ভূমিকে বাঁচতে দাও
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
ভূমিকে বাঁচতে দাও
__মুআম্মার আল-গাদ্দাফী
এই ক্ষুদ্র গ্রহে আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটা হচ্ছে ভূমি। ভূমির কোনো বিকল্প নেই। ভূমি ছাড়া আমরা এক মুহূর্তও বাঁচতে পারব না। আমাদের জীবনে এমন অনেক কিছু আছে, যা না হলেও আমাদের চলে যায়, তেমন অপুরণীয় কোনো ক্ষতি হয়ে যায় না। কিন্তু ভূমি .. জমিন ?.. জমি ছাড়া আমাদের এক মুহূর্তও চলে না। সুতরাং ভূমিকে দয়া কর, ভূমিকে বাঁচতে দাও। সাধবান জমি ধ্বংস কর না। তাহলে তোমরা এই জীবনে বেঁচে থাকার যাবতীয় শর্ত হারাবে। বায়োলজিক্যাল জীবন, যার অন্যতম, বরং প্রধানতম মানুষের জীবন, তার প্রধান উৎস খাদ্য্ত কঠিন, নরম, তরল.. সব প্রকারের খাদ্য। জীবনের প্রধান অবলম্বন খাদ্যের গোলার নামই জমিন। জমিন জীবনের খাদ্যের একমাত্র এবং বিকল্পহীন আধার, খাবার পাত্র। সুতরাং ফলনশীল কৃষি জমিন ধ্বংস করা মানে আমাদের একমাত্র খাদ্য গোলায় আগুন দেয়া। অনুরূপ কৃষি জমিন ধ্বংস করা মানে আমাদের একমাত্র পান উৎস ভেঙ্গে ফেলা। জমি জীবনের শ্বাসযন্ত্র, আমাদের ফুসফুস। তাই জমি ধ্বংস করা মানে নিজেদের ফুসফুসে ছুরি মারা, শ্বাসরোধ করে আত্মহত্যা করা। আকাশও জীবনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ। আকাশ পানি দিয়ে আমাদের বেঁচে থাকতে সহযোগিতা করে। তবে আমাদের জীবনে ভূমি ছাড়া আকাশ অর্থহীন। যদি জমিন না থাকে তাহলে আসমান ছাপিয়ে বৃষ্টি এলেও কোনো লাভ আছে ?.. মহাশূন্যের অন্য কোথাও হয়তো অক্সিজেন পাওয়া যাবে। কিন্তু সেখানে যদি ভূমি না থাকে তাহলে সেই অক্সিজেনের কোনো মূল্য নেই... ইতিহাসের যাবতীয় তৎপরতা, যুদ্ধ বিগ্রহ, মানুষের বিরুদ্ধে মানুষের বা প্রকৃতির বিরুদ্ধে মানুষে যাবতীয় লড়াইও এই ভূমিকে নিয়েই। ভূমি বা জমিনই দ্বন্ধমুখর এই ইতিহাসের অক্ষ, প্রধান কেন্দ্রবিন্দু... অগ্রসর মানুষ এখন মহাশূন্যের অনেক অজানা এলাকা আবিস্কার করছে, মহাশূন্যকে ব্যবহার করতে শুরু করেছে। কিন্তু ভূমি ছাড়া মহাশূন্যের কোনো মূল্য আছে ? জমিনের কাজে যদি মহাশূন্যকে ব্যবহার করা যায় তাহলেই কিন্তু এই সৌর-জ্যোতির্বিজ্ঞানের একটা অর্থবহ স্বার্থকতা তৈরি হয়।
ভূমিই আমাদের প্রকৃত মাতা, তার গর্ভেই আমাদের জন্ম, তার মমতাময়ী কোলেই আমাদের বেড়ে ওঠা। তার সোনালী মুঠো থেকে খাবার খেয়ে এবং তার আঁজলা থেকে পানি পান করেই আমরা বেঁচে আছি। সুতরাং এই মমতাময়ী মায়ের অবাধ্য হয়েও না। তার সাথে কোনো অন্যায় আচরণ কর না। তার শরীর জখম কর না, তার মাথার চুল হাতের আঙ্গুল কেটে ফেল না। তবে কিছু দিন পর পর তার হাত-পায়ের নখগুলো কেটে দেবে, তার গায়ে ময়লা জমলে তা পরিষ্কার করবে। রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে তার সেবা করবে, ঔষধ-পথ্যের ব্যবস্থা করবে। তোমরাই বল তার এই মমতাময়ী বুকের উপর কি ভারি কিছু চাপিয়ে দেওয়া যায় ? তার পাজরের উপর প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড এই সব পাথরগুলো রাখা উচিৎ ? না .. না.. কখনো এই অন্যায় কর না। মায়ের প্রতি দয়া কর। মায়ের প্রতি কোনো অবহেলা কর না। এমন সোনার মা হারালে কয়েক জীবন কেঁদে বুক ভাসিয়েও আর মা ফিরে পাবে না। যে কোল তোমাদের সর্ব প্রথম আশ্রয় দিয়েছে, যে দোলনায় দোলে দোলে কেটেছে তোমাদের শৈশব তার উপর জুলুম কর না। বরং তার অবাধ্য সন্তানরা যে তার বৃদ্ধ নু্যব্জ ঘারে ভারি ভারি এই সব বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে তা সরিয়ে তাকে হালকা কর। সাবধান ! তোমাদের শেষ আশ্রয়, একমাত্র ঠিকানাটা বোকার মত ভেঙ্গে ফেল না। পরে শত অনুতাপ করেও কোনো লাভ হবে না।
ভূমি যদি হয় গর্ভবতী, প্রসবা, তাহলেই তা প্রকৃত জমি হয়ে ওঠে, আমাদের জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় এবং অনিবার্যতার এই চরিত্র লাভ করে। কিন্তু জমি যদি কোনো কারণে তার গর্ভ ও প্রসব ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে তাহলে তা মূল্যহীন হয়ে যায়। আমরা যদি তার মুখ ইট-পাথরে ঢেকে দিয়ে, গায়ে পিচ ঢিলে তার প্রসব ক্ষমতা নষ্ট করে ফেলি তাহলে জমি বন্ধ্যা হয়ে যায়, গাছ-পালা-মিষ্টি পানি প্রসব করতে পারে না। তার গর্ভ থেকে মানুষ, প্রাণী, জীবনের জন্য উপকারী কোনো উপাদান বেরিয়ে আসে না। এই জমি মূল্যহীন। এই জমি মৃত জমি। মৃত জমির গর্ভে জীবন জন্ম নিতে পারে না। প্রাণহীন ভূমির বুকে কোনো প্রাণ প্রস্ফুটিত-বিকশিত হতে পারে না।
সুতরাং ভূমিকে বাঁচতে দাও। জমিকে হত্যা কর না। ইট-পাথর-পিচ দিয়ে ফসলি কৃষি জমি ঢেকে দেওয়া মানে জমিকে খুন করা। জমিকে খুন করা আর নিজ হাতে গলা টিপে নিজেকে হত্যা করা একই কথা। যারা ভূমি কন্যাকে জীবন্ত কবর দেয় তারা কি সুস্থ মানুষ ?.. জমিকে মেরে ফেললে কিভাবে বাঁচবে তোমরা ?... কোত্থেকে আসবে তোমাদের খাদ্য-পানি ? জমিকে বাঁচাও। ফসলি-কৃষি জমি না বাঁচলে তোমরাও বাঁচতে পারবে না। জমির উর্বরতা, ফলন ক্ষমতা নষ্ট করা মানেই জমিকে খুন করা। যারা নানাভাবে জমির উর্বরতা ও ফলন ক্ষমতা নষ্ট করে তারা ভূ-মাতার অবাধ্য সন্তান, খুনী, তারা মাতৃ হত্যার মত ভয়ংকর, নিকৃষ্টতম অপরাধে অপরাধী।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।