঁড়ে ফেলব? আপনার স্বজনদের রক্তের দাগ নিজের হাত থেকে মুছেই শান্ত থাকবো নাকি আমার নামধারী হত্যাকারীগুলোকে প্রকাশ্যে চিহ্নিত করবো আমার শত্রু হিসেবে?

গুইডো চায়নি তার ছেলে এক আতঙ্কের ছবি বুকে নিয়ে বড় হোক, বেঁচে থাকুক একরাশ ঘৃণার উত্তরাধিকার নিয়ে; এখনো পৃথিবীর মুখ না দেখা আমার সন্তানের জন্য রূপকথার পৃথিবী না হোক, একটা আতঙ্ক-বিহীন পৃথিবী দিতে চাই যেখানে তার বাবা একজন লাশ টেনে নিয়ে যাওয়া নির্বাক নাগরিক হবে না।

ব্যক্তিগত উপলব্ধিঃ- বর্তমান বাস্তবতা হচ্ছে, লাইফ ইজ বিউটিফুল' নয়, বরং লাইফ ইজ স্ট্রাগল। তবে জীবন হতে পারে চমৎকার, যদি আপনি একে ভয় না পান। এজন্য প্রয়োজন সাহস, কল্পনা শক্তি ও অল্প কিছু টাকাকড়ি।

পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্বল স্থান হলো মন, আর সবচেয়ে দুর্বল অস্ত্র ভালোবাসা। যদি অল্পতেই আপনার মন খারাপ হয়ে যায় তাহলে বুঝে নিবেন পৃথিবীটা আপনার জন্য অনেক কঠিন। যোগ্য ব্যক্তিরা-ই সমালোচিত হয় আর সমালোচনা করে অযোগ্য ব্যক্তিরা। সব কিছু জানা কারোর জন্য আবশ্যক নয়। কিন্তু যা কিছু বলবে তার সবটুকু সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যক।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই অক্টোবর, ২০২৪ বিকাল ৫:৫৮
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওয়াশিংটন থেকে বেইজিং: বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫


মার্চ ২০২৬-এর ক্যালেন্ডার বলছে, বাংলাদেশের কূটনীতি নতুন দিকে মোড় নিয়েছে । একই সময়ে বাংলাদেশের তিনজন হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব আমেরিকার মাটিতে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নিউ ইয়র্কে ব্যস্ত নিজের ক্যাম্পেইনে। সেনাপ্রধান জেনারেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০০১ থেকে ২০০৬ / ২০২৬শে এসে আবারও দেশ ফিরে গেলো খাম্বার খপ্পরে ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:২৪

তারেক জিয়া “ ২০০১ থেকে

২০০৬ পর্যন্ত যা করে গিয়েছিলেন। তিনি ঠিক সেখান থেকেই ২০২৬ শুরু করলেন। অনেকেই তার অনেক ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা বলছেন। ছোট ছোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে AI, গণমাধ্যম, এবং জনস্বার্থের প্রশ্ন

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৩২

বাংলাদেশে AI নিয়ে আলোচনা এখন আর শুধু “নতুন প্রযুক্তি” নিয়ে উত্তেজনা বা ভয় নয়। এখন বিষয়টা অনেক বড়। AI ধীরে ধীরে গণমাধ্যম, সরকারি কাজ, জনবিশ্বাস, ভাষা, এবং নীতিনির্ধারণের অংশ হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাল্যবিবাহে আমারও আপত্তি নেই, তবে…(একটু প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য)

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৩০



১. প্রথমেই সেসব ফেসবুক যোদ্ধাদের কাছে প্রশ্ন, যারা লুবাবা‘র বাল্যবিবাহ নিয়ে খুব উৎসাহ দিচ্ছেন, তেনারা নিজেদের ১৪/১৫ বছরের কন্যা সন্তানকে বিয়ে দিবেন কিনা। বিয়ে মানে কিন্তু শুধু জীবনসঙ্গীর সাথে এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন ওরফে সংবিধান সালাহউদ্দিন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০


ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন যিনি দীর্ঘসময় ভারতের তত্ত্বাবধানে শিলংয়ে সংবিধানের ওপর পিএইচডি করেছেন ফলে উনি এখন সংবিধান সালাহউদ্দিন যার সুফল এখন আমরা পেতে চলেছি। ইতোমধ্যেই আপনারা লক্ষ্য করেছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×