দেশের সকল এয়ারপোর্টে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। বিদেশ ফেরৎ সকল যাত্রীকে পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে তবেই দেশে ঢোকার ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে।
মাসুদ ত্রিশের কোঠায় পা দেওয়া টগবগে তরুন। দেশে ফিরেই নব পরীনিতা বউয়ের সাথে হানিমুন করতে কক্সবাজারে যাবে। সামনা-সামনি বউকে দেখা হয়নি ওর। স্কাইপ একটা আজিব বস্তু ওর কাছে। স্কাইপে দেখাদেখি, বিয়ে সবই হচ্ছে আজকাল, ওরও তাই। প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় মানুষের ভাবনার জগৎ আজ এক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
বিমানে উঠলে ওর এক আজব সমস্যা হয় হঠাৎ শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। হঠাৎ মুখচোখ শুকিয়ে যায়। এটাকে কোন প্রকার ফোবিয়া বলা যায় হয়ত, যা ওর জানা নেই।
বাংলাদেশের বহিঃগমন ইউনিটে দুজন লোককে বিশেষ মাস্ক ও পোষাক পরা দেখতে পেল মাসুদ। জ্বরটর মাপা থার্মোমিটার সদৃশ্য কিছু একটা দিয়ে বিদেশ ফেরৎ লোকজনকে পরীক্ষা করছে। ব্যপারটা হাস্যকর ঠেকলো ওর কাছে। ওরা সম্ভবত ইবোলা পরীক্ষা করছে, তবে এসব হাস্যকর থার্মোমিটার দিয়ে ইবোলা সনাক্ত করা যাবে না ও জানে ইবোলা সনাক্তকরণের জন্য ব্যবহার করতে হবে থারমাল স্ক্যানার কিন্তু ওরা কি দিয়ে পরীক্ষা করছে। কৌতুহল মেটানোর সময় সহসাই এসে গেল যখন ওরা মাসুদকে পরীক্ষা করতে আরম্ভ করল। ওর শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করেই ওকে দ্রুত আলাদা করে ফেলা হল। বিশেষ গাড়ীতে করে ওকে নিয়ে যাওয়া হল একটা হাসপাতাল সদৃশ্য যায়গায়। এ্যাডমিট করে দেওয়া হল একটা বিশেষ রুমে। এতগুলো কাজের ফাঁকে ওকে একবারের জন্য বলা হল না কেন এমনটি করা হচ্ছে ওর সাথে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ওর পরীক্ষা করে যখন জানোলো ও ইবোলা আক্রান্ত নয় ততক্ষনে কেটে গেছে পুরো দুটো দিন।
হতভম্ব ছেলেটি সুস্থ্য স্বাভাবিকভাবে বাড়ী ফিরতে পেরেছিল তবে যে ভোগান্তিতে পড়ে জীবন সংকটে পড়তে পারত তা হয়নি বলে ওর ভাগ্যকেই সাধুবাদ জানাতে হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



