somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

সুমুদ ফ্লোটিলা কি এবং কেন.......

০২ রা অক্টোবর, ২০২৫ সকাল ১১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সুমুদ ফ্লোটিলা কি এবং কেন.......

“Global Sumud Flotilla” (গ্লোবাল সামুদ ফ্লোটিলা) হলো একটি আন্তর্জাতিক নাগরিক উদ্যোগ, যা ২০২৫ সালে গাজা অবরোধ (Israeli blockade of Gaza) ভাঙার এবং গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে শুরু করা হয়েছে। বিস্তারিত বিবরণঃ

“Sumud” শব্দটি আরবি থেকে নেওয়া, যার মানে “অটলতা / স্থিরতা / জেদ”।

Global Sumud Flotilla (GSF) মূলত একটি সেচ্ছাসেবী (non-profit / সিভিল সোসাইটি) প্রয়াস, যেখানে অনেক ছোট জাহাজ (ভেসেল) মিলে গঠন করা হয়েছে।


এর মূল উদ্দেশ্যঃ
★গাজা অবরোধ ভাঙা, অর্থাৎ সাগরপথে গাজায় পৌঁছতে বাধা দেয়ার চেষ্টা করা।

★গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।

★আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করা, গাজায় যে সংকট চলছে তা আন্তর্জাতিক ন্যায্য আইন ও মানবিক অধিকার পরিপন্থী।

★বিশ্বব্যাপী সাধারণ মানুষকে একত্রিত করে “ন্যায্যতা” এবং “মানবিক করিডোর” প্রতিষ্ঠার দাবি তোলা।
সুমুদ ফ্লটিলার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ইসরায়েলের অবৈধ অবরোধ ভাঙা, গাজায় মানবিক সাহায্য (খাবার, ওষুধ, চিকিত্সা) পৌঁছে দেওয়া, গণহত্যা উন্মোচন করা।


গঠন ও অংশীজনঃ
GSF জন্ম নেয় ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে, বিভিন্ন গ্রাসরুট (grassroots) এবং মানবাধিকার/সোলিডারিটি সংগঠনের মিলিত উদ্যোগে। এই উদ্যোগে অংশ নেওয়া প্রধান সংগঠনগুলোঃ

★ Freedom Flotilla Coalition (সাবেক বেশ কিছু ফ্লোটিলা মিশনে কাজ করেছে)।

★ Global Movement to Gaza (GMTG)।

★ Maghreb Sumud Flotilla (উত্তর আফ্রিকার অংশীদার)।

★ Sumud Nusantara (আশিয়া থেকে অংশগ্রহণকারী, বিশেষ করে মালয়েশিয়া ও অন্যান্য দেশ)।

অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ও পরিধিঃ
৪৪টির বেশী দেশ থেকে প্রতিনিধি থাকবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রায় ৫০টির মতো জাহাজ (small vessels) অংশগ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

১৫,০০০+ জন স্বেচ্ছাসেবকভাবে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন করেছেন। যারা ৬টি মহাদেশ থেকে এসেছে, অস্ট্রেলিয়া, নর্থ এন্ড সাউথ আমেরিকা, আফ্রিকা, ইয়োরপ এবং এশিয়া। যেসব মুসলমান দেশের মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেছে সেগুলো হলো, তুরস্ক, তিউনিশিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়ায় ইত্যাদি।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফটো জার্নালিস্ট, এক্টিভিস্ট এবং মানবাধিকার ব্যাক্তিত্ব শহীদুল আলম, বাংলাদেশ থেকে সমুদ ফ্লোটিলায় অংশগ্রহণ করেছেন। (শ্রদ্ধেয় শহীদুল আলম আমার তিন ব্যাচ সিনিয়র ক্যাডেট, ঝিনেদা ক্যাডেট কলেজে। আমার সৌভাগ্য আমি তার সাথে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে একসাথে আন্দোলনে সংগ্রামে সহযাত্রী এবং কিছুদিন একসাথে কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতালে ছিলাম)।

যাত্রা ও প্রস্তুতিঃ
শুরুতে ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করার কথা ছিল টিউনিসিয়ার অংশ, তবে কিছু বিষয় বিবেচনা করে
যাত্রার সময়সূচি কিছুটা পরিবর্তিত হয়। প্রাথমিক ভাবে কিছু জাহাজ ৩০-৩১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে জেনোয়া ও বার্সেলোনা থেকে যাত্রা শুরু করেছে। পরবর্তী ধাপে তিউনিসিয়া (Tunis) থেকে অংশগ্রহণ করেছে।

যাত্রার পথপ্রদর্শক এবং সাপোর্ট হিসেবে “Emergency” নামক একটি নন-গভর্নমেন্টাল সংগঠন তাদের “Life Support” জাহাজ সহ যুক্ত হয়েছে, যা জরুরি সহায়তা ও উদ্ধার অপারেশন পরিচালনায় সক্ষম।

প্রতিবন্ধকতা ও ঘটনাঃ
যাত্রার পথে কিছু জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ড্রোন, বিস্ফোরণ ও যোগাযোগ বিঘ্ন ঘটেছে- কিছু অংশগ্রহণকারী বলেছে তারা রাতে বিস্ফোরণ শুনেছেন এবং অচেনা ড্রোনকে দেখে আক্রমণ আশংকা প্রকাশ করেছেন। “আক্রমণ” ও “পরিবহন” প্রতিবন্ধকতার কারণে যাত্রা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।

গাজার সমুদ্রতীরের কাছাকাছি পৌঁছাতে গেলে ইস্রায়েলি নৌবাহিনী বা জাহাজ দ্বারা বাঁধা দেওয়া এবং আটক করার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

সমর্থন ও প্রতিক্রিয়াঃ
অনেক দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে। শ্রম ইউনিয়ন ও জনসাধারণ অনেক পর্যায়ে এই ফ্লোটিলাকে সমর্থন জানাচ্ছেন।

ইতালি, স্পেন সুমুদ বহরকে নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত নিরাপত্তা দিচ্ছে। তুরস্ক, পাকিস্তান, স্পেনসহ একাধিক দেশ “GSF-এর নিরাপত্তা” বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা অক্টোবর, ২০২৫ সকাল ১১:৪৮
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রচারণার বেলুন যত বড়ই হোক, বাস্তবতার সূচের সামনে তা এক মুহূর্তেই চুপসে যায়।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৯

প্রচারণার বেলুন যত বড়ই হোক, বাস্তবতার সূচের সামনে তা এক মুহূর্তেই চুপসে যায়।
=======================================
অক্সফোর্ড ইউনিয়ন ও অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটি নামের ব্রিটেনের কিছু প্রবাসী বাংলাদেশিদের ছোট সংগঠন থেকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

চারদিকে অদ্ভুত নীরবতা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪০



নিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধেয়ে চলেছি।
ঊর্ধ্বলোক আর নিম্নের অতল অন্ধকার কোন জায়গায়,
সে নিয়ে আর চিন্তা কি!

প্রিয়ার আহবানে আমরা কতো কিছুই না করি!
এবারে প্রিয়ার আহবানে দিক-শূন্যই নাহয় হলাম!... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাদিক হাসনাতের প্রোগামে রাকাজার মঈনুদ্দীন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



এই ছবিটি লন্ডনে অনুষ্ঠিত হওয়া নিজেস্ব অর্থায়নে সাদিক হাসনাতের প্রোগামের। অসংখ্য আঙ্কেল আন্টিদের মাঝে একজন বিশেশ লোককে দেখা গেল সেখানে। লোকটাকে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে ছবিতে। এই লোকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×