
বাবা ও মেয়ে ড: সমীর সাহা এবং ড:সেজুতি সাহা কে অসীম অভিনন্দন যে তাদের অনেক পরিশ্রমের ফসল হিসাবে বাংলাদেশের করোনা ভাইরাস এর সম্পূর্ন জিনোম কে সিকোয়েন্স (ডিএনএ ডিকোড) করেছেন যাতে অন্য দেশের করোনা ভাইরাস এর সাথে এখন তুলনা করা যাবে। এই কাজ আরো অনেক আগেই করা উচিত ছিল ....যেখানে সারা বিশ্ব থেকে প্রায় ৩০,০০০ করোনা ভাইরাস এর জিনোম কে সিকোয়েন্স করা হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ থেকে সবেধন নীল মনি একখান ভাইরাস এর জিনোম এখন জানা গেল...।নতুন কিছুই নাই ...।বাংলাদেশের করোনা ভাইরাস প্রায় ১০০% সেইম চায়না এবং অন্যান্য দেশের এর ভাইরাস এর সাথে...তবে তার ৩০,০০০ ডিএনএ 'অক্ষর' মাঝে ৯ টা ডিএনএ 'অক্ষর' এ চেন্জ আছে ...যেটা নরমাল মিউটেশন এর ফল। তবে একটা মিউটেশন যেটা হওয়ার ফলে চায়নার ভাইরাস এর এস প্রোটিন এর একটা অংশে পরিবর্তন হয়েছে বাংলাদেশের ভাইরাসে যেটা হল (D614G) এবং এই মিউটেশন সারা বিশ্বেই এখন পাওয়া যাচ্ছে....তবে এই মিউটেশন টা নেচার এ টিকে আছে যেহেতু এটা এই ভাইরাসকে বংশবৃদ্ধি তে সাহায্য করে....আর এই মিউটেশন টা ইউরোপ -আমেরিকাতে বেশী সাহায্য করে করোনা ভাইরাসকে কিন্তু এশিয়াতে বেশী না....তাই আমার মনে হয় বাংলাদেশ এবং এশিয়াতে যেহেতু এখন মুলত এই D614G মিউটেশন এর করোনা ভাইরাস পাওয়া গেল, সেহেতু এটা হয়ত তত বেশী ক্ষতি করতে পারবে না যেহেতু এই মিউটেশন এর ফলে ভাইরাস টা সহজেই এশিয়ান লোকজন এর কোষে প্রবেশ করতে পারে না কিন্তু ইউরোপ-আমেরিকার মানুষের কোষে খুব সহজেই সে আক্রান্ত করতে পারে....।
এটা সম্ভব কেননা মানুষের এর মাঝে একটা জিন (gene) আছে সেটার নাম হল TMPRSS2 আর ইউরোপ আমেরিকার মানুষের মাঝে এই জিন এ একটা মিউটেশন খুব কমন তাকে বলে delC (মানে হল ডিএনএ এর একটা অক্ষর হল C and the C is deleted) আর এই জিন এর মিউটেশন হলে সে খুব সহজেই ভাইরাস এর D614G মিউটেশন কে রিকগনাইজ করে ভাইরাস এর এস প্রোটিন এর একটা অংশ কেটে ফেলে আর তাতেই এস প্রোটিন কোষে খুব সহজেই ঢুকতে পারে....। কিন্তু ফুরচুনেটলি এশিয়ার মানুষের মাঝে TMPRSS2 জিন এর delC মিউটেশন নাই, তাই এশিয়ার মানুষের TMPRSS2 জিন ভাইরাস এর D614G মিউটেশন কে রিকগনাইজ করতে পারে না এবং কোষে ঢুকার জন্য এস প্রোটিন কে কেটে সাহায্য ও করে না..তাই এশিয়াতে আমেরিকা-ইউরোপের তুলনায় অনেক কম প্রাদুর্ভাব....তবে আমেরিকা-ইউরোপ এ অনেক এশিয়ান ও আক্রান্ত হয়েছেন....তাদের মাঝে অনেকেই অনেক উদাসীন ছিলেন শেষ পর্যন্ত্য ....আমেরিকার জ্যাকসান হাইটস এ মার্চের শেষ দিকে ও জমজমাট ছিল....। এশিয়ান যারা ঘরে আছে বা ছিলেন তাদের মাঝে খুব কমই আক্রান্ত হচ্ছেন।
তবে একটা কথা...নেচার কখনই কোন মিউটেশন কে বাচিয়ে রাখে না যে মিউটেশন কোন উপকারে আসে না....।তাই ভয় হয় করোনা ভাইরাস যাদের মাঝে D614G মিউটেশন আছে তারা আস্তে আস্তে হারিয়ে যাবে এশিয়া থেকে কিন্তু সে নতুন কোন মিউটেশন নিয়ে আসবে যেটা এশিয়ান দের জন্য মারাত্মক হয়ে উঠবে.... তখন হয়ত একজন ব্লগার করোনাতে আমেরিকা লন্ডভন্ড বলে আর পোস্ট না দিয়ে চিন্তা করবে এর বৈজ্ঞানিক কোন কারন
একটা ভ্যাকসিন খুবই জরূরী তবে ভাইরাস অনেক বেশী মিউটেটেড হলে আবার বিপদ..তখন আবার নতুন ভ্যাকসিন লাগবে....তবে ঔষুধ আসলে ও ভাল...
শ্রদ্ধা জানাই বিজ্ঞানী সমীর সাহা ও সেজুতি সাহা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর খাদেমুল ইসলাম, মুসতাক আই্য়ুব, এবং গনস্বাস্হ্য এর ড: বিজন শীল যারা পৃথিবীর অন্যদেশের বিজ্ঞানী এর দের সাথে তাল মিলিয়ে স্বল্প রিসোর্স এর মাঝে থেকেই এক্সসিলেন্ট গবেষনা চালিয়ে যাচ্ছেন করোনা ভাইরাস নিয়ে।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মে, ২০২০ সকাল ৯:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


