somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

গোয়েন্দাদের আচরণ আগের মতোই ডার্ক মোডে!

২৪ শে অক্টোবর, ২০২৫ রাত ১০:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গোয়েন্দাদের আচরণ আগের মতোই ডার্ক মোডে!

গুম নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগীরা সবসময় তক্কেতক্কে থাকে- এই বিষয়ে মামলা মকদ্দমার আপডেট জানতে। ২২ অক্টোবর মানবতা বিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে হাজির করা হবে- সেটা সবাই নিশ্চিত ছিলাম। তাই ভুক্তভোগীরা ট্রাইবুনালের সামনে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচি নিয়েছিল।


সকাল সাড়ে আটটার মধ্যেই বেশীরভাগ ভুক্তভোগী নারী পুরুষ সদস্য এবং মানবাধিকার সংস্থার কর্মীরা ব্যানার ফেস্টুন প্লেকার্ড নিয়ে উপস্থিত হয়্যে সুশৃঙ্খল ভাবে দাঁড়িয়েছেন। কেউ কেউ বিচার চেয়ে মেঘাফোনে বক্তব্য দিচ্ছেন। সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব, পুলিশ অসংখ্য সদস্য গোটা এলাকায় তৎপর। মানববন্ধনকারীদের অনেককেই সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনের জিজ্ঞাসাবাদ সম্মুখীন হতে হয়....(২০২৪, ৫ আগস্টের আগে যেখানে গোয়েন্দারা টানাহেঁচড়া, শক্তিপ্রয়োগ করে যে কাউকে তুলে নিয়ে যেতো এবার সেই প্রকৃয়া প্রয়োগ না করে নাম পরিচয় ইত্যাদি জিজ্ঞেস করে লিখে এবং বক্তব্য রেকর্ড করে নিয়ে গিয়েছে)।

সাদা পোশাকের একজন লোক সাবেক সেনাকর্মকর্তা এবং রাষ্ট্রদূত, ১৬ মাস আয়নাঘরে বন্দী ছিলেন মারুফ জামান ভাইর মুভমেন্ট ভিডিও করছিলো এবং অসৌজন্যমূলক ভাবে বারবার তার নাম-পরিচয় জিজ্ঞেস করে....মারুফ জামান ভাই উলটা তার পরিচয় জিজ্ঞেস করে এবং তিনি কেন তার বক্তব্য এবং মুভমেন্ট ভিডিও করছে জিজ্ঞেস করলে লোকটা বেশ দাম্ভিকতা নিয়ে বলে- "আমি ডিবির লোক.....আমি আমার ডিউটি পালন করছি।"

মারুফ জামান ভাইও ঝাড়ি মেরে তাকে চার্জ করেন- "আপনি কেন আমার বক্তব্য এবং ভিডিও রেকর্ড করবেন? কে আপনাকে অর্ডার দিয়েছে, আপনার অফিসার কে- আমি তার সাথে কথা বলবো...."।

তখন ডিবি পরিচয় দেওয়া লোকটা সেনাবাহিনীর একটা গাড়ির ভিতরে গিয়ে বসে থাকে (ডিবি'র লোক হলে নিশ্চয়ই আর্মির গাড়িতে উঠে বসতো না। অর্থাৎ লোকটা ডিজিএফআই সদস্য) .....

মারুফ জামান ভাই ট্রাইবুনালে প্রেসমিটে চলে যাওয়ার পর সেই গোয়েন্দার সাথে ওয়াকিটকি হাতে আরও একজন গোয়েন্দা এসে আমার হাতে থাকা ব্যানারটা কেড়ে নিয়ে Killers কেন লিখেছি জিজ্ঞেস করে। আমি ওনার প্রশ্ন না বোঝার ভান করে বলি- ইংরেজিতে 'কিলার' না লিখে মাতৃভাষায় 'খুনী' লেখা উচিৎ ছিলো?
একজন ভিডিও ধারণ করে আমার নাম জিজ্ঞেস করেন। আমি আমার নাম, বাবা-মা, দাদা-দাদী, নানার নাম বলে বললাম- "নানির নাম ভুলে গিয়েছি- কোনো সমস্যা হবে?"- জিজ্ঞেস করে আমার বর্তমান ঠিকানা, স্থায়ী ঠিকানা লোকেশনও বলে দিয়েছি....

অপেক্ষাকৃত কম বয়সীজন আমার দিকে কটমট করে তাকিয়ে আছে....আমি বললাম- "স্যার, আগে গুম থেকে জীবন নিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন- আবারও গুম করবেন নাকি?"

আমার সাথে গোয়েন্দা অফিসারের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় দেখে একটু দূরে থাকা কর্নেল অবঃ ফেরদৌস, কর্নেল অবঃ হাসিন, ডিউক হুদা, ব্রীগেডিয়ার জেনারেল অবঃ আযমী এবং আরও ৪/৫ জন সেনাকর্মকর্তা (সবাই গুমের শিকার) ছুটে আসেন.... তখন তারা আবারও আর্মির গাড়িতে উঠে চলে যায়।

জুলাই বিপ্লব, ৫ আগস্ট ২০২৪-
দেশে নাকি “বড় পরিবর্তন” এসে গেছে!
আসলে- আমাদের গোয়েন্দাদের স্বভাব-চরিত্রে একটুও পরিবর্তন আসেনি!

আগে গোয়েন্দারা কোনো কথা না বলে টেনেহিঁচড়ে চ্যাংদোলা করে নিয়ে যেতো- এখন হয়তো সেইভাবে ধরে নিয়ে যাচ্ছে না, তবে গোয়েন্দা ভাইদের মুখ দেখে মনে হলো- আচরণ আগের মতোই ডার্ক মোডে!
সেই রক্তচক্ষু, সেই হিংস্র মানসিকতা আগের মতোই টগবগ করছে!
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৫ রাত ১০:৪১
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্ব পাঠ

লিখেছেন আবু সিদ, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

I. পড়ার সাধারণ অর্থ
সাধারণভাবে, পড়া বা Reading হলো লিখিত বর্ণ বা চিহ্ন দেখে তার অর্থ উদ্ধার করার উপায়। পড়া কেবল শব্দ উচ্চারণ নয়, বরং লেখার বিষয়বস্তুর সাথে নিজের চিন্তার যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতাস ভাড়ি হবে লাশের গন্ধে

লিখেছেন ফেনা, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:২১


ছবিঃ গুগল

আলোচনাটা আপাদত একটা ফাইলে করে টেবিলে তুলা থাক। এসো আগে আমরা একটু ধ্বংস ধ্বংস খেলি।
শত বছর হতে চলল পাইনা বাতাসে তেমন লাশের গন্ধ। জাহানের বাতাসটা ভরে উঠুকনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বমিনং করোনং ইচ্ছং

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১১


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
১৫০।(১) এই সংবিধানের অন্য কোন বিধান সত্ত্বেও ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে এই সংবিধান প্রবর্তনকালে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে বর্ণিত বিধানাবলী ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ স্বাধীনতা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:১২


বাবা পাখিটি গাইছে গান
আমড়া গাছের ডালে।
ছানাগুলো নিশ্চিন্তে
মায়ের বুকের তলে।

রীনা বসে বীনা বাজায়
মীনা গায় গান।
দীনা বলে পুষবো পাখি
একটা ধরে আন।

মা শুনে কয় বনের পাখি
বনেতেই মানায়।
বন্দী পাখি হয় যে দুঃখী
উচিত কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×