somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হেরে যাওয়ার গল্প।

১৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৯:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বেশ অনেক দিন কিছু লেখা হয়না। সেদিন রাতে অবশ্য খুব লিখতে ইচ্ছা হচ্ছিল। শহরে একটু আগেই হালকা বৃষ্টি হয়ে গেল। ঠান্ডা ঠান্ডা লাগছিল। কিন্তু কেমন জানি সব কিছু শান্ত করে দিল খবরটা। প্রেমিকার এনগেজমেন্ট অসাধারন কোন ব্যাপার না। পৃথিবীতে প্রতিদিন কত শত সম্পর্ক ভেঙ্গে যাচ্ছে, কতজন ভুলে যাচ্ছে কতজনের কথা। ঘন ঘন পানি পিপাসা পাচ্ছিল। কাউকে বলতে ইচ্ছা হচ্ছিল আমার হেরে যাওয়ার গল্পটা, হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া এক মানবীর গল্প। সেই হঠাৎ একা লাগতে থাকা মাঝরাতে সেদিন কাউকে পেলাম না। কেমন জানি একটা শূন্যতা, ভোঁতা একটা অনুভূতি। পানি ভর্তি বোতল গুলো শেষ করে নিকোটিনের অভাববোধ হল। অন্ধকারে লাইটার খুঁজে পেলাম না। আলো জ্বালাতেও ভয় হল। এমনিতেই কেমন জানি তীব্র একটা আলোতে চোখ জ্বালা করছিল। অন্ধকার এই ঘরে এতো আলো কি করে আসলো কে জানে?

সব আলো বন্ধ করে শুয়েছিলাম। ভোরের দিকে ঘুম পাচ্ছিল। ঘড়িতে দেখলাম কয়টা বাজে। হিসাব করার চেষ্টা করলাম ঢাকায় এখন কয়টা বাজে। মাথা ভালো মতন কাজ করছিল না। ভোরের আলোর সাথে মিশে ছিল ভয়াবহ এক শূন্যতা। সন্ধ্যার আকাশের সাথে এই আকাশটার কোথায় যেন মিল আছে। মহাপুরুষ হতে পারিনি বলে ঘুম,ক্ষুধার মত জৈবিক ব্যাপার গুলো এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি। প্রচন্ড ক্লান্তিতে ঘুম আসছিল। সব ক্লান্তি যেন একসাথে জড়ো হল চোখের পাতায়। চোখ জুড়ে আর কিছুই ছিল না, প্রিয় কোন মুখ ছিল না, ছিল শুধু সহস্র মাইল হেঁটে আসার ক্লান্তি।

ঘুম থেকে উঠে শুরু হল নতুন দিন। বেশ রোদ উঠেছে। ভাবছিলাম ভালোইতো হল। বোহেমিয়ান একটা মানুষকে ভালোবাসা যায় কিন্তু সংসার করতে গেলে সেই মানুষটা খুব একটা সুবিধার হওয়ার কথা না। ইয়ারফোনে দুঃখ দুঃখ টাইপের কিছু গান চলছিল। শুনতে ইচ্ছা হচ্ছিল,বব ডিলানের ইট্স অলরাইট। প্লেলিস্টে খুঁজে পেলাম না। অযথা বাজতে থাকল, জন ডেনভারের ফ্লাই অ্যাওয়ে। পোর্টসমাউথ থেকে এক বন্ধুর আসার কথা ছিল রাতে। কিছু কেনাকাটা করতে হবে। একা একা সারা দুপুর সুপারশপ গুলোতে ঘুরলাম। একটার পর একটা সারি পেরোচ্ছি আর ভরে ফেলছি আমার ট্রলি। সেল্ফ পে থেকে পে করলাম। চেক আউটে বসে থাকা মানুষটার কৃত্রিম হাসি দেখতে হলনা। বাসায় এসে একা একা অক্টোপাস রান্না করলাম। একা একা খেয়ে দেয়ে একা একা একটা সিগারেট।

পুরো সন্ধ্যাটা কাটিয়ে দিলাম উদভ্রান্তের মতো হাঁটাহাঁটি করে। তারপর অপেক্ষা করছিলাম বন্ধুর জন্য। রাতের ভিক্টোরিয়া স্টেশন আলোতে ঝলমল করছিল। স্টেশনের রেস্তোরা গুলোর কোন টেবিলটাতে আমরা কবে বসেছিলাম সব যেন মনে আছে। টেবিলের অন্য প্রান্তে বসে সেদিন আর কেউ হাসছিল না আমার কথায়। সামনের চেয়ারটা যেন মহাশূন্যের মত ফাঁকা। বন্ধু বাস থেকে নেমে জিজ্ঞেস করল,কেমন আছিস? আমার নির্বিকার উত্তর, ভালো আছি। হেরে যাওয়ার গল্প সবাইকে শুনাতে নেই। সবাই বিরক্ত হ্য়।







সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৯:১৪
২১টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ; এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

এপস্টেইনের এলিট: ইসরায়েলের মিডিয়া নিয়ন্ত্রন এবং প্রপাগাণ্ডা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৬:৩৮


ইতিহাসবিদ ইলান পাপে বলেছেন, "ইসরায়েল অবৈধ বসতি স্থাপনকারী, ঔপনিবেশিক শক্তির একটি প্রজেক্ট। এটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা স্বাভাবিক রাষ্ট্র নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবস্থা"। এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×