”এ সমাজে যারা খাটে তারা কিছু অর্জন করে না। আরযারা সবকিছু পাই তাদের খাটতে হয় না” - কথাগুলো আলকাছ চেয়্যারম্যান এর বেলায় একে বারেই সত্যি নয়। আলকাছ চেয়্যারম্যান এর পিতৃ প্রদত্ত নাম ছিল আক্কাস। সে খান থেকে কবে কখন আলকাছ হয়ে গেল তা কেউ জানে না। আজ প্রায় ১২ বছর হল হরিণপাতা ইউনিয়নের চেয়্যারম্যান আলকাছ চেয়্যারম্যান। এ ইউনিয়নের এক রকম রাজা তিনি। না চাইতেই সব পান। কিন্তু এই ৫৮ বছর বয়সে এসেও তার পরিশ্রমের শেষ নেই। অত্যাচারী এবং অত্যাচারীত শ্রেণী সর্বদাই পরস্পরের প্রতিপক্ষ হয়ে থেকেছে। অবিরাম লড়াই চালিয়েছে ক্খনও প্রকাশ্যে কখনো বা আড়ালে। আমাদের আলকাছ চেয়্যারম্যান এক সময় অত্যাচারীত দের দলেই ছিল। তবে সে মুক্তিযুদ্ধের আগের কথা। মুক্তিযুদ্ধের সময় বেশ কিছু ঘটনা চক্রে তার হাতে প্রচুর সম্পত্তি এসে পড়ে। বুদ্ধিমান লোক সুযোগ হাত ছাড়া করে না। আলকাছ সাহেব ও হঠ্যাৎ করে নিজের সত্তাকে বিকিয়ে দিয়ে ধনীদের কাতারে নাম লিখিয়ে ফেলেন। তার পর সেই ধন আগলে রাখা আর তা বাড়ানোর কলা কৌশল এক সময়ের ভূমিহীন কে আজকের আলকাছ চেয়্যারম্যান এ পরিণত করেছে। আলকাছ সাহেবের সাত ছেলে চার মেয়ে। সকলেই আজ বেশ প্রতিষ্ঠিত। সমাজে নিজ নিজ অবস্থান শক্ত করেছে। আজকের সমাজ পরিবার প্রথা থেকে তার ভাবালু ঘোমটা টাকে ছিড়ে ফেলে পারিবারিক সম্বন্ধকে নিছক আর্থিক সর্ম্পকে পরিণত করেছে। আলকাছ সাহেবের বেলায়ও তাই। তার সন্তানেরা কেউ তার কাছে থাকে না। তার চার বউ এর তিন জন ইতিমধ্যে গত হয়েছেন। ছোট বউকে নিয়ে তার বর্তমান সংসার। আর কাছের মানুষ বলে তার এক ছোট ফুফাতো ভাই। যে ছায়ার মত আগলে রাখে তাকে। চেয়্যারম্যান সাহেবের সকল সুকীর্তি-কুকীর্তির স্াথী। ইউনিয়নে তার ও তার ছেলেদের দাপটও কম নয়। কোন শ্রেণীর উপর অত্যাচার বজায় রাখতে হলে তার জন্য এমন একটা অবস্থা নিশ্চিত করতে হয় যাতে তার দাসোচিত অসিত্মত্ব টুকু অন্তত চালিয়ে যেতে পারে। হরিণপাতা ইউনিয়নে সে রকম একটা অবস্থা সৃষ্টি করে রেখেছে আলকাছ চেয়্যারম্যান। ইউনিয়নের অর্ধেকের বেশী জমি তার। উনি নিজেও জানেন না ওনার কত জমি। কিন্তু ভিতরের খবর হল তার সবচেয়ে কাছের লোক ফুফাতো ভাই মিজান মিঞা প্রায় সব জমিই নিজের নামে করে ফেলেছে। তবে খুব সাবধানে আর কৌশলে। আলকাছ চেয়্যারম্যান বেচেঁ থাকলে তার পক্ষ এ সমপত্তি কোন দিন ভোগ করার সুযোগ নেই। আজ তার আশা পূরণ হতে চলেছে। আলকাছ চেয়্যারম্যান মৃতূ শয্যায়। ১১ ছেলে-মেয়ের কেউ পাশে নেই। মিজান মিঞার দেরী সহ্য হচ্ছে না। আলকাছ চেয়্যারম্যানের যেন কই মাছের জান। এই যায় যায় তো আবার ফিরে আসে। ধর্য্যর বাধঁ ভেঙ্গে মানুষ অমানুষ হয়ে যায়। মিজান মিঞা ভেবে চিনেত্ম ঠিক করেছে আজ রাতে সে আলকাছ চেয়্যারম্যান কে মেরে ফেলবে। কি ভাবে মারবে তাও ঠিক করা। তার কাছে মানুষ মারা নতুন কিছু না। আলকাছ চেয়্যারম্যান এর কথায় কম মেয়েকে এ ইউনিয়নে সে বিধবা করেনি। তবে কোথায় যেন একটা সাহসের অভাব। মনের কোন অংশ যেন সায় দিচ্ছে না। একদিন এই আলকাছ চেয়্যারম্যান তাকে প্রায় শূণ্য থেকে তুলে এনে আশ্রয় দিয়েছিল। প্রতিটি মানুষের ভিতর দুটো সত্তা থাকে। একটি মানুষ সত্তা আর একটি অমানুষ সত্তা। শেষ পরযন্ত অমানুষ সত্তার ই জয় হল। এই ঘরে এখন কেউ নেই। বিছানায় আলকাছ চেয়্যারম্যান ঘুমিয়ে আছে। পাশে বসে আছে মিজান মিঞা। স্বিধান্তহীনতায় ভুগছে। হাতের কাছেই বালিশ। মুখে চেপে ধরলেই সব সমস্যা মিটে যায়। মিজান মিঞা বালিশ হাতে নিল। এই প্রথম তার হাত কাপঁছে মানুষ মারতে গিয়ে। অজানা আশঙ্কায়। অমানুষ সত্তাটা যদিও জেগে উঠেছে। ঠিক এ সময় হঠ্যাৎ বিদ্যূৎ চলে গেল। সমস্ত ঘর অন্ধকার। মানুষের মানুষ হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান এই অন্ধকারের। অন্ধকারকে জয় করতে গিয়েই আজকের মানব সভত্যা। আবার এই অন্ধাকারের মানুষ হয়ে যাই অমানুষ ... ... . . . . . . . . . ।
আলোচিত ব্লগ
অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন
বিএনপির আবালীপনা।


চলতি পথের গল্পঃ দুই

‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।
এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক
‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন
Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ
![]()
প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।