গল্পঃ তোতা কাহিনী পর্ব ১
তোতাকাহিনী পর্ব ২
৬।
পাখিটা দিনে দিনে ভদ্র দস্তুরমতো আধমমরা হইয়া আসিল অভিভাবকেরা বুঝিলো বেশ আশাজনক । তবু স্বভাবদোষে সকালবেলার আলোর দিকে পাখি চায় আর অন্যায় রকমে পাখা ঝটপট করে । এমন কী এক একদিনে দেখা যায় সে তার রোগা ঠোঁট দিয়া খাঁচার শলা কাটিবার চেষ্টায় আছে । কতোয়াল বলিল এ কী বেয়াদবি ।
তখন শিক্ষামহলে হাপর হাতুড়ি আগুন লইয়া কামার আসিয়া হাজির । কী দমাদ্দম পিটানি লোহার শিকল তৈরি হইল পাখির ডানাও গেল কাটা ।
রাজার সম্বন্ধীরা মুখ হাঁড়ি করিয়া মাথা নাড়িয়া বলিল এ রাজ্যে পাখিদের কেবল যে আক্কেল নাই তা নয় কৃতজ্ঞতাও নাই । তখন পন্ডিতেরা এক হাতে কলম আর এক হাতে সড়কি লইয়া এমনি কান্ড করিল যাকে বলে শিক্ষা ।
কামারের পসার বাড়িয়া কামারগিন্নির গায়ে সোনাদানা চড়িল এবং কোতোয়াল দের হুঁশিয়ারি দেখিয়া রাজা তাকে শিরোপা দিলেন।
৭।
পাখিটা মরিল । কোনকালে যে কেউ তা ঠাহর করতে পারে নাই । নিন্দুক লক্ষ্মীছাড়া রটাইলো পাখি মরিয়াছে । ভাগিনাকে ডাকিয়া রাজা বলিলেন ভাগিনা এ কী কথা শুনি । ভাগিনা বলিল মহারাজ পাখিটার শিক্ষা পুরা হইয়াছে । রাজা শুধাইলেন ও কী আর লাফায় ? ভাগিনা বলিল আরে রাম ! আর কি ওড়ে ? না । আর কি গান গায় ? না । দানা না পাইলে আর কী চেচায় ? না ।
রাজা বলিলেন একবার পাখিটাকে আনো তো দেখি । পাখি আসিল । সঙ্গে কোতোয়াল আসিল পাইক আসিল ঘোড়াসওয়ার আসিল । রাজা পাখিটাকে টিপিলেন সে হঁ করিল না হুঁ করিল না । কেবল তার পেটের মধ্যে শুকনো পুঁথির শুকনো পাতা খসখস গজগজ করিতে লাগিল ।
বাহিরে নব বসন্তের দক্ষিন হাওয়া কিশলয়গুলি দীর্ঘনিশ্বাসে মুকুলিত বনের আকাশ আকুল করিয়া দিল ।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০১৪ দুপুর ২:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



