somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পৌত্তলিকতার জয়, জয় শ্রমজীবি মানুষের

১২ ই মার্চ, ২০০৬ ভোর ৪:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার বক্তব্য পরিস্কার করে তুলে না ধরতে পারার ব্যার্থতা আমার। একটু গুছিয়ে লিখি কেনো আমার মনে হয় না ইসলামপূর্ব যুগকে অন্ধকার যুগ বলা চলে। আমি আরব ইতিহাসের কোনো বিশেষজ্ঞ নই, তাই এখানে যে কেউ ইতিহাসের উদ্ধৃতি দিতে পারেন আমি যোগার করে পড়ার চেষ্টা করবো।

আরবের মেয়েদের নিয়ে কথাটা উঠেছে, আমি আরও একটু পিছিয়ে শুরু করি, পৌত্তলিক শব্দের আভিধানিক অর্থ পুতুলপূজারি, কিন্তু এরা আসলে কারা? এরা প্রাচীন আরবের , ফেরাত টাইগ্রেস এবং মিশরিয় সভ্যতার মানুষ যারা প্রথম প্রকৃতি পুজা শুরু করেছিলো, এর পর ধাপে ধাপে তারা খোলা উপাসনালয় ছেড়ে বদ্ধ প্রাঙ্গনে উপাসনা শুরু করে। এ বিষয়ে কিছু লিখবো বলেছি আমি, তা লিখবো। এখন যা না বললেই নয় তা বলি,
এরা মূলত শ্রমজীবি মানুষ, আরবের বেদুইনদের মতো দক্ষ যোদ্ধা এরা ছিলো না, এদের তস্করদের হাতে নাজেহাল হতে হয়েছে, এবং এরা এখটা উৎসব করতো, উর্বরা উৎসব, প্রকৃতির পুজা বলা যায়, সেখানে এরা উন্মুক্ত সঙ্গম করতো, আমাদের আধুনিক মানসে একটু নোংরা লাগতে পারে যে একদল মানুষ উন্মুক্ত প্রান্তরে সঙ্গম করছে , কিন্তু এটাও একটা প্রার্থনার ধাঁচ। এখনকার হিন্দুদের মতোই এদের অনেক রকম দেবতা ছিলো, গৃহদেবতা, বানিজ্য দেবতা, যত রকম পেশা কল্পনা করা যায় সব রকমের পেশাজীবিদের দেবতা ছিলো। এরাই শিল্পি এবং শ্রমজীবি মানুষ হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে আরব উপদ্্ব ীপে। এদের এক দল সে প্রথাকে অনুসরন করতো তৎকালিন মককায়। নিজের ধর্মপালন এবং সংস্কৃতি চর্চাকে যারা ঘৃন্য চোখে দেখেন তারা এ মুহুর্তে এখান থেকে ফিরে যেতে পারেন কারন আমার কথা পছন্দ হবে না আপনাদের।
যাই এর আগেই সেমেটিকরা ক্ষমতা দখল করেছে, তারা এদের শ্রম কিনছে, এবং এদের কিছু কিছু দেবতাকে তাদের উপাসনালয়ে স্থান দিয়েছে, সবই রাজনীতির হিসেব, ক্ষমতা বজায় রাখার জন্য অনেক জাতের আপোষ করতে হয়। এবং সেমেটিকদের মধ্যে আসলো মুসা, তার ধর্মানুসারিদের একত্রিত করে ইহুদি নাম দেওয়া হলো, এর পর আসলো ইশার অনুসারিরা।
এবং আরবে ইহুদি নাসারা এবং পৌত্তলিক এ তিন জাতের মানুষ যাদের দুই ধরনের জাতিসত্ত্বা, সেমেটিক এবং সেমেটিক নয়।
সেমেটিকরা নিজের মতো ধর্ম পালন করে পৌত্তলিকরাও নিজের মতো দঃর্ম পালন করে, একটা শান্তিপুর্ন সহাবস্থান ছিলো এমন না, যেকোনো সমাজের মতোই রেষারেষি ছিলো, ক্ষমতার লড়াই ছিলো, এর মধ্যে হাজির হলো ইসলাম, সেমেটিকদের একেশ্বরবাদী ধারনা নিয়ে, পৌত্তলিকদের বিরোধিতা ছিলো এজন্য । একদল মানুষ নিজের সংস্কৃতি অক্ষুন্ন রাখার লড়াই করছে, এটাকে কেনো অন্ধকার বলা হবে? নিজের সংস্কৃতি রক্ষার কোনো অধিকার কি মানুষের নেই??
আমি আরবে ইসলামের প্রসারকে একটা নতুন সংস্কৃতির উত্থান হিসেবে দেখি। সেখানে প্রথাগত বাধা থাকবে, গ্রহন থাকবে বর্জন থাকবে, আধুনিক সমাজে যেভাবে সাংস্কৃতিক মিথষ্ক্রিয়া ঘটে তেমন সাংস্কৃতিক মিথস্ক্রিয়া ঘটবে সেখানে। এখনকার সমাজের সুবিধাবাদী শ্রেনী, দলিত শ্রেনী যেভাবে ধর্ম ত্যাগ করে সেখানেও তারা একই কাজ করবে, ঘটনা মূলত সংস্কৃতি বদল আর সংস্কৃতি বজায় রাখার লড়াই। এখানে একটা সময় সাম্যবস্থা আসতে বাধ্য, হয়তও আসতোই, কিন্তু একেবারে পৌত্তলিকশুন্য করে ফেলার মানসিকতা নিয়ে কোরানের আয়াত নাজিল হয়ে গেলো। আরবভূমি থেকে পৌত্তলিকদের উৎখাত করতে হবে, তরবারির নীচে ধর্মবদল হবে অথবা হত্যা হবে, ইহুদি নাসারাদের আরব ভুমি থেকে উৎখাত করা হয় নি, হয়েছে পৌত্তলিকদের , ওদের ধর্মপালনের অধিকার দেওয়া হয় নি।
এখন এই অন্যায়কে আমি অন্যায় বলছি, তাদের সংস্কৃতি যতই উদ্ভট লাগুক এটা তাদের সংস্কৃতি, সেই সংস্কৃতি রক্ষায় কোনো সহযোগিতা ছিলো না, বরং স্পষ্ট দমনমূলক আচরন করেছে তাদের সাথে সেমেটিকরা। এটাও একটা গোষ্ঠিতন্ত্র।
মেয়েদেরে কথায় আসি এবার। আরবের কাফেরদের অনেকের বৌ বেশ চমৎকার কবি ছিলো, এমন কি মুহাম্মদকে নিয়ে আজে বাজে কবিতা লেখার অভিযোগও আছে কারও কারও বিরুদ্ধে, ছিলো যোদ্ধা মেয়েরা। ইসলামেরইতিহাসে যোদ্ধা মেয়ে কোথায়, আয়েশা একবার একটা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলো, সেটাও সরাসরি যুদ্ধ নয়, সেনাপতিদের যুদ্ধ করতে হয় কম অনুগত সৈন্যরাই যুদ্ধ করে।

এবং আসলো কন্যা সন্তান পুতে ফেলার অভিযোগ। এটা একেবারে মিথ্যা তা নয়, এমন কিছু পাষন্ডতা সমাজে থাকেই, মানুষের মাংস খাওয়াও এক ধরনের পাষন্ডতা, এটাও তো বহাল ছিলো আফ্রিকায় গত শতাব্দি পর্যন্ত। দেবতার উদ্দেশ্যে সন্তান বলি দেওয়ার প্রথাও ছিলো, আমি সমর্থন করি কি করি না এটা মূল প্রশ্ন নয়, মূল প্রশ্ন হলো এটা তাদের ধর্মপালনের ধরন কি না? এটা তাদের ধর্মপালনের ধরন হলে সেটাকে মেনে নেওয়া উচিত। তারা তাদের সংস্কৃতি চর্চা করছে, সুতরাং এটাকে অনায্য বললে সেটা অনায্য কিন্তু একেবারে বিলুপ্ত করে ফেলতে হবে তরবারির কোপে এটা মেনে নেওয়া কষ্টকর।
মেয়ে শিশু পুতে ফেলার হার ভয়াবহ ছিলো না কারন সবাই বিয়ে করার জন্য একটা করে মেয়ে পেতো। মেয়েরা লাস্য ময়ি, স্বাধীনচেতা ছিলো, কাব্যচর্চা করতো, যোদ্ধা ছিলো, এই যোদ্ধা হওয়ার অধিকার আধুনিক যুগে এসেছে 1900 সালের দিকে এর আগে এমন উদাহরন কম, তো সে সমাজ পিছিয়ে পড়া এমন দাবি কেনো? সে সমাজ অন্ধকারাচ্ছন্ন এমন দাবি কেনো?
আর এর পরে আরবের ইতিহাস লিখেছেন মুসলিমরা, বিজয়ির ভাষ্য সবসময় পরাজিতের বদনাম করে, ইতইহাস এমন শিক্ষাই দিয়েছে আমাদের, তাহলে ইসলামের এমন প্রচারনা শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রনোদিত এমনটা দাবি করাও অসঙ্গত হবে না।
এবার আপনারা আপনাদের মতামত জানা।
আস্ত মেয়ে আপনাকে ধন্যবাদ দি, কিন্তু এই যে অবস্থান , এই যে সংস্কৃতিকে শ্রদ্ধা করার মনোভাব এটা আমরা রক্ত দিয়ে অর্জন করেছি 52তে, সেই চেতনা নিয়েই বলছি, আমার পছন্দ না হলেও লোকাচার এবং সংস্কৃতি চর্চার অধিকার সবার সমান হওয়া উচিত। সেটা 1400 বছর আগের আরবে যেমন সত্য ছিলো, 50 বছর পরের পৃথিবীতেও তেমন সত্যি হবে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙ্গের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্রেট প্রেমানন্দ মহারাজ

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮



'প্রেমানন্দ' একজন ভারতীয় হিন্দু তপস্বী ও গুরু।
১৯৭১ সালে কানপুরের কাছে 'আখরি' গ্রামে তার জন্ম। দরিদ্র পরিবারে জন্ম। ১৩ বছর বয়সে প্রেমানন্দ সন্ন্যাসী হওয়ার জন্য গৃহ ত্যাগ করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডোগান- এক রহস্যময় জাতি

লিখেছেন কিরকুট, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ বিকাল ৫:১০



আফ্রিকার মালি এর হৃদয়ে, খাড়া পাথুরে পাহাড় আর নির্জন উপত্যকার মাঝে বাস করে এক বিস্ময়কর জনগোষ্ঠী ডোগান। বান্দিয়াগারা এস্কার্পমেন্ট অঞ্চলের গা ঘেঁষে তাদের বসতি । এরা যেন সময় কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×