somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কেয়ামতের কালপঞ্জি

২৪ শে এপ্রিল, ২০০৬ রাত ৯:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বেশ কিছু বিষয় চোখে পড়ছে, নতুন একজন বিজ্ঞানমনস্ক!!! ব্লগার এসে আমাদের বিজ্ঞানের নতুন কিছু ধারনা শিখাচ্ছেন। হকিং সাহেবকে নিয়ে বিস্তর টানাটানি হচ্ছে তাও দেখা গেলো, কথা হলো হকিংএর ব্রিফ হিস্টোরি ওফ টাইম বইটার কিয়দংশ জনাব ত্রিভূজ পড়েছেন কি পড়েন নি? তার রেফারেন্সে তিনি হকিংএর নাম নিলেন বলেই প্রশ্নটা সামনে এলো,
কোরানের 4টা আয়াত এসেছে সহায়ক হিসাবে
81ঃ15 "তারারা পিছে হটিয়া যায়," জনাব ত্রিভুজকে এবার কিছু বলাটা উচিত হবে না তিনি বলেছেন সকল নক্ষত্রই পৃথিবী থেকে দুরে সরে যাচ্ছে কিন্তু ঘটনা সেরকম নয় মোটেও, এনড্রোমিন্ডা বলে একটা গ্যালাক্সি মিল্কি ওয়ের দিকে এগিয়ে আসছে, মিল্কি ওয়ে হচ্ছে সেই গ্যালাযি যেটার একটা দূরবর্তি কোণে সূর্য্য সহ আমাদের সৌর জগতের অবস্থান। নিখাদ বৈজ্ঞানিক তথ্য যদিও সকলা তারা পিছনে সরে যাচ্ছে কিন্তু প্রায় 10 কোটি নক্ষত্র সহ একটা সম্পুর্ন গ্যালাক্সি পৃথিবী তথা এই মিল্কি ওয়ের দিকে এগিয়ে আসছে এবং এই বিষয়টা এড়িয়ে যাওয়ার মতো না,
যাই হোক কথা হলো এই পশ্চাত গমনটা মাপা হয় কি ভাবে? হাবল সাহেব পৃথিবীতে বসে 40 হাজার আলোকবর্ষ দুরের নক্ষত্রদের ঘরের খবর কি ভাবে জানলেন? উত্তর হলো বর্নালী বিশ্লেষন, রেড শিফট এবং ব্লু শিফট এর কথা , কিছু তারার ব্লু শিফট হচ্ছে এর মানে এই না যে তারা রলজ্জায় নীল হয়ে যাচ্ছে এইটার অর্থ তাদের বর্নালীর রেখাগুলো নীলের দিকে সরে যাচ্ছে, এইটা ডপলার শিফট,যেইটা বলে যদি উৎস এগিয়ে আসে দর্শকের দিকে তাহলে দর্শকের সাপেক্ষে কম্পাংক বৃদ্ধি পাবে, এই কম্পাংক বৃদ্ধির ঘটনাকে বলে ব্লু শিফট, এবং যদি উৎস দুরে সরে যেতে থাকে তাহলে কম্পাংকের সংখ্যা কমতে থাকবে, এইটাকে বলে রেড শিফট। ব্লু শিফটের ফলে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কমে যায় এবং রেড শিফটের ফলে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায়, সার্বিক বিশ্লেষন করে দেখা গেছে কিছু গ্যালাক্সির ক্ষেত্রে সেখান থেকে আগত আলোক রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পাচ্ছে অর্থ্যাৎ তারা দুরে সরে যাচ্ছে, কিছু গ্যালাক্সির ক্ষেত্রে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কমছে মানে ঐ গুলো পৃথিবীর দিকে এগিয়ে আসছে, তবে সবটা বিচার করলে পৃথিবীর দিকে এগিয়ে আসা গ্যালাক্সির চেয়ে পৃথিবী থেকে দুরে সরে যাওয়া গ্যালাক্সির সংখ্যা বেশী, সুতরাং আমরা নিশ্চিতে বলতে পারি মহাবিশ্ব প্রসারিত হইতেছে।
হকিংয়ের বইটা না পড়লে কিংবা হকিংয়ের বইগুলোর ভাষা খুবই সরল মানের মনে হলেও এর ভিতরেও কিছু যুক্তির বিষয় আছে, চিন্তার বিষয় আছে, হকিংয়ের এনথ্রোপলজিক্যাল প্রিন্সিপালের ক্ষেত্রেও এই কথাটা প্রযোজ্য, আশা করছি মানুষের উৎপত্তি হিসেবে কোনো এক মহান ইসলাম প্রেমি ভবিষ্যতে এই মহাবিশ্ব তৈরির মানব তত্ত্ব নিয়ে কিছু লিখে ফেলবে, বাঁদরের হাতে এটম বোম দিলে বাঁদর ওটা কামড়াবে, যদিও জানে না ওটা দিয়ে কি কাজ হবে তার পরও বাঁদর এটম বোম হাতে পেলে বলে বসবে ঐ পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী বাঁদর, কোরান হাতে উল্মফনরত এই ব্লগের বিভিন্ন মানুষ দেখলে আমার সেই বাঁদরের উপমাই মনে আসে। যারা বিজ্ঞান নিয়ে কিছু না জেনেই অতি সরলীকৃত মন্তব্য করে, একজন কয়দিন আগে নক্ষত্রের মৃতু্য এবং কেয়ামত নিয়ে কয়েক লাইন লিখেছে, সবাইকে সমান মাপে শিক্ষিত করা সম্ভব নয়,
যাই হোক কেয়ামত এবং বৃহত সংকোচনের মধ্যে যারা একটা সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করবেন অনাগত ভবিষ্যতে তাদের জন্য একটা ছোটো দুঃসংবাদ আছে,
যদি বোলড ফন্টের ব্যাবহার থাকতো তাহলে এটাকে লাল করে বড় ফন্টে লিখতাম সম্ভব না বিদঃায় একটু ফাঁকা রেখে লিখছি


মহাবিশ্বের বর্তমান বয়েসের অর্ধেক অতিক্রান্ত হওয়ার পর সূর্যের জন্ম। সূর্যের গড় আয়ু যদি 1000 কোটি বছর হয়, সূর্যের মাপের নক্ষত্রের ক্ষেত্রে বয়স সীমাটা এমনই, তাহলে সূর্য আরও 500 কোটি বছর আলো দিবে এর পর সূর্য ধ্বংস হয়ে যাবে। এই পর্যন্ত বুঝতে পারলেই হবে,
বিজ্ঞানের নিয়মকানুন খুব সরল, যদি মহাবিশ্ব বিকশিত হয়ে 1200 থেকে 1500 কোটি বছরে এই অবস্থানে আসে তাহলে তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যেতে হলে ঠিক ততটা সময়ই অতিক্রম করতে হবে, আমি সংক্ষেপে যা বলতে চাইছি আমাদের সূর্যের মৃতু্যর পরেও মহাবিশ্ব থাকবে, কিন্তু সূর্যের মৃতু্যর পরে পৃথিবীতে জীবনের অস্তিত্ব থাকবে না, অন্তত সূর্যের মৃতু্যর পরে প্রায় 500 থেকে 1000 কোটি বছর আমাদের অপেক্ষা করতে হবে যদি এর পর বৃহৎ সংকোচন হয়, বৃহৎ সংকোচনের বিপক্ষেই যত সব পর্যবেক্ষন এখন পর্যন্ত এর পরও
যদি কোনো দিন বৃহৎ সংকোচন( বিগ ক্রাঞ্চ) হয় তাহলে ওটা হবে আমাদের পরিচিত পৃথিবীতে সভ্যতার এবং জীবনের সবটুকু নিশ্চিহ্ন হওয়ার 500 কোটি বছর পরে। এবং আল্লা মিয়া তার যতই ক্ষমতা থাক এই সময়সীমাকে অতিকড়ম করতে পারবে না।
আমরা মানুষেরা যদি এই সময়ের মধ্যে উন্নত মানের কোনো মহাকাশযান তৈরি করে অন্য কোথাও পারি না জমাই তাহলে আমাদের সভ্যতার মৃতু্যর পরও 500 কোটি বছর বামন সূর্য টিকে থাকবে, এক সময় তাপবিকিরন ক্ষমতা হারিয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
বিজ্ঞান আমাদের 400 কোটি বছর দিয়েছে এই ঘটনা ঘটার আগে এর তাই অন্তত 400 কোটি বছর মাস্তি করতে পারবে মানুষ সেই সময় পর্যন্ত কেয়ামত হবে না। এবংআমি বলতে পারি যদি আগামি কালই সংকোচন শুরু হয় তাহলেও আরও 1200 কোটি বছর পর আবার বিগ ক্র্যাঞ্চের ফলে মহাবিশ্ব ঠিক সূচনার অবস্থায় ফিরে যাবে। বড়ই কষ্টের কথা। কিন্তু কি আর করার।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×