somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কাওসার চৌধুরী
জন্মসূত্রে মানব গোত্রভূক্ত; এজন্য প্রতিনিয়ত 'মানুষ' হওয়ার প্রচেষ্টা। 'কাকতাড়ুয়ার ভাস্কর্য', 'বায়স্কোপ', 'পুতুলনাচ' এবং অনুবাদ গল্পের 'নেকলেস' বইয়ের কারিগর।

বিশ্বকাপ ফুটবল- দলগুলোকে সাপোর্টের নামে কী করছি!!

১৯ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৫:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


:: বাঙালিরা নিজের সফলতার চেয়ে অন্যের ব্যর্থতায় বেশি খুশি হয়। অন্যভাবে বললে, ব্যর্থ মানুষরা সফল মানুষদের ব্যর্থ হতে দেখতে চায়, বড়ই পুলকিত হয়। আর খেলাধুলা ক্ষেত্রে তো আমরা আরো এক ধাপ এগিয়ে। ক্রিকেটে বাংলাদেশ অন্য বড় দলকে হারালে খুশি হবো, এটাই স্বাভাবিক (তবে অন্য দলকে গালি দিয়ে নয়)। তাই বলে যে খেলায় বাংলাদেশের কোন অংশগ্রহন নেই সেখানেও!!

:: বিশ্বকাপ ফুটবলে তো আমরা অন্যের চরকায় তেল দেই। কারণ, বাংলাদেশ ফুটবল টিম বিশ্বকাপ খেলার সামর্থ্য রাখে না। এজন্য আমরা পরগাছা হয়ে বিভিন্ন দেশকে সাপোর্টের নামে সীমাহীন বাড়াবাড়ি করি, গালাগালি করি, শত্রু বাড়াই।। ব্রাজিল সাপোর্ট করলে আর্জেন্টিনা আমাদের জাত শত্রু; আর আর্জেন্টিনা সাপোর্ট করলে ব্রাজিল জানে দুশমন!!

:: শুধু এখানে থামলে কথা ছিল। কিন্তু নিজের সাপোর্ট করা দল জিতলে যতটুকু খুশি হই তার চেয়ে অনেক বেশি খুশি হই প্রতিপক্ষ দলকে হারতে দেখলে!! নিজে না খেয়ে, ঈদের কাপড় না কিনে, না পরে তিন মাইল লম্বা ঐ দেশের পতাকা বানাই, ছাদে পত পত করে সে দেশের পতাকা উড়াই। অথচ নিজ দেশের পতাকার সাইজ ও কালার জানি না!!

:: সাপোর্টের নামে মেসি/নেইমার/রোনালদোকে গালি দেই, ফটো এডিট করে ন্যাংটা বাবা বানাই, তাদের গালি দিয়ে চৌদ্দগোষ্টি উদ্ধার করি। অথচ বিশ্ব বিখ্যাত এসব খেলোয়াড়দের আমাদের সম্মান করা উচিৎ ছিল। এদের একজনকে পছন্দ করি বলে অন্যজনকে গালি দেব কেন? অপমান করবো কেন? একটু ভেবে দেখুন, এগুলো করা কী ঠিক হচ্ছে? এগুলো অতি বাড়াবাড়ি নয় কী? এরা তো আমাদের কখনো গালি দেয় নাই, কোন ক্ষতি করে নাই।



:: আমরা সাপোর্টের নামে যে দেশগুলোর জন্য গলা ফাটাই এরা আমাদের চেনে না; আর এদের কেউ কেউ বাংলাদেশের নাম শুনলে আমাদের দেশকে অতি দরিদ্র, চাষা, মূর্খ, খরা-বন্যায় আক্রান্ত, দুর্নীতিবাজ, রাজনৈতিক হানাহানি, নোংরা আর অসহনশীল জাতি হিসাবে জানে এবং তাদের পতাকা নিয়ে লাফালাফি করতে দেখে হাজার হাজার মাইল দূরে থেকে আমাদের নিয়ে হেসে অজ্ঞান হয়।

:: আমরা সিরিয়াস বিষয়গুলো নিয়ে ফান করি; আর ফানের বিষয়গুলো নিয়ে খুবই সিরিয়াস হই। যেমন- নির্বাচনের মত সিরিয়াস একটি বিষয়কে 'উৎসব' মনে করি। কেউ কেউ তো উৎসব উপলক্ষে নিজের ভোট বেঁচে দেই; আর পারলে ভোট কেন্দ্র দখল করে জাল ভোটের উৎসব করি, নির্বাচনের নামে টাকা ছিটিয়ে দিয়ে ভোট কিনি, নমিনেশন কিনি। অপরদিকে ফুটবল বিশ্বকাপের মতো একটি ফানকে সিরিয়াসলি নেই। অন্য দেশের পতাকা উড়িয়ে, গলাবাজি করে, মারামারি করে, ফেইসবুকে গালি দিয়ে রংবাজি করি।

:: এটা শুধু এ সোনার বাংলায় সম্ভব। এখানে বোধসম্পন্ন 'মানব জাতির' বড়ই অভাব। পৃথিবীর মোট 'আবুল'-দের একটা উল্লেখযোগ্য অংশের বাস এ বঙ্গভূমিতে। এই মানসিকতার পরিবর্তন বড়ই প্রয়োজন।

:: বিশ্বকাপ মানে কী?

:: বিশ্বকাপ মানে বিশ্বের সব মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন বাড়ানো, সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান করা, বর্ণবাদকে ঘৃণা করা, মানুষের মধ্যে সম্পর্কন্নোয়ন ও যোগাযোগ বাড়ানো। অথচ বিশ্বকাপ আসলে আমরা ঠিক বিপরীত মেরুতে অবস্থান করি!!



ফটো ক্রেডিট,
গুগল।

বিশ্বকাপ ফুটবল- ২০১৮ নিয়ে আমার এ লেখাটি পড়তে পারেন।

চাইলে পড়তে পারেন-
আমার সবচেয়ে পঠিত, লাইক ও কমেন্ট প্রাপ্ত পোস্ট।
সবচেয়ে পঠিত প্রবন্ধ।
সবচেয়ে পঠিত গল্প।
সবচেয়ে লাইকপ্রাপ্ত গল্প।
ছবি ব্লগ (লন্ডনের ডায়েরি-১)।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৫:২৭
২০টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটা অপরাধ দশটা অপরাধের সুযোগ করে দিতে পারে ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


রাড্ডা হাসপাতালে লুটপাট
ঢাকার মিরপুর এক নম্বরে রাড্ডা ক্লিনিকের ওপর দিয়ে যেন টর্নেডো বয়ে গেছে! গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতের অন্ধকারে ১৫০-২০০ জন দুর্বৃত্ত রাড্ডা ক্লিনিকের ভেতরে প্রবেশ করে রীতিমতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্ব্বহারা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়।
১৯৪৩ সালে জাপান ভারতে আচমকা বেশ কিছু বোমা হামলা করে। সম্ভবত হিটলারকে খুশি করতেই জাপান এই কাজ করে। একের পর এক বোমা ফেলে মাদ্রাজে (বতর্মান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×