somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবন সুন্দর করতে বেশি সময় লাগার কথা না।

১৭ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ৯:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আপনাকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে যে আপনার জীবনের ৫ টা সুখের ঘটনা বলেন। আপনাকে ভাবতে হবে নিশ্চই। আর যদি দুঃখের কথা বলতে বলা হয় তাহলে অবশ্যই ভাবতে হবে না। এর পেছনে কারন আছে। আমরা কিন্তু সারা জীবন সুখের জন্যই পথ চলি, চেষ্টা করি সাধনা করি। কিন্তু তবুও কেন আমাদের সুখের ঘটনা বলার জন্য জীবনের মধ্যে খুঁজতে হয়? কষ্ট আমরা কখনই পেতে চাই না কিন্তু তবুও এই জিনিসটার অভাব নেই। এর কারনটা হল আমাদের সুখের সময়টা মনে থাকে না বা আমরা মনে রাখি না। আমরা মজাদার বা মুখরোচক খাবার প্রায়ই খেয়ে থাকি কিন্তু সে কথা আমাদের মনে না থাকলেও কবে খাবারের জন্য কষ্ট করেছি সেটা স্পষ্ট মনে আছে।
অন্য দিকে কষ্টের সময়টা আমরা মনে রাখি বা স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের মনে থেকে যায়। আর এই খুব সাধারন কারনটার জন্য আমাদের জীবন গুলো কষ্টে কষ্টে ভরা। আমাকে যাদের মনে আছে বা যারা মাঝে মাঝে মনে করেন বা যাদের আমার কথা মনে পরে তারা বেশির ভাগ খারাপ কারনেই মনে করেন এটা নিশ্চিত। কেউ মনে মনে গালি দেয় বা কেউ কেউ কষ্টের সময় আমাকে মনে করেন। আবার অনেকে হয়তো কারো সাথে দুঃখের কথা বলার সময় আমার কথা মনে করেন। আসলে তারাই আমাকে মনে করেন যাদের জীবনে আমার পদচারনা রয়েছে বা যে কোন কারনে আমি তাদের জীবনের মধ্যে ঢুকে গিয়েছিলাম। মজার বিষয় হচ্ছে তারা আমাকে ধন্যবাদ দেয়ার জন্য মনে করেনা এটা তো বলাই যায়। আমি তাদের জীবনে দুইটা ক্ষতি করলে তার আগে দশটা উপকারতো করে থাকতে পারি!! কিন্তু সেই স্বাভাবিক কারনে তারা উপকারের বা সুখের সময়কে ভুলে গিয়ে আমার দ্বারা হওয়া ক্ষতিকে মনে করে দুঃখ পায়।
আমি এটা ভেবে কষ্ট পাই যে একজন আমার উপকার ভুলে গেল অথচ অনিচ্ছাকৃত ভুল বা ক্ষতিটাকে মনে রাখলো!! কিন্তু এটা সেই স্বাভাবিক নিয়মের মধ্যে পরেছে। আমরা কষ্ট না পেয়ে বরং তাদের আরো উপকার করায় ব্রত হতে পারি। আর মানুষের মধ্যে দোষ থাকবেই কিন্তু সেটাকে খুঁচিয়ে উপরে তোলার দরকার কি?
খুব নিখুঁত ভাবে খেয়াল করলে দেখা যায় আমরা যখন কারো সম্পর্কে আলোচনা করি তখন তার দুইটা গুনের কথা না বললেও চল্লিশটা দোষের কথা বলতে ভুলি না। এই অভ্যাস আমাদের নিজেদেরকেই দুঃখের সাগরের দিকে নিয়ে যায়। আমরা মানুষগুলো কত বোকা তা বোঝা খুব কঠিন না। আমার এক আত্মীয় যার সাথে আমার সম্পর্ক মাত্র দুই মাসের তার কথা শুনে ক্ষেপে গিয়ে আমার নিজের ভাই যার সাথে সম্পর্ক ছাব্বিশ বছরের তাকে ভুল বুঝি। একবারের জন্যও ভাবি না যদি আমার ভাইয়ের এত দোষ থেকে থাকে সেটা ছাব্বিশ বছরে আমার চোখে পড়লনা অথচ ঐ আত্মীয়ের কয়েক দিনে চোখে পড়লো? এভাবেই আমরা ছোট ছোট দোষকে ক্ষমা না করে আপন মানুষের সাথে চিরদিনের জন্য শত্রুতা শুরু করে দেই। আর আমরা দিনে দিনে হয়ে যাই আরো একা থেকে আরো একা।
জীবনটা সুখের করা অনেক সোজা। নিজেকে একটু শুধরে নিলেই হয়। জীবনটাকে একটু ভাল করে পড়লেই হয়। আমার জীবন আমি যদি সুন্দর আর আনন্দময় করে গড়ে তুলতে না পারি তবে কেউ এসে সেটাকে বানিয়ে দিয়ে যাবে না। মানুষের দোষ নিয়ে না ভেবে তাদের গুন আর নিজের গুন নিয়ে না ভেবে নিজের দোষ নিয়ে ভাবলে জীবন সুন্দর করতে বেশি সময় লাগার কথা না।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ১০:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ সম্পদ কি?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২১



এই মুহুর্তে আমি গাজীপুর যাচ্ছি।
সময় সকাল দশটা। রবিবার। রাস্তায় জ্যাম যেতে অনেক সময় লাগবে। লাগুক। সমস্যা নেই, হাতে অনেক সময় আছে। আজ আমার কোনো কাজ নেই। বউ বাচ্চা বাসায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাসিত নক্ষত্রের শহর !

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯



রাতের শেষে যে শহর জেগে থাকে
তার ভাঙা নীয়ন আলোয়
আমি দেখেছি মানুষের মুখ—
অথচ দেখিনি মানুষ ।
দেখেছি ক্লান্ত আত্মারা,
ধীরে ধীরে আত্মহুতি দেয় প্রতিরাতে।

চারদিকে শব্দ ছিল,
হাজার কথার বিষাক্ত ভিড় ছিল,
কর্পোরেট... ...বাকিটুকু পড়ুন

"তোমরা আমাদের মানুষদের কেন খুন করলে?"

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:০১

জাপানের মানুষেরা আজও বুঝতে পারে নাই, কেন তাঁদের ছেলেমেয়েদের এভাবে হত্যা করা হলো। সেই দেশের মুরুব্বীরা এখনো এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফেরেন। আক্ষেপ করেন। আমার বোনের জামাই জাপানে পোস্ট ডক... ...বাকিটুকু পড়ুন

শত্রুর শত্রু

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:১৪

উগ্রবাদী আর উদারবাদী, দুটি ইসলামই একই রাজনীতি করে। তাবলীগ জামাতের লোকটি মাঠে এসে বলে মেয়েদের ফুটবল হারাম। তারপর বিশ্বকাপে সৌদি আরবকে সমর্থন করে রাস্তায় নামে। এই দুটি আচরণ পরস্পরবিরোধী নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২৩



বিয়ের মঞ্চে বসে আছি। মঞ্চ বলতে চকির মতো একটা খাট, তার সম্ভাবত এক পা ছোট বা নাই, কারন সামান্য নাড়াচাড়ায় খাটা টালমাটাল হয়ে একদিকে কাত হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×