somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কিরমানী লিটন
সময়ের ব্যবধানে বেজে বেজে চলে, সূর্য চাঁদ সবচেয়ে- দূরতম শব্দের মাস্তল, যেন কোন অজ্ঞাত নিবাস থেকে ছুটে আসি।পরিচিত শ্টেশন এলেই তুৃমি দেখাও নিশান- আমি উঠে পড়ি...

"...মোরগ আগে আইছে স্যার !!! "

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ভোর ৪:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





এক লাইন বেশী বুঝার জ্বালাও দশ মিনিট বেশী পুড়ায়! সারাজীবন অন্যদের চেয়ে দুই-তিন লাইন বেশী বুঝেছি।কষ্টটাও সবার চেয়ে দুই-চার কেজি বেশীই পেয়েছি।তখন ক্লাশ টু'তে পড়ি।বছরের শুরুতেই এক নতুন স্যারের আগমনে সারা স্কুল হৈ-চই পড়ে গেল।স্যারের নাকি নব্বইটা চোখ! ভয়াবহ বদমেজাজি! পড়ালেখা,নিয়ম-কানুন,আদব-শৃঙ্খলা সাড়ে উনিশ থেকে বিশ হওয়ার জো নেই-কঠিন শাস্তি।তাই রইচ স্যারের নাম শুনলেও ছাত্রদের মনের মধ্যে দৈত্য-দানব এসে ভিড় করতো।আমাদের স্কুলে যোগদানের আগে তিনি যে স্কুলে ছিলেন,সেই স্কুলেরই এক ছাত্রীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন।যদিও স্যারের বিয়ে করা সেই ছাত্রীর বয়স তার বড়মেয়ের চেয়ে পাঁচ বছর কম ছিল!আর মায়ের বুকের দুধ খাওয়া তখনকার প্রজন্ম,এখনকার ডানো কিম্বা রেডকাউ প্রজন্মের মতো এতোটা উদার মানসিকতাসম্পন্নও ছিলনা!তাই মেয়ের চেয়ে পাঁচ বছরের ছোট শিশু ছাত্রীকে বিয়ে করে স্যার সহজে পাড় পাননি! দশ গ্রামের মাথা-মুরুব্বীরা শালিশ করে স্যারকে গ্রাম ছাড়া করে,তবেই খান্তি দেন! এমনই নাটকীয় পটভূমিকে সঙ্গী করে রইচ স্যারের আমাদের স্কুলে আগমন।দুই সতীন এক বাসায় থাকার অবধারিত ফল-প্রায়ই ঝগড়া-ঝাটি লেগেই থাকতো। তখন স্কুলে সবার মুখেই প্রচলিত ছিল-স্যার বাসার ঝগড়ার ঝাল মিটাতো ছাত্র-ছাত্রীদের পিটিয়ে।আর যেদিন ঝগড়ার মাত্রাটা খুব বেশী হতো,সেদিন ক্লাশের পড়ার বাইরে-আজগুবি আর উদ্ভট প্রশ্ন করে ক্লাশের সবাইকে আচ্ছামতো ধোলাই দিতেন।যেমন ধরুন প্রশ্ন করলেন,"সকালের নাস্তা আঁটার রুটির সাথে কি সবচেয়ে স্বাদের?" উত্তরে যে বলছে-মাংশভুনা তাকেও পিটুনি যে বলছে হালুয়া-সুজি-সেমাই তাকেও পিটুনি,আবার ডাল- ভাঁজি-ডিম তাদেরকেও পিটুনি!মোটকথা আপনি যেটাই উত্তর বলেন না কেন-পিটুনি আপনার নিশ্চিত এবং তা সমহারে!!!


একদিন হলো কি-রইচ স্যার আমাদের ক্লাশে ঢুঁকে রোল কল শেষ করেই প্রশ্ন করলেন,"ডিম আগে আইছে না মুরগী আগে আইছে?"একপাশ থেকে স্যার জিজ্ঞেস করছেন।উত্তরে যে বলছে ডিম আগে,তাকেও সপাং সপাং দুই ঘা,আবার যে বলছে মুরগী আগে তাকেও সপাং সপাং দুই ঘা! আমি সেদিন একটু পিছনের দিকে বসছিলাম।মহা চিন্তায় ভাবছি ডিম আগে,না মুরগী আগে!ভাবতে ভাবতে কখন যে আমার সিরিয়াল চলে এসেছে টের-ই পাইনি।আমার কাছে আসতেই আমি লাফিয়ে উঠে বললাম," মোরগ আগে আইছে স্যার!" আর যাই কোথায়! স্যার চিল্লায়ে বললেন,পাইছি-এই শালাই বড় বান্দর! বলেই গুনে গুনে চার-ঘা আমার পিঠে বসালেন!!!কি বুঝলেন?শুরুতেই বলেছিনা,বেশী বুঝলে বেশী জ্বালা !!!
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ৭:১২
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গালিব সাহেব, মিথ্যারও তো একটু সামাজিক মর্যাদা আছে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩



মির্জা গালিব বলেছেন -
“পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলা হয় ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে, যেটা আদালতে। আর সবচেয়ে বেশি সত্য বলা হয় মদ ছুঁয়ে, যেটা পানশালা।”

গালিব সাহেব, আপনার কথায় যুক্তি আছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাউঞ্জ এন্ড ফুড রিভিউ; দ্যা সেন্স

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪২


নিয়মিত-অনিয়মিত গত এক যুগ ধরে ভ্রমণ করছি এবং প্রায়োরিটি পাস দিয়ে বিভিন্ন দেশের এয়ারপোর্টে লাউঞ্জ ব্যবহার করছি প্রায় ৪ বছর ধরে। দীর্ঘ ফ্লাইট, লং ট্রানজিটের মধ্যে এয়ারপোর্টে ফ্রিতে দৃষ্টিনন্দন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৮ বছর পর ঋণের খোঁজে সন্তান বনাম হাজার কোটি টাকার খেলাপি: আমাদের ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজারের ট্র্যাজেডি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯

সংবাদের পাতার দুটি বিপরীতমুখী ছবি সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের চরম এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

একদিকে আমরা দেখি, ২৮ বছর আগে বাবার নেওয়া মাত্র ১০ হাজার টাকার দাদন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×