somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

করোনায় কারা মারা যাচ্ছেন???

০১ লা জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১২:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমরা সবাই জানি যে বয়স্ক এবং যাদের হাই ব্লাড প্রেশার/ডায়াবেটিস, তারাই বেশী মারা যাচ্ছেন করোনাতে। তবে অনেক সময় দেখা যাচ্ছে অনেক হাই রিস্ক বয়স্ক লোকজন দিব্য করোনাকে জয় করছেন কোন কম্প্লিকেশন ছাড়াই আবার অনেক কম বয়সী লোকজনও যাদের কোন রিস্ক ফ্যাকটর নাই, তারাও অনেকেই করোনাতে আক্রান্ত হয়ে হঠাৎ করে মারা যাচ্ছেন।'নতুন' থিয়োরী বের হচ্ছে যে, কারা করোনায় বেশী কম্প্লিকেশন এ ভুগবেন বা মারা যাবেন তা মেইনলি আপনি কিভাবে এবং কত বেশী মাত্রায় আক্রান্ত হয়েছেন, সেটার উপরই নির্ভর করে। যারা ইনডোরে কাজ করেন সারাদিন যেমন গ্রোসারী স্টোর, বা অফিসে, হয়ত আপনি অনেকক্ষন ধরে কোন সংক্রামিত ব্যাক্তির সংস্পর্সে ছিলেন, যার জন্য আপনি হয়ত খুব বেশী পরিমান ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হয়েছেন। অন্যদিকে কেউ একজন হয়ত ১০ মিনিটের জন্য কোন সংক্রামিত লোকের সংস্পর্সে এসে করোনায় সংক্রমিত হলেন কিন্তু ভাইরাস এর পরিমান খুবই কম। কিন্তু আরটি-পিসিআর টেস্টে কিন্তু দুজনকেই করোনা পজিটিভ হিসাবে দেখাবে। এই ভাইরাস এর পরিমান কে সহজ ভাষায় বলে যে viral load. এখন আপনি যদি করোনা পজিটিভ হোন, তাহলে কিভাবে জানবেন আপনার viral load? এটা জানা খুবই সহজ, যদি আপনি জানেন কিভাবে আরটি-পিসিআর টেস্ট করা হয়। আরটি-পিসিআর, নরমাল পিসিআর থেকে আবিস্কারই হয়েছে কত কপি ডিএনএ/আরএনএ আছে স্যাম্পল এর মাঝে সেটা নির্নয় করার জন্যই। এই জন্যই RT-PCR এর আরেক নাম হল qPCR- এখানে q মানে হল quantitative।

প্রথমে ভাইরাস এর আরএনএ থেকে ডিএনএ বানানো হয় আর এই ডিএনএ কেই ল্যাবে মেশিনে ফটোকপি মেশিনের মত কপি করা হয়। (আরএনএ কে কপি করার পদ্ধতি এখনও আবিস্কার হয় না) এই কপি করা হয় বিভিন্ন cycle এ। ধরুন আপানর স্যাম্পলে ১০ টা কপি ভাইরাস আছে। তখন প্রথম cycle ১০ টা কপি হয়ে ২০টা ভাইরাস ডিএনএ এর কপি হবে, পরের সাইকেলে হবে ৪০টা ভাইরাস ডিএনএ কপি, তারপরের সাইকেলে হবে ৮০টা কপি...। এভাবে ই প্রতি cycle এ ভাইরাস ডিএনএ ডাবল হতে থাকে মেশিনের ভিতর এর। একটা cycle হল: ৯৫ ডিগ্রিতে ১০ সেকেন্ড, ৫৫ ডিগ্রিতে ~৩০ সেকেন্ড, ৭২ ডিগ্রিতে ১ মিনিট এভাবেই পরের cycle বার ৯৫ ডিগ্রি দিয়ে আরম্ভ হয়।আর কত সাইকেল পর একটা সেট করা ভাইরাস কপি লেভেলে পৌছায়, সেই সাইকেল নাম্বার কে বলা হয় Ct value।

এখন ডিটেকশান সিস্টেম একটা থ্রেশহোল্ড (সীমা) থাকে: যে কয়টা cycle লাগে একটা সেট করা ভাইরাস কপি লেভেল ডিটেক্ট করার জন্য। মনে করুন মেশিনের এই লিমিট হল ৮০০,০০০ কপি ভাইরাস। এখন আপনার স্যাম্পলে যদি ১০ টা ভাইরাস কপি থাকে তাহলে হয়ত ৩৫ বার cycle করার পর এই ৮০০,০০০ কপি তৈরী হবে (Ct value ৩৫) কিন্তু যার স্যাম্পলে ১০০০ কপি ভাইরাস আছে, তার হয়ত ২০ বার cycle করার পরই ৮০০,০০০ কপি ভাইরাস ডিএনএ তৈরী হবে মেশিনে (Ct value ২০)। উপরের ছবিতে Y axis এর Fluorescent Intensity level 0.5 সেট করা হয়েছে ভাইরাস এর ৮০০,০০০ কপির সমান। এখানে দেখা যাচ্ছে যে প্রায় ৩২ cycle এর সময় এই ৮০০,০০০ কপি ভাইরাস লেভেল কে ক্রস করেছে, তাই এই স্যাম্পল এর Ct value হল ৩২ এর মত।

মনে রাখবেন যে স্যাম্পলে ইনিশিয়াল কপি নাম্বার টা প্রতি cycle এ ডাবল হয়। মেশিন কে বলা হয় যদি কোন স্যাম্পল ৪০ cycle এর মাঝে ৮০০,০০০ কপি নাম্বারে পৌছে যায় তাহলে ই সে করোনা পজিটিভ। কারো Ct value ২০ হলেও করোনা পজিটিভ, আবার কারো Ct value ৩৯ হলেও করোনা পজিটিভ কিন্তু দুজনের মাঝে করোনার পরিমান আকাশ পাতাল তফাৎ। যার Ct value ৩৯, তার ভাইরাল লোড অলমোস্ট জিরো। আর যার Ct value ২০ তার করোনার পরিমান ভয়াবহ। এখন আমাদের করোনা রিপোর্টে শুধু পজিটিভ/নেগেটিভ বলা হয় যেটা মেশিন ঠিক করে cycle নাম্বার দিয়ে। কিন্তু মেশিন কিন্তু প্রিন্ট আউট দেয় তার Ct value ও কিন্তু সেটা রিপোর্ট দেওয়ার সময় বলা হয় না। আশা করি এখন যদি কোন করোনা সেন্টার এর নোটিশে আনা যায় যে, রিপোর্টে পজিটিভ হলে সাথে যেন Ct value ও দেওয়া হয়, যাতে মানুষ বুঝতে পারে তার কম্প্লিকেশন হওয়ার চান্স কত, তাহলে মানুষের অনেক উপকার হবে। নীচের ছবিতে দেখুন:


যার Ct value ১১, তার স্যাম্পলে ভাইরাস এর পরিমান ভয়াবহ, আর যার Ct value ৩৭, তার স্যাম্পলে ভাইরাস এর পরিমান খুবই কম এবং তার করোনাতে কম্প্লিকেশন হওয়ার চান্স খুবই কম।

আমেরিকায় কয়েকটা হাসপাতালে এটা নিয়ে গবেষনায় এর সত্যতা পাওয়া গিয়েছে। ভর্তি হওয়ার দিন যে ভাইরাল লোড ছিল তার উপর ভিত্তি করে দেখা গিয়েছে যে যাদের ভাইরাল লোড বেশী ছিল, তাদের বেশীর ভাগই মারা গিয়েছেন কিন্তু যাদের ভাইরাল লোড কম ছিল তারা কিছুদিনের মাঝে ভাইরাস মুক্ত হয়ে বাড়ী ফিরে গিয়েছেন।

এই লাইন টা আমি লিখেছিলাম ৭-৮ মাসের আগে সামুতে আমার একটা পোস্টে: " আপনার শরীর এর ইমিউন সিস্টেম ১০০০ ভাইরাসকে ট্যাকেল করতে পারে কিন্তু ১০০,০০০ ভাইরাস কপিকে ট্যাকেল করতে পারেনা। আর মাস্কই পারে আপনার শরীর কে ১০০,০০০ ভাইরাস কপি থেকে বাচাতে"

এমন দিন হয়ত দুরে নাই নাই যেখানে আর্টফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স দ্বারা নির্নয় করা হবে :অমুকের বয়স এত, ব্লাড প্রশার আছে এই লেভেলে, তার Ct value এত, তাহলে তার কম্প্লিকেশন হওয়ার সম্ভাবনা কত। সেকি হাসপাতালে ভর্তি হবে নাকি বাড়ীতে থেকে চিকিৎসা নিবে।
ডিসক্লেইমার: এখন স্যাম্পল কালেকশান যেহেতু standarized না, সেহেতু কিছুটা প্রবলেম থাকবেই। কেউ হয়ত নাকের অনেকদুর পর্যন্ত্য সোয়াব দিয়ে স্যাম্পল কালেকশান করা হল, অথচ আরেকজন স্যাম্পল কালেকশান করল গলা থেকে....তাহলে Ct value এর তারতম্য এই স্যাম্পল কালেকশান এর তারতম্য থেকেও হতে পারে। এই জন্যই দুই যায়গায় টেস্ট করিয়ে দেখা উচিত Ct value কি সেইম হয় কিনা।

বোনাস: মাহতিম সাকিব নামের একজন 'গায়কের গান দেখলাম/শুনলাম ইউটিউবে.....প্রচন্ড জনপ্রিয়..লাখে লাখে ফলোয়ার, লাইক এর ছড়াছড়ি...কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে বাথরুমে বসে গুন গুন করে (চাপা গলায়) উনি গান গাচ্ছেন... বাংগালীরা মনে হয় রুনা লায়লা আর বাথরুম সিংগার এর তফাৎ বুঝতে পারেন না
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৮:৩১
২৪টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

লজ্জা !!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ১২:০১

গল্পঃ কাছের মানুষ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১০:১৩



(১)
শরৎ পূর্ণিমার নিশি নির্মল গগন,
মন্দ মন্দ বহিতেছে মলয় পবন।

লক্ষ্মীদেবী বামে করি বসি নারায়ণ,
বৈকুন্ঠধামেতে বসি করে আলাপন।

হেনকালে বীণা হাতে আসি মুনিবর,
হরিগুণগানে মত্ত হইয়া বিভোর।

গান সম্বরিয়া উভে বন্দনা করিল,
বসিতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীর অন্যতম দামী খাবার পাখির বাসার স্যুপ

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১০:৩৫




পাখির বাসা দিয়ে বানানো স্যুপ চীনে বেশ জনপ্রিয় ও কয়েকশ বছরের পুরনো অভ্যাস। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল-পাখির বাসা দিয়ে রান্না করা স্যোপ এমনই স্বাদ যে, বারবার খেতে ইচ্ছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রেমের টানে

লিখেছেন দীপঙ্কর বেরা, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১১:৪৪


ফুলের শোভা পাপড়ি রঙে
মধুর রসে ভরা
ভ্রমর এসে সেই টানেতে
নিজেকে দেয় ধরা।

পাপড়ি মেলে ফুল তো ফোটে
জমায় মধু বুকে
ভ্রমরকে সে ডাকতে থাকে
মিলন মোহ সুখে।

ফুলের রেণু মেখে ভ্রমর
খিলখিলিয়ে হাসে
ফুলের কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার, আমার ভাইদের, বাবা, দাদু বাড়ির সবার নির্যাতনের বিচার চাই

লিখেছেন দয়িতা সরকার, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ১:২২

আমাদের দাদু বাড়ি ছোট বেলায় ছিল সিরাজগঞ্জ জেলার দেলুয়া গ্রামে। আমার দাদুর নাম বেলাল সরকার, বাবার নাম আমির হামজা সরকার। ছোট বেলা থেকেই দেখেছি আমাদের বাড়ির প্রত্যেক ছেলে- মেয়েদের মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×