somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

খোরশেদ খোকন
আমার জন্ম টাঙ্গাইলের হামজানি গ্রামে। শৈশব, কৈশোরে দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে ছিলাম; বাবার সরকারী চাকুরীর জন্যে। কলেজ ছিল টাঙ্গাইল জেলায়। তারপর পড়াশুনা ঢাবি'র ফিন্যান্স বিভাগ। গত নয় বছর যাবত প্রাইভেট ব্যাংকে কর্মজীবন চলছে। www.facebook.com/khokonz

স্মৃতির জোনাকিরা... (শৈশবের দিনগুলি-০৭)

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৮৭ সালের শবে-বরাতের রাতটা ছিল আমার জীবনের একটি স্মরণীয় রাত।

বাবা তখন জামালপুর জেলা সদরে চাকরী করতেন। আমি তখন শহরের দয়াময়ী মোড় এলাকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়তাম। আমাদের বাসা থেকে পায়ে হাটা দূরত্বে ছিল শহরের বড় রাস্তাটা। সেই রাস্তাটার একপাশে ছিল ব্রহ্মপুত্র নদ আর অন্যপাশে পীর শাহ জামাল (রঃ) এর মাজার। লোকজন বলতো, পীর শাহ জামাল (রঃ) এর নামেই জামালপুর জেলার নামকরন করা হয়েছে।

কৈশোরের দিনগুলিতে আমরা বন্ধুরা মিলে মাজার এলাকায় দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা নানা রঙের মানুষ দেখতাম। মাজারের পাশেই ছিল জামে মসজিদ আর মসজিদের দেয়ালের ওপারেই বিশাল ঈদগাঁ ময়দান। শুক্রবারে বন্ধুরা দল বেঁধে নামাজ পড়ার মজাই ছিল অন্যরকম।

বিকেলে ঈদগাঁ ময়দানের দেয়াল ঘেঁষে বেড়ে উঠা নানা জাতের ফলের গাছে গাছে আমাদের ছিল অবাধ বিচরণ। আম, জাম, পেয়ারা, আতা, বেল, বড়ই এসব নিয়েই ছিল আমাদের নিত্যদিনের কোলাহল। গাছের একেবারে মগডালে পৌঁছে যাওয়াই ছিল সব চাইতে গর্বের বিষয়।

সেই শবে বরাতের সন্ধ্যায় একদল লোক মাজার থেকে দোয়া দুরুদ পরে রওনা হয়েছিল জামালপুর শহরের সব চাইতে বড় কবর স্থানের দিকে। আতশবাজী, মোমবাতি, আগরবাতি আর মানুষের কোলাহলে ভিড়ে আমিও বন্ধুদের সাথে দলে-মিছিলে রওনা হয়েছিলাম কবর জিয়ারত করতে। ট্রাকের উপরে দাড়িয়ে জিকির করতে করতে আমরা পৌঁছে গিয়েছিলাম কবর স্থানে। সেখানে কবর জিয়ারত শেষে আশেপাশে তাকিয়ে দেখি, পরিচিত কেউ নেই!

সেদিন আশেপাশে পরিচিত কাউকে না পেয়ে, আমি ভীষণ আতংকিত হয়ে গিয়েছিলাম। আতংকের কারনগুলো ছিল (১) বাবা/মা’কে না বলে এতোদূরে আসা, (২) রাত ৯টার পরেও বাসার বাইরে থাকা (৩) বাসায় ফিরে যাবার রাস্তাটা না জানা (৪) পকেটে কোন টাকা-পয়সা না থাকা; আরও কত কি?

লোকজন আতশবাজী, মোমবাতি, আগরবাতি আর সিন্নি নিয়ে সারাটা এলাকা মাতিয়ে রেখেছিল। আমি শুন্য বুকে, অস্থির হয়ে একা একা এলোমেলো ঘুরছিলাম আর চেনা কাউকে মনে মনে খুঁজছিলাম। এমন সময় দেখি, আমার সামনে দাড়িয়ে আছেন বাবা। বাবার বাইকে চেপেই সেই রাতে বাসায় ফিরেছিলাম।

সেই রাতে, বাবা আমাকে একটি রুমে বন্দী করে এমন মার মেরেছিলো...!? সে মারই ছিল আমার জীবনে সবচাইতে ভয়াবহ মার। আমার মা আর ভাই-বোনরা কান্নাকাটি করেও সে রাতে দরজাটা খুলতে পারেনি! আমি সেই মারের পরে, একটানা তিনদিন জ্বরে ভুগেছিলাম। পিঠের চামড়া উঠে গিয়েছিল কিনা, আজ আর মনে নেই!?

সেই থেকে আমার মনে হতো, আমি একদিন বাড়ী থেকে পালাবোই, পালাবো...!?

না...! আমার আর বাড়ী থেকে পালানো হয়নি...।

আজ নিজে “বাবা” হয়ে বুঝতে পারি; কতটা স্নেহ, ভালবাসা আর অনিশ্চয়তা বুকে নিয়ে বাবা সেদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সারাটা শহর তন্ন তন্ন করে আমাকে খুঁজেছিলেন!?

সেই রাতে বাবার চোখের স্নেহ, ভালবাসা, কিংবা অনিশ্চয়তাকে আমি দেখিনি, শুধুই দেখেছিলাম ক্রোধ।
আজ এতো বছর পর; আমি বাবার সেই সেদিনের ক্রোধ টাকে একদম ভুলে গেছি; মনের কোণে কেবলি খুঁজে পাচ্ছি সেদিনের সেই স্নেহ, ভালবাসা আর অনিশ্চয়তা...!

বাবা, “তোমার সেই সেদিনের অবাধ্য ছেলেটাকে, চিরদিনই ভালবেসে ক্ষমা করে দিও, আজ এটাই আমার প্রার্থনা।”
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:০৬
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

ফ্যাসিস্ট আমলে পুলিশকে দলীয় ক্যাডার বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল- এ অভিযোগ শুধু রাজনৈতিক নয়, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার অংশ।
জুলাইয়ের পর- সেই পুলিশ কি সত্যিই বদলেছে, নাকি শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৮ বছর পর ঋণের খোঁজে সন্তান বনাম হাজার কোটি টাকার খেলাপি: আমাদের ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজারের ট্র্যাজেডি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯

সংবাদের পাতার দুটি বিপরীতমুখী ছবি সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের চরম এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

একদিকে আমরা দেখি, ২৮ বছর আগে বাবার নেওয়া মাত্র ১০ হাজার টাকার দাদন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



প্রায় বিশ কোটি মানুষের এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশ বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম মাত্র: - রেমিট্যান্স আর পণ্য রপ্তানি।

রেমিট্যান্স: সাধারণত কোনো ব্যক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×