somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এন্ড পয়েন্ট (১ম পর্ব)

২১ শে মার্চ, ২০১৭ দুপুর ১২:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

-হ্যালো আম্মু
-কি হলো তোর? ভার্সিটি বন্ধ তাও এতক্ষন লাগছে কেন বাসায় ফিরতে?
-পরীক্ষা তাই পড়া নিয়ে আলোচনা করতেছি
-কোন মেয়ের সাথে নাইতো আবার?
-না
-মেয়েদের আওয়াজ শুনা যাচ্ছে কেন তাহলে?
-রাস্তাঘাটে অন্য মেয়ে থাকতে পারেনা
-আচ্ছা ঠিক আছে বাসায় আস তাড়াতাড়ি করে
-আচ্ছা

ফোন রেখেই অর্ণব মেঘাকে একটা ধমক দিলো।

-দেখছিস আম্মুর সাথে কথা বলতেছি। তোর এখন কথা না বললে কি হতো?
-আচ্ছা হইছে, এবার পড়া বুঝিয়ে দে
-আছিস তো শুধু এসব নিয়েই
-তুই এটা বুঝাবি তো নাকি?

অর্ণব রাগ করে বসে আছে। মেঘা যেই উঠে যেতে লাগলো তখনই হাত চেপে ধরলো।

-রাগ করলাম আমি, আর ঝাল দেখাচ্ছিস তুই!
-হো ঝাল দেখাই
-আর বেশিদিন হয়তো দেখাতে পারবিও না।
-কেন?
-কি জানি?
-আচ্ছা এখন পড়ার দিকে আয় একটু, কিছু পড়িনি, বুঝতেছিও না। আচ্ছা এ্যাসপিরিনের টাইট্রেশন বুঝিয়ে দে তো
-হুমম। ধর আমি তোকে একশত টাকা দিলাম কিছু কিনে খেতে, তুই আমাকে ষাট টাকা ফেরত দিলি। এতে আমি কি বুঝবো?
-কি বুঝবি?
-তুই চল্লিশ টাকা খাইছিস।
-তাহলে কি হলো?
-তেমনি এ্যাসপিরিন সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া করার পর যতটুকু বাকি থাকে তা হাইড্রোক্লোরিক এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে। আমরা এ্যাসপিরিনের টেস্ট করতে যেয়ে এই পরিমানটাই পাই, এ্যাসপিরিনের সাথে কতটুকু সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বিক্রিয়া করলো তা এর সম্পূর্ণ পরিমাণ থেকে যতটুকু হাইড্রোক্লোরিক এসিডের সাথে বিক্রিয়া করছে তা থেকে বিয়োগ করলেই পাই।
-হুমম
-অর্থাৎ তুই কত টাকা খাইছিস তা আমি জানি না, কিন্তু যত টাকা ফেরত দিলি তা থেকে বিয়োগ করেই বুঝতে পারি।
-এতকিছু না করে সরাসরি টাইট্রেশন করলেই তো হয়।
-না হয় না। এ্যাসপিরিন এসিডিক হলেও নরমাল তাপমাত্রায় সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া করে না।
-তা বুঝলাম কিন্তু এর আগে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড আর হাইড্রোক্লোরিক এসিডের স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন করতে হয় কেন?
-এই দুইটাই সেকেন্ডারী তাই।
-হুমম, বুঝলাম

এভাবে করে অর্ণব প্রায়ই মেঘাকে পড়া বুঝিয়ে দিত। অর্ণব ভাবতো মেঘা হয়তো তাকে ভালোবাসে তাই মিছেমিছে দেখা করার জন্য এমন পড়া বুঝিয়ে দেওয়ার বায়না ধরতো। কিন্তু এক সময় পরিস্থিতি পাল্টে গেল।

ইদানিং মেঘা আগের মতো মিশতে চায়না, কেমন যেন দূরে দূরে থাকতে চায়। কিন্তু প্রয়োজনের সময় ঠিকই নিজের চাহিদা পূরন করে নিচ্ছে।

কয়দিন পর অর্ণব জানতে পারলো মেঘা অন্য একটা ছেলের সাথে কথা বলছে, সারাদিন ঐ ছেলের সাথেই থাকে।
প্রেম করছে ছেলেটার সাথে।

একদিন অর্ণব ফোন দিয়ে বসলো মেঘাকে।

-হ্যালো
-হুমম বল
-কি করছিস?
-শুয়ে আছি
-ইদানিং তেমন কথা বলছিসনা কেন? কি হইছে তোর?
-কই কিছুনা, এমনই
-হুমম। তুই নাকি কার সাথে রিলেশন করছিস?
-কই না তো। কে বললো তোকে? আমি কিছু করলে কি তুই জানতি না?
-এখন হয়তো জানানোর প্রয়োজন দেখছিসনা
-দেখ উল্টাপাল্টা কথা বললে মাথা একদম গরম হয়ে যায়
-ওকে রাখলাম।

এরপর থেকে অর্ণবের বুঝতে বাকি নেই যে মেঘার আর তার প্রয়োজন নেই। আগে থেকেই নিজের চাহিদা পূরন ছাড়া আর কোন কারনেই তার অর্ণবের প্রয়োজন হতো না। আর অর্ণবও বোকার মতো মেঘার সব প্রয়োজনে পাশে থাকতো। একবার তো নিজের জীবন বাজি রেখে মেঘার জীবন বাঁচিয়েছিল।

আজ সেই মেঘাই অকৃতজ্ঞের মতো ব্যবহার করছে। তবুও অর্ণব মেঘার প্রয়োজনে সবসময় পাশে থাকছে। ছায়ার মতো মেঘাকে সাহায্য করেই চলছে।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মার্চ, ২০১৭ দুপুর ১২:৪১
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×