somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্ম যুদ্ধের ইতিকথা, পর্ব-২

১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ৮:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"ঈশ্বরের ইচ্ছা"

বাইজেনটাইন সম্রাট আলেক্সিস কোমনিয়াসের কাছে থেকে চিঠি পাওয়া পর পোপ দ্বিতীয় আরবান মনস্হির করেন তিনি ফ্রান্সে ভ্রমণ করবেন, সেইসঙ্গে তার অধীনস্ত বিশপ ও এবটদের আদেশ দেন, চার্চের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী ব্যাক্তিরা যেনো ক্লেয়ারমন্ট কাউন্সিলে হাজির থাকে। ফ্রান্সের ক্লেয়ারমন্টে অবস্হিত ক্লেয়ারমন্ট ক্যাথড্রালে অনুষ্ঠিত হতো ক্লেয়ারমন্ট কাউন্সিল। এই কাউন্সিল ফ্রান্সের রাজাকে পর্যন্ত পদচ্যুত করেছিলো ব্যাভিচারের অভিযোগ। সুতরাং এই ঘটনা দিয়ে সহজেই অনুমেয় ক্লেয়ারমন্ট কাউন্সিলের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি।২৭শে নভেম্বরে ক্লেয়ারমন্ট কাউন্সিলে এত জনসমাগম হয় যে, ক্লেয়ারমন্ট ক্যাথড্রালে জায়গা না হওয়ায় খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত হয় ক্লেয়ারমন্ট কাউন্সিল। পোপ দ্বিতীয় আরবান ছিলেন এক সুবক্তা, তিনি ধর্মীয় আবেগকে সুনিপুনভাবে ব্যবহার করে উপস্হিত জনতাদের উত্তেজিত করে তোলেন।

ক্লেয়ারমন্ট কাউন্সিলের সেই ভাষণে পোপ দ্বিতীয় আরবানের আসলেই কি বলেছেন, তা সঠিক অনুলিপি পাওয়া যায়নি। উপস্হিত কেউ কেউ পরবর্তী সময়ে লিপিবদ্ধ করেছেন, এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ঘটনাপঞ্জি হলো -Gesta Francorum, যা আনুমানিক ১১০০ সালের দিকে লেখা হয়। সেই ঘটনাপঞ্জি থেকে জানা যায়, তিনি আলেক্সিস কোমনিয়াসের চিঠি পাঠ করে শোানান এবং সেই সাথে ফ্রান্কদের বীরত্বগাথা তুলে ধরেন। উল্লেখ্য যে, রোমান সাম্রাজ্য পতনের পর ফ্রান্করা ফ্রান্স দখল করে, যাদের নামানুসারে ফ্রান্স নামকরণ করা হয়, যদিও ফ্রান্করা জাতিতে খাঁটি জার্মান। ফ্রান্করা প্রথমে প্যাগান থাকলেও পরে খ্রীস্টান ধর্ম গ্রহন করে এবং ট্যুরস-এর যুদ্ধে অপ্রতিরোধ্য রহমানের বিশাল বাহিনীকে পরাজিত করে। পরবর্তীতে সম্রাট শার্লেমান ফ্রান্কদের নেতা হলে, তিনি ইউরোপে মুসলিম আগ্রাসন রোধ করেন। এর ফলে স্পেন পাড় হয়ে ফ্রান্সে মুরিশদের রাজ্যত্ব প্রসার লাভ করেনি। পোপ দ্বিতীয় আরবান তাই তাঁর ভাষণে সম্রাট শার্লেমান-এর নাম স্মরণ করেন এবং তাকে মহান যোদ্ধা হিসেবে অভিহিত করেন। সেজন্য তিনি উপস্হিত সকল ফ্রান্কদের অনুরোধ করেন তারা যেনো তাদের পূর্বপুরুষদের গৌরব অক্ষুন্ন রাখেন। তিনি অবশ্য ইউরোপের অন্যান্য সকল রাজা ও যুবরাজদেরও ধর্মযুদ্ধে শামিল হতে বলেন।বিশাল জনসমাগমের মধ্যে আবেগের ঢেউ খেলে যায়, গগনবিদারী কন্ঠে উচ্চারিত হতে থাকে, "এটাই ঈশ্বরের ইচ্ছা,এটাই ঈশ্বরের ইচ্ছা"।

পোপকে ঈশ্বরের প্রতিনিধি হিসেবে ভাবা হতো, সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই পোপ দ্বিতীয় আরবানের ভাষণে উপস্হিত শ্রোতাদের মাঝে ধর্মযুদ্ধ নিয়ে ভাবাবেগ শুরু হয়। অবশ্য ধারণা করা হয় যে, এটাই ঈশ্বরের ইচ্ছা,এটাই ঈশ্বরের ইচ্ছা- শ্লোগানটি আগেই যাজকরা ঠিক করে রেখেছিলেন এবং আরবানের ভাষণ শেষ হওয়া মাত্রই তারা চিৎকার করে সবাই এই শ্লোগানটি দিতে উৎসাহিত করে। আরবানের ঐতিহাসিক ভাষণ শেষ হওয়া পর বিশপ আদেমার পোপের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে ধর্মযুদ্ধে যাওয়ার জন্য অনুমতি চান। আরবান তৎক্ষনাৎ তাকে ধর্মযুদ্ধে প্যাপাল কনভয়ের (Papal Convoy) নেতা হিসেবে নিয়োগ দেন।

যদিও আরবানের ভাষণের অনুলিপি নিয়ে মতবিরোধ আছে, তবে অধিকাংশ ঘটনাপঞ্জিতে পাওয়া যায়, আরবান ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ধর্মযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল নাইট ও সাধারণ সৈনিকের পাপমোচন হবে অর্থাৎ তাদের পাপাচার থেকে মুক্তি লাভ করবে এবং তাদের আত্না হবে পুরোপুরি বিশুদ্ধ। এই ব্যাপারে সকল ইতিহাসবিদ একমত যে, এই ধরনের ঘোষণা দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো কারণ এর ফলে নাইট ও সাধারণ সৈনিকদেরকে ধর্মযুদ্ধে আকৃষ্ঠ করা সহজ হবে।

পরবর্তী পর্ব: ধর্মযুদ্ধের স্ফুলিংগ দেশে দেশে
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ৮:৩৪
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×