somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেঘ।

০৪ ঠা মার্চ, ২০১০ সকাল ৯:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হঠাৎ করে লিখতে ইচ্ছে হল। অন্যসময় অনেক ভেবেচিন্তে লিখতে বসি। কি নিয়ে লিখব ঠিক করা থাকে। আজকে তেমন কিছু নেই। যেন লেখার জন্যেই লেখা। যেমন অনেকটা বেঁচে থাকার জন্যেই বেঁচে থাকা। সামনে ফাইনাল পরীক্ষা। যেন এইতো আর কিছুদূর। কিন্তু আসলেই কি তাই?
আসলেই কি গন্তব্য বলে কিছু আছে? অন্তত: আমার বাবাকে দেখে এটুকু বোঝা যায় না। পুরোটা জীবন দেখেছি তার ছুটে চলা। শহরের এ প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত। এক শহর থেকে অন্য শহর। কখনো এই দেশ থেকে ঐদেশ।

আর আমি? নিজেকে খুঁজে বেরিয়েছি প্রতিনিয়ত। অনেক খুঁজে দেখা পেয়েছি নিজের ভেতরের যন্ত্র অংশটুকুর। যে অংশটুকু প্রতিনিয়ত হিসাব করতে থাকে। আর মানবীয় অংশটুকু আজো যেন অচেনা থেকে গেলো।

এইটুক পর্যন্ত লেখার পরে গিয়েছিলাম বন্ধুর বাসায়। বেশ জমজমাট আড্ডা। আড্ডা গুলোতে আজকাল একটা বিষয় ঘুরে ফিরে আসে। কে কখন ঢাকায় যাবে। কে কবে গিয়েছিল। এইসব হাবি জাবি। এয়ারলাইন্স গুলো নিয়ে এক একজনের এক এক রকম অভিজ্ঞতা। তবে বিমান কে নিয়ে কমবেশী সবাই হতাশ(আমি নিজেও)। আসলে লন্ডন প্রবাসীদের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমিক সহযাত্রীদের ব্যাপারে একটা নাকউঁচু স্বভাব দেখা যায়। হয়তো ফ্লাইটে স্মার্ট লন্ডনার রা এইসব শ্রমিকদের নানান কান্ডকলাপে মজা পায় অথবা বিরক্ত হয়। অথচ বাংলাদেশের রেমিট্যান্সে তাদের অবদান কিন্তু অস্বীকার করার উপায় নেই।

রাত গভীর হওয়ার আগেই নিজের ডেরায় ফিরে এলাম। আমার একান্ত আপন ঘরটা যেন আমারই জন্যে প্রতিদিন অপেক্ষা করে। সেই প্রথম যেদিন এই শহরে পা রাখি সেদিন থেকেই এই ঘরটা আমার প্রবাস জীবনের অংশ হয়ে গেছে। মাঝখানে কিছুদিন এদিক ওদিক। তারপর আবার এই ঘরটাতে।

ঘরে ঢোকার কিছুক্ষনের মধ্যেই পাওয়ার কাট। পুরো এলাকা হঠাৎ অন্ধকার হয়ে গেলো। আমরা বাংলাদেশের মানুষ লোডশেডিং এর সাথে বেশ পরিচিত হলেও এদেশের লোকজন একেবারেই অজ্ঞ। পাশের রুম থেকে ল্যান্ডলেডির মেয়ে ভয় পেয়ে বেরিয়ে এসেছে। আমি খুব স্বাভাবিকভাবেই ঘরের ভেতর বসে আছি। অনেকদিন পরে যেন বাংলাদেশে চলে এসেছি, এরকম একটা অনুভূতি। মনে পড়ছে বৃষ্টির সন্ধ্যাগুলোতে লোডশেডিং এর কথা। মনে পড়ছে অন্ধকারে ডুবে থাকা ধানমন্ডির রাস্তা গুলো। কারেন্ট আছে নাকি নেই জানতে চাওয়া টেক্সট গুলোর কথা।
আসলে এমনি নাকি হয়। কিছু কিছু ব্যাপার বয়সের সাথে সাথে শেষ হয়ে যায়। যেমন,স্কুল পেরোলে আর কেউ জানতে চায়না, হোমওয়ার্ক করেছি কি না, ইউনিফর্ম শুকিয়েছে কি না। কলেজ পেরোলে আর কেউ প্রশ্ন করে না, টেস্ট পেপার কোনটা কিনেছি।
একটা সময় সবাই জিজ্ঞেস করতে থাকে, ফ্রি আছি কি না। আসলে ভালো থাকার প্রবল প্রতিযোগিতার এই যুগে আমরা আসলে কেউ ফ্রি থাকতে পারি না। আমরা ব্যাস্ত থাকি, যারা ব্যাস্ত থাকতে পারি না তারা ব্যাস্ততার অভিনয় করতে থাকি। আর যারা অভিনয় করতে পারে না, তারা ফ্রি থাকে। তারা উদ্দেশ্যহীন ঘুরে বেড়ায় গোটা শহর জুড়ে। তারা এক একজন বোহেমিয়ান। তারা একাকী অষ্টপ্রহর হেঁটে চলে গন্তব্যহীন।

সমুদ্রপারের এই শহরটার রাস্তাগুলোতে আমিও একসময় অনেক হেঁটেছি। একা একা। রাতের পর রাত। হাঁটতে হাঁটতে এখন বেশ ক্লান্ত লাগে। ব্যাস্ত হয়ে যেতে ইচ্ছা করে। সবকিছু ভুলিয়ে দেয়া প্রবল ব্যাস্ততার জন্যে ব্যাকুল হয়ে অপেক্ষা করি। কারন অলস সময় গুলোতে খুব বেশী শূন্য লাগে। মনে পড়ে যায়, অনেক বছর আগে সেই ক্লাস টু-তে একবার কেঁদেছিলাম। তারপর থেকে এই কান্নাহীন যাত্রা। ইদানিং কাঁদতে ইচ্ছা করে। শুনেছি কাঁদলে নাকি অনেক হালকা লাগে। কিন্তু আমি যেন ভুলে গেছি কিভাবে কাঁদতে হয়। গলার কাছে উঠে আসা কান্নাকে আমি অপূর্ব দক্ষতায় গিলে ফেলি। আমার আর হালকা হওয়া হয়না। অজস্র বৃষ্টিকনা নিয়ে আকাশে ভেসে বেড়ানো দিকভ্রান্ত মেঘ গুলোর মতো আমিও ঘুরে বেড়াতে থাকি পশ্চিমা শহরের আলো ঝলমল রাস্তায়।

সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মার্চ, ২০১০ সকাল ১০:০৭
১০টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ; এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

এপস্টেইনের এলিট: ইসরায়েলের মিডিয়া নিয়ন্ত্রন এবং প্রপাগাণ্ডা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৬:৩৮


ইতিহাসবিদ ইলান পাপে বলেছেন, "ইসরায়েল অবৈধ বসতি স্থাপনকারী, ঔপনিবেশিক শক্তির একটি প্রজেক্ট। এটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা স্বাভাবিক রাষ্ট্র নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবস্থা"। এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×