somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোঃ নুরউদ্দিন কবির
পজেটিভ সমালোচনা সবসময় মানুষের ভুলকে শুধরে দিতে সাহায্য করে। কোন বিষয়কে উস্কে না দিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করার চেষ্টা করি। দেশকে ভালবাসি, দেশের মানুষকে ভালবাসি।

ধর্ষণ, আমাদের সমাজ ব্যাবস্থা, দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্ব এবং উন্নত বিশ্ব

১৪ ই জুন, ২০১৬ রাত ১০:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের দেশের মেয়েদের খুব বেশি বেশি বলতে শোনা যায় যে, মেয়েদের পোশাক কোন ব্যাপার না ছেলেদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। এবং উদাহরন হিসেবে উন্নত বিশ্বের সমাজকে উপস্থাপন করা হয়ে থাকে। আমি তাদের এই উদাহরন মেনে নিলাম কিন্তু এখানে একটা ব্যাপার কিন্তু মনে হয় আমার বোনেরা ভুলে যাচ্ছেন। তাদের সদয় অবগতির জন্য আমার কিছু ব্যক্তিগত ধারনা থেকে কয়েকটি বিষয়ের উপর আলোকপাত করতে চাই। আমার মতামত কাউকে জোর করে মেনে নিতে হবে তা বলছি না।

উন্নত বিশ্বের সাথে তুলনা করাটা অনেক ভাল একটা ব্যাপার। তাদের দৃষ্টি ভঙ্গি আমাদের অনুসরন করা উচিত, খুব ভাল কথা। কিন্তু আপুরা বা ঐ সব ভাইয়েরা যারা এমন মতামত পোষণ করেন তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, পাশ্চাত্য সমাজের বা উন্নত বিশ্বের সামাজিক নিয়ম কানুন বা তাদের সামাজিক রীতিনীতি সম্পর্কে আপনাদের ধারনা থাকাটা দরকার। প্রথমেই একটা উদাহরন দিয়ে শুরু করতে চাই। আমি প্রায়শই একটা আমেরিকান রেডিও শুনে থাকি। সেখানে সেদিন রাতে একটা প্রোগ্রাম চলছিল, বিষয়টা ছিল এখনকার ছেলেমেয়েরা অনেকেই মা বাবার কাছে থাকতে পছন্দ করছে। বিষয়টা খেয়াল করেছেন? জী ভাল করে দেখুন। আমরা যেখানে প্রোগ্রাম করি ছেলেমেয়েরা বাবামায়ের সাথে সম্পর্ক খারাপ হলে সেখানে তারা সন্তান কেন বাবামায়ের সাথে থাকতে চায় সেটা নিয়ে চিন্তিত। এক মা ফোন করে বলল আমার মেয়ে অনেক দিন যাবত আমার কাছে থাকছে, বুঝতে পারছিনা কতদিন থাকবে। ও কি যাবে না?
আমেরিকায় সামাজিক নিয়মটা এমন যে টিনেজাররা থাকবে আলাদা, তারা নিজের উপার্জিত টাকায় নিজের থাকা খাওয়া বা ভরন পোষণ করবে। ইচ্ছে মত গার্লফ্রেন্ড থাকবে, বিয়ে করবে, তালাক দেবে অথবা লিভ টুগেদার করবে। মাবাবা কখনও জানতেই চাইবে না। আমেরিকাতে প্রথম বিবাহে শতকরা ৪৫% থেকে ৫০%, দ্বিতীয় বিবাহে শতকরা ৬০% থেকে ৬৭% এবং তৃতীয় বিবাহে শতকরা ৭০% থেকে ৭৩% ডিভোর্স হয়। ৮.১ মিলিয়ন জুটি বিবাহ ছাড়া একত্রে বসবাস করে (২০১১)। অর্থাৎ তাদের কোন বৈবাহিক নিশ্চয়তা বা পরিচয় নেই। ইচ্ছে হলে তোমার সাথে থাকলাম আর ইচ্ছে হলেই চলে গেলাম। এখানেই শেষ নয়, আমেরিকাতে অবস্থাটা এমন যে আপনি যখন একরাতের জন্য হোটেলে অবস্থান করছেন, পাশের কক্ষে থাকা মেয়েটা আপনার সাথে এসে রাত কাটাবে এবং চলেও যাবে এমনকি আপনার নামটা জানার প্রয়োজন বোধ করবে না। সেখানে শতকরা ৯৭% টিনেজার সেক্স এর সাধ নিয়েছে এবং শতকরা ৩% টিনেজার ভার্জিন যাদের সবার বয়স ১৮ থেকে ১৯ বছর। ৭৮% টিনেজাররা গতবছর সেক্স করেছে (৮৬% ছেলে এবং ৭০% মেয়ে) এবং ৬৪% টিনেজাররা বর্তমানে যৌন সম্পর্কে জরিত আছে। (২০১৪) এবার বলি সবচেয়ে খারাপ তথ্যটা, আমেরিকাতে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভের প্রতি ১০টার ৪ টা ফেলে দেয়া হয়। ২০১৪ সালের তথ্য অনুযায়ী সারা দেশে মোট গর্ভের ২১% গর্ভপাতের মাধ্যমে শেষ হয়। রাজ্যের তথ্য অনুযায়ী ৯ লাখ ৭৪ হাজার গর্ভপাত ঘটে। যা ২০১৩ সাথে ছিল ৯ লাখ ৮৩ হাজার। আর বাংলাদেশে এই হার হাজারে ১৮ জন।
অনেক তো পরিসংখ্যান দেখালাম এখন আসি আসল কথায়। এই সকল তথ্যের মাধ্যমে আমি দেখাতে চেয়েছি বাংলাদেশের সাথে তাদের বিশাল পার্থক্য। এই পার্থক্য সব ক্ষেত্রে। আমাদের ভাল ভাবে বুঝতে হবে তাদের যৌন জীবন আর আমাদের যৌন জীবন এক নয়। আমি যদি পরিষ্কার ভাবে বোঝাতে চাই তবে এভাবে বলতে হয় যে তারা যখন এত যৌনতার মধ্যে থাকে তখন রাস্তায় হাটা একটা মেয়ের দিকে তাকাতে একটা ছেলে কতটা আগ্রহী হবে সেটা আর বলার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। আর আমাদের দেশের মত একটা ইসলামিক সমাজে আপনি যদি ছেলেদের এমন উন্মুক্ত মনভাব আশা করেন সেটা নিজের দোষ ঢাকার ইচ্ছা ছাড়া আর কিছুই নয়। আমি পরিষ্কার ভাবে এটাই বোঝাতে চাচ্ছি যে আপনি যখন দেশের ছেলেদের মধ্যে এই মনভাব আশা করেন তখন সাথে সাথে আপনাকে এমন একটা পরিসংখ্যানও আশা করতে হবে। আপনি যখন দেখতেই পাচ্ছেন যে বারবার আমার বোনেরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে তখন তো আর ছেলেদের দোষ দিয়ে পার পাওয়া যায়না। আমি কিন্তু সাধারন ধর্ষণের কথা বলছি, প্রতিশোধ বা পূর্ব আক্রোশ এর কেস ভিন্ন।
বাংলাদেশের ছেলেদের দৃষ্টিভঙ্গিতেই যখন সমস্যা তখন শেষ তথ্যটা দেই। ২০১১ সালে আমেরিকার বিভিন্ন জেলে, তরুন নিরাময় কেন্দ্রে এবং হাজতে মোট ২১৬,৬০০ ধর্ষণ হয়। সারা দেশে ১৯৯৩ থেকে ২০১৩ সালে মোট ২০ বছরে ৩১,৩০২ জন ছাত্র ছাত্রী এবং ৬৪,৬৬৮ সাধারন মানুষ ধর্ষণের স্বীকার হয়। তাহলে এখন কি বলবেন?

আসল কথাটা হল দৃষ্টিভঙ্গির অজুহাতটা ব্যবহার করা হচ্ছে। ভারতে বাসে ধর্ষণের আসামীদের ফাঁসির আগে জিজ্ঞেস করা হল আপনি কি লজ্জিত ? ধর্ষকের জবাবটা ছিল এরকম “আমি মোটেও লজ্জিত নই। একটা মেয়ে আজে বাজে পোশাক পরে রাত এগারটায় একা রাস্তায় হাঁটবে তখন আমরা কি করব?” আমার লেখা পরে আপনি ভাববেন না আমি ধর্ষকের পক্ষে কারন এমন অবস্থা যে মেয়েদের বিপক্ষে বললেই ধরে নেয়া হয় ধর্ষকের পক্ষে। জংগলে শুয়োর আর হায়না থাকবেই। সমাজেও এমন কুকুর আছে অনেক। কুকুরে মল খায়, এখানে আপনি কুকুরের দোষ দিবেন কেন? যদি ছেলেদের দৃষ্টিভঙ্গি খারাপ হয় তবে আমার বন্ধু মহলে একটাওতো ছেলে নেই যে কোনদিন রাস্তায় হাটা কোন খারাপ পোশাক পরা মেয়েদেরকেও খারাপ শব্দ করে বিরক্ত করেছে। অতএব আমার কথা হচ্ছে কুকুর থাকবেই, সে কুকুর অত সামাজিকতা বা মনুষ্যত্বের ধার ধারে না। তাই আপনাকেই সাবধান হতে হবে। আজকাল ফেসবুকে ঢুকলে মডেলিংএর নাম করে যে উলঙ্গপনা আর অশ্লীলতা দেখা যায় তাকে আপনি কোন দৃষ্টিভঙ্গির আওতায় ফেলবেন? আমি এখানে শুধুই পোশাককে দায়ী করছিনা। আমি একতরফা ভাবে দৃষ্টিভঙ্গিকে দায়ী করার বিরোধিতা করার রাস্তা খুঁজেছি মাত্র।

সবকিছুর পরেও যখন আপনি শ্লীলতাকে মেনে নেবেন না, তখন আমার অনুরোধ এই দেশের সংস্কৃতি, রীতিনীতিকে ধ্বংস করবেন না। আমরা বাংলাদেশি মানুষ, আমাদের নিজস্ব পরিচয় আছে যেমন আছে জাপানীদের, ভারতীয়দের, মিশরীয়দের কিংবা আফ্রিকানদের। প্রত্যেকটা দেশের মানুষ তার নিজের দেশের পরিচয় সংস্কৃতি আর জাতীয়তাকে বহন করে। আমাদেরও উচিত নিজেদের পরিচয়কে বহন করা, পাশ্চাত্যকে নকল করা নয়। কারন ওরা কিন্তু আমাদের সংস্কৃতিকে সম্মান করে কিন্তু নকল করে না।

আমার প্রথম লেখায় ভুল ত্রুটি মাফ করবেন। ভাল লাগলে শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ।
মোঃ নুরউদ্দিন কবির
ঢাকা।

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুন, ২০১৬ রাত ১২:১০
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একাত্তরের আগের আর পরের জামাত এখনও এক

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ০২ রা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮


গোলাম পরওয়ার বলেছে একাত্তরের জামাত আর বর্তমান জামাত এক নয়। অথচ এক। স্বাধীনতার আগের জামাত আর পরের জামাত একই রকম।
একাত্তরের আগে জামাত পাকিস্তানের গো% চাটতো এখনও তাই চাটে। তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সোনার ধানে নোনা জল

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:১২



হঠাৎ একটা তীক্ষ্ণ শব্দে রেদোয়ানের ঘুম ভাঙল। না, কোনো স্বপ্ন নয়; মেঘের ডাক আর টিনের চালে বৃষ্টির উন্মত্ত তান্ডব। বিছানা ছেড়ে দরজায় এসে দাঁড়াতেই এক ঝলক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরহুম ওসমান হাদীর কারণে কবি নজরুলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯


ইনকিলাব মঞ্চের জাবের সাহেব মাইকের সামনে দাড়িয়ে যখন বললেন , শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের উসিলায় নাকি এদেশের মানুষ আজ কবি নজরুলের মাজার চিনতে পারছে, তখন মনে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের শিক্ষা - ১

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ৯:২৬



সমাজ আমাদের বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা করে। কখনো ধন-সম্পদ দিয়ে, আবার কখনোবা কপর্দকশূন্যতা দিয়েও! সমাজের এই পরীক্ষায় কেউ জিতেন, আবার কেউবা পুরোপুরি পর্যুদস্ত হয়ে বিদায় নেন এই ধরাধাম থেকে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিষন্ন মেঘের ভেলায় ভেসে....

লিখেছেন ইন্দ্রনীলা, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ১০:২৯



তোমাকে শুধু একটাবার বড় দেখতে ইচ্ছা করে...
এই ইচ্ছায় আমি হয়ে যাই একটা ঘাসফড়িং
কিংবা আসন্ন শীতের লাল ঝরাপাতা,
উড়ে যাই ভেসে যাই দূর থেকে দূরে...
অজানায়...

শরতের কাঁশফুলের পেঁজা তুলো হয়ে
ফুঁড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×