তোমার হাতটা স্পর্শ করতেই আমার শরীরে যেনো বিদ্যুৎ খেলে গেলো। কিছুক্ষণের জন্য নেই হয়ে গেলাম। চারপাশের লোকজন দেখে ফেললো নাতো। আবার ভাবি দেখলেই বা কার কী? তোমার হাতটা আমি ধরেছি অন্য কেউ এখানে মাথা ঘামাবে কেন? যদিও তোমারও যথার্থ আপত্তি ছিলো মনে হয়, তা না হলে কেন ওরকম করে আমার দিকে তাকালে? অবশ্য তখন আমি ভয়ে ভয়ে ছিলাম না জানি তুমি কী থেকে কী করে বসো! আবার এও ভেবেছি একমাত্র তুমিই আছো যার কাছে আমি যা ইচ্ছে চাইতে পারি, আর হাতটা এক উছিলামাত্র। নিশ্চয় তোমার বুঝতে বাকী নেই। একদিন লেকের ধারে বসেছিলাম মনে আছে? যেই তুমি আমার গা ঘেসে বসতে গেলে আর অমনি আমি ঘামতে শুরু করলাম, তোমাকে অবশ্য ঘামার অন্য কারণ ব্যাখ্যা দিয়েছি, তুমি চালাক চতুর মেয়ে শুরুতেই বুঝে নিয়েছিলে অথবা তখন যে শীতকাল ছিলো মুহূর্তের জন্যে হলেও ভুলেই গিয়েছিলাম। আজ তোমার হাতটা স্পর্শ করার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত আমি মনে মনে কী যপ করেছি জানো, না থাক বলবো না। আগে বলো, বুঝেছো কি না? মধ্যরাতে ঘুমের মাঝে সাহস করে তোমার হাতখানা আমার হাতের উপর রাখলেই আমার ঘুম ভেঙে যায়, আমি ঘুম হতে উঠে দেখি আগের মতো ঘেমে ঘেমে একাকার। কী করবো বলো তো? আরো একটা কথা বলে রাখি- মাসখানেক হতে আমি আমার ছেলেবন্ধুদের হাত ধরছি কথায় কথায়, ওরা আমাকে কতো যে ক্ষ্যাপায় তোমাকে ভয়ে বলি নি। আজ সেই বন্ধুদের হাত মনে করেই তোমার হাতখানা ধরেছিলাম কিন্তু হায় তোমার হাত আর আমার বন্ধুদের হাতের ছোঁয়া যে আকাশ জমিন তফাৎ, এতোমোলায়েম তোমার হাতখানা! আমি ভাবতেই পারি নে। অবশ্য ভাবার আগেই তুমি অথবা আমি হাতখানা ছাড়িয়ে নিয়েছিলাম, না? হয়তো আমিই মনে হয় ছাড়িয়ে নিয়েছিলাম যার জন্য এতো আফসোস আমার। এবার মনে মনে সাহস যুগিয়েছি তোমার বামগালে আমার ডানহাতটা একটু ছোঁয়াবো, অবশ্য এর আগে প্রচুর প্রাকটিস দরকার, তাইতো সেদিন ঘটা করেই আমার এক বন্ধুর গালে হাতরাখলাম সাহস করে আর বললাম দোস, শেভ করে তোকে তো দারুণ লাগছে আর অমনি ও পটাশ করে আমার বামগালে একটা বসিয়ে দিলো, আরো কতো কী যে বললো তা তোমাকে বলতে পারবো না। অবশ্য তুমি বুঝে নিয়েছো নিশ্চয়ই। বিদেশে অথবা আমাদের দেশেও নাকি এরকম কিছু ছেলে আছে? আমি প্রতিজ্ঞা করেছি আর কোনো প্রাকটিস লাগবে না এবার সরাসরি গোপনে তোমার বামগালে তিলকটায় একটিবারের জন্য আমি আমার ডানহাতটা রাখবো, তারপর তুমি চাইলে বামহাতটাও তোমার ডানগালে রাখবো আলতো করে, অতপর তোমাকে একে একে সব বলবো কেমন আমার অনুভূতি! অবশ্য সেদিন তোমাকে আমি পুতুলবউ-ই ভাববো। কারণ পুতুলেরা কোনোদিন কোনো আপত্তি করে না। বিশ্বাস না করলে একবার আমার ঘরে এসে দেখো অবিকল তোমার মতো একটা পুতুলবউ আমি এনে রেখেছি, যেরাতে তোমাকে আমি স্বপ্নে দেখি সেরাতের বাকি সময়টুকু আমি ওকে সাথে করে নিয়ে ঘুমোই। ও কী যে ভালো! ওর কোনো রাগ নেই অভিমান নেই। সারারাত অব্দি একটা টু শব্দও করে না। ওর পরিবর্তে এখন আমি তোমাকে ভাবছি, তুমি নিশ্চয় আমার পুতুলবউয়ের মতো হবে জানি।আচ্ছা আচ্ছা বলোতো পুতুলবর আছে নাকি, থাকলে তোমাকে একটা কিনে দি তুমিও ওকে আমার মতো করে জরিয়ে রাখবে যেমনটা আমি রাখি। অথবা ওই রাখবে তোমাকে জরিয়ে। আগামী মেলায় বলে রাখি, অবশ্যই একটা কিনে দেবো বলছি, মনে রেখো যেনো। আবার যেনো না শুনি এর আগেই তুমি কোনো পুতুলবর খুঁজে পেয়েছো। আমি জানি,এরকম বর দিয়ে তোমার কোনো লাভ নেই। কারণ চারদিকে ভরে আছে হাজার কোটি আসল বর, হাত বাড়ালেই পেয়ে যাবে হয়তো, ও তোমার পাশের ফ্লাটের ছেলেটা আছে না কী যেনো নাম, ওই তো তোমার যথেষ্ট তাই না? সে যাই হোক আমি শুধু একটিবারের জন্য তোমার মুখটা আমার দুহাতে ধরে রাখবো কোনো একপূর্ণিমারাতে, না কোরো না কিন্তু!
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুন, ২০০৭ রাত ২:৩১