somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঐশ্বর্য্য যার যত বেশী, মুক্তির পথ তার তত কম।

১৬ ই মে, ২০১৬ ভোর ৪:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা কালো কাক খুব আনন্দে ছিলো। একদিন সে দেখলো পুকুরে সাঁতার কাটছে এক সাদা পালকের হাঁস। সেই হাঁসকে দেখেই কাকটির দীর্ঘশ্বাস এলো। হাঁসের কাছে গিয়ে বললো- তুমি খুব সুখি তাইনা? হাঁস বললো- সুখিইতো ছিলাম এতোদিন। কিন্তু একদিন গাছের ডালে দেখলাম-লাল ঠোঁট আর সবুজ পালকের এক তোতা পাখি। সেই তোতা পাখিকে দেখেইতো আমার মুখটা ভোঁতা হয়ে গেলো। কাক উড়ে এবার তোতা পাখির কাছে গিয়ে বললো- তুমি নিশ্চয়ই সবচেয়ে বেশি সুখি। তোতা পাখি বললো সুখেইতো ছিলাম খুব। কিন্তু একদিন দেখলাম-কী সুন্দর পেখমের এক ময়ুর। আমার মাত্র দুটো রঙ। কিন্তু তার কত রঙ। তাকে দেখেইতো দুঃখ বেড়ে গেলো । কাক এবার ময়ুরের কাছে গেলো।কত মানুষ ময়ুরের প্রশংসা করছে। আহা! ময়ুরটা কত খুশী। কাক ময়ুরকে বলে-তুমি এতো সুন্দর, তুমি সবচেয়ে সুখি তাইনা? সুখেই ছিলাম-আকাশে দিগন্ত বিস্তৃত সাতরঙা পেখমের রঙধনু না দেখা পর্যন্ত। তার তুলনায় আমার কত ছোট পেখম। আর বেশি সুন্দর বলেইতো আজ আমি বন্দী। এই চিড়িয়াখানায় কত নানা রঙের, কত রকমের, কত রুপের, কত সৌন্দর্য্যের পাখি দেখলাম। কিন্তু বিশ্বাস করো, চিড়িয়াখানায় বন্দী কোনো কাক দেখলাম না। সবাই সুখেই থাকে, অন্যের সাথে তুলনা আর অন্যের সুখ দেখে ঈর্ষান্বিত না হওয়া পর্যন্ত। কেউ চিড়িয়াখানায় বন্দী, কেউ লোভ,মোহ,ক্ষমতা, বৈভব আর অধিক চাওয়া-পাওয়ায় বন্দী। ঐশ্বর্য্য যার যত বেশী, মুক্তির পথ তার তত কম।
বিখ্যাত সুফি, দার্শনিক মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমীর মসনভীতে চমৎকার একটা গভীর তাৎপর্যময় কাহিনী আছে।
এক তোতাপাখি প্রতিদিন কত সুন্দর, উপাদেয় খাবার খায়। সুগন্ধ জলে স্নান করে। স্নিগ্ধ বাতাস তার গায়ে এসে লাগে। তারপরও তোতা পাখিটির দুচোখ ভরা কান্না। কারণ সে একজন বিখ্যাত সওদাগরের পালিত পাখি। সোনার খাঁচায় বন্দী। পাখিটি মুক্তি চায়।কিন্তু তার মুক্তির কোনো পথ নেই।
অন্য আরেকটি পাখি জানালার পাশে এসে তোতা পাখিটি দেখে বলে, আমি তোমাকে নিতে এসেছি। বিজ্ঞ পাখি তোমাকে নিয়ে যেতে আমাকে পাঠিয়েছেন। তোতাপাখি বলে-আমি মুক্ত না হলে তার কাছে যাবো কেমন করে? তুমিতো আগে আমাকে মুক্ত করো।মুক্ত পাখিটি উড়ে উড়ে বয়স্ক বিজ্ঞ পাখির কাছে এসে সবকিছু খুলে বলে।পরদিন, মুক্ত পাখিটি জানালার পাশে আসলে তোতা পাখি বলে- মুক্তির কোনো উপায় কি পেয়েছো? প্রাজ্ঞ পাখিটি কি কোনো পরামর্শ দিয়েছে?
না, প্রাজ্ঞ পাখিটি একটা কথাও বললো না। শুধু মনদিয়ে শুনেই গেলো। তারপর, হঠাৎ করে পরম শান্তিতে দুচোখ বন্ধ করে একদিকে হেলে শুয়ে পড়লো। জানিনা ভাই, এ জীবনে তোমার মুক্তির পথ কি?
পরদিন সওদাগর ঘরে এসে দেখেন-তোতাপাখি দুচোখ বন্ধ করে একদিকে হেলে পড়ে আছে । সওদাগর পানি দিলেন, খাবার দিলেন, ফল দিলেন,খাঁচা দোলালেন। না, পাখিটি মনে হয় মারাই গেছে। এই মরা পাখিকে দিয়ে তিনি কি করবেন? খোলা খাঁচা বাইরে রেখে সওদাগর খাঁচার দরজা খুলে দিলেন। মৃত তোতাপাখি এই প্রথম মুক্তির পথ পেয়ে আকাশে উড়ে গেলো।
বন্ধু পাখিটি বললো-সোনার খাঁচা থেকে তুমি মুক্ত হলে কেমন করে?
তোতাপাখি বললো- বিজ্ঞ পাখিটি যেমন শিখিয়ে দিয়েছিলেন ঠিক তেমন করে।
জাগতিক মোহ ত্যাগ করা ছাড়া মুক্তির অন্য কোনো উপায় নাই।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মে, ২০১৬ ভোর ৪:৩৬
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশভাগের পর-

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
ওমর আলীর জ্বর এসেছে। জ্বর নিয়েই তিনি পত্রিকা পড়ছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। টারজান গিয়েছে বাজার করতে। এর আগেও টারজান বেশ কয়েকবার বাজার করেছে। বাজার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হায়ার সেলফ্‌

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৪১


শীতের সময়ে রাত ১০ টা অনেক রাত। আর তা যদি হয় শহর থেকে দূরে শহরতলীতে,আবাসিক এলাকার আশপাশে,তাহলে তো কথাই নেই। রাত আটটা বাজতে না বাজতেই পাড়ার সকলে সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রীয় সফর, আম তারেক আর চার সিটের দূরত্ব!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৪

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নেপালে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। সস্ত্রীক আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। তখন কিশোর তারেক রহমানেরও শখ জাগল—তিনিও নেপাল যাবেন।

বাবা বুঝিয়ে বললেন, রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ মানেই পরিবারের সবাইকে রাষ্ট্রীয় টাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×